টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হারবাল মানেই যেন অশ্লীলতা!

মো. ইমরান হোসেন
সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

harbal-picচট্টগ্রাম, ১০ জুন (সিটিজি টাইমস)::  হারবাল মানেই যেন এক ধরনের অশ্লীলতা। সীতাকুণ্ডে অবাধে বিক্রি হচ্ছে হারবালের যৌন উত্তেজক বড়ি বিজ্ঞাপন চিত্রে বাদপড়েনি স্কুল কলেজের দেওয়াল সীতাকুণ্ডে হরহামেশায় দেদারসে বিক্রি হচ্ছে হারবালের নামে যৌন উত্তেজক বড়ি। অশ্লীল পোষ্টারে ছেয়ে গেছে সীতাকুণ্ডের আনাচে কানাচে। কে লাগায়, কখন লাগায় তাও কেউ বলতে পারছেনা। অবাধে জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা কথিত যৌন দুর্বলতা ও হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন এলাকায় দোকান ভাড়া নিয়ে বিশাল আকারের সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে ব্যবসা করে এলেও এখন তাতে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পোষ্টার লাগানোর প্রতিযোগীতায় মগ্ন। কোন প্রতিষ্ঠান কত বেশি পোষ্টার লাগাবে আর মন ভুলানো কথা দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করবে। যেখানে সেখানে বিভিন্ন পোস্টারে অনৈতিক ছবি ও ভাষা ব্যবহারের ফলে স্কুল কলেজের শিশু কিশোরদের মাঝে রীতিমত নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। লাগানো পোস্টারের পাশ দিয়ে হাটতে গেলে বিব্রতবোধ করতে হয় অভিবাবক ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের। সে সাথে ঘরের নতুন নতুন দেয়ালগুলো নষ্ট হচ্ছে এসব পোষ্টারে। এতেও শেষ নয়, বিভিন্ন যানবাহন ও বাজারে চলাচলের সময়ও তাদের নিয়োগকৃত লিফলেট বিতরনকারীর হাতে নাজেহাল হতে হয় প্রতিনিয়ত।

উপজেলার বিভিন্নস্থানে ঘুরেদেখাযায়, সীতাকুন্ডে হারবাল চিকিৎসার নামে যৌন উত্তেজক অনেক আকর্ষণীয় ভাষায় ফোরকালার এর পোষ্টারে ছেয়ে গেছে পৌরসদরস্থ আফ্রিকান হারবাল সেন্টার, বারআলিয়াস্থ বার আউলিয়া হারবাল ঔষধালয়, ফেনী সিটি হারবাল চিকিৎসা, মহিপাল কবিরাজ ঘর, হোমিও হেলথ সেন্টার, মুক্তি ইউনানী হারবাল চিকিৎসা, এশিয়ান হারবাল রিসার্স সেন্টার, চট্টগ্রাম নগরীর অনেক হারবাল চিকিৎসার নামে পোষ্টার আবাসিক এলাকার ছোট-বড় অট্টালিকার দেওয়াল, সরকারী-বেসরকারী অফিসপাড়া, মার্কেটের দেয়ালগুলো ।

এসব পোষ্টারে যৌন উত্তেজক অনেক ভাষা লেখা রয়েছে। যেমন, যৌন দূর্বলতা, স্ত্রী ……., অল্প সময়ে….., সায়ানাসাইটিস, ডায়াবেটিস, গ্যাষ্ঠিক, কঠিন বাত, কোমরে ব্যাথা, মহিলাদের ……, পেটে ব্যাথা নানাবিধ সমস্যাসহ গোপনীয় সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়। ৭ থেকে ১৭ দিনে রোগ মুক্তি। যৌন সমস্যা বিশেষ চিকিৎসা আছে। সেবনের সাথে সাথে রেজাল্ট।

জানাযায়, প্রতিটি পাড়া মহল্লার বাসাবাড়ীর দেয়াল থেকে শুরু করে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের দেয়ালে দেয়ালে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন নামের হারবাল কোং পোস্টার। পোস্টারগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে নানা রকমের অশ্লিল ছবি ও ভাষা। পাবলিক প্লেসে লাগনো পোস্টার শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী লোকজন দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখে। স্কুল কলেজের পাশে লাগানো পোস্টারের বাক্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা এক অপরকে নানা প্রকার কুটক্তি করে। এ পরিস্থিতিতে দিনদিন নৈতিক অবক্ষয়ে মারান্তক ইভটিজিংয়ের শিকারে হচ্ছে ছাত্রী ও মহিলারা।

সীতাকুণ্ড বালিকা স্কুল এণ্ড কলেজের ছাত্রী শারমিন আকতার প্রতিবেদককে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে লাগানো পোস্টারগুলো বিভিন্ন বখাটে লোকজন দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখে আর কলেজে আসা-যাওয়ার সময় খারাপ শব্দগুলো উচ্চ স্বরে উচ্চারন করে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সকল অভিবাবকর ও শিক্ষকদের রীতিমত বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।

মুক্তি ইউনানী হারবাল সেন্টার নামে লাগানো পোস্টার থেকে পাওয়া মোবাইল নং(০১৭৩২-৬৬৯৪৩০) তে যোগাযোগ করা হলে, পোস্টার লাগানোর ব্যাপারে কোন সদোত্তর দিতে পারেনি।

অন্যদিকে হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলোতে আইনগত বাধ্যবাদকতা না থাকায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না। এছাড়া বিভিন্ন হারবাল প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে হেকিম ছাড়া ভুয়া লোককে হেকিম সাজিয়ে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এধরনের ট্রিটমেন্ট নিয়ে কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ অংগপ্রত্যঙ্গ নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমনকি ক্যান্সারের মত প্রানঘাতী রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

এসব পোষ্টারের উল্লেখিত চিকিৎসা ব্যাপারে সীতাকুন্ড স্বাস্থ্য প্রকল্পের ইনচার্জ বিধু ভোষণ ভৌমিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব কৃত্রিম চিকিৎসায় মানব দেহে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। হারবালের নামে তারা প্রতারণা করছে। যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ইয়াবা, ভায়াগ্রা গুড়ি করে কিছু গাছের ছালের গুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে তারা হারবাল বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এসব যৌন চিকিৎসা সাময়িক কাজ করে থাকে। তবে পরে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়। ভায়াগ্রা বলে সঙ্গে সঙ্গে চার গুন কাজ করে, তবে এগুলো ঔষধ যতক্ষন কাজও ততক্ষন। তিনি আরো বলেন, এত ভালই যদি হতো তাহলে এত রং বেরংয়ের পোষ্টার কেন?। যেমন এলোপ্যাথিক কত ভাল ভাল ঔষধ রয়েছে। কোটি কোটি মানুষে খাচ্ছে, ভাল হচ্ছে, এসবের কোন পোষ্টারের প্রয়োজন হয়নি।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন ইমরান জানান, সরকারী অনুমোদন নিয়ে এরা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আবার এসব প্রতিষ্ঠান দেখা শুনার জন্য রয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।’

এসব হারবাল কোম্পানি সরকারী ভাবে আলাদা দপ্তর থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ মনিটরিং বা নজরদারী না থাকায় হারবাল কোম্পানিরা এক দিকে জনসাধারণের সাথে প্রতারনা করছে অন্য দিকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ও ফাকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরী ভিত্তিতে নজর দেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত