টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফের শুরু হচ্ছে জোট-জোট খেলা

jotচট্টগ্রাম, ১০ জুন (সিটিজি টাইমস):: অাগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সরকারবিরোধী শক্তির জোগান দিতে দেশের রাজনীতিতে ফের শুরু হয়েছে জোট-জোট খেলা। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে অন্তত তিনটি জোট গড়ে তোলার কাজ চলছে। চলছে ভেতরে ভেতরে অালোচনা-হিসেব-নিকেশ। তবে নিয়মিত বিরতি নিয়ে গোপন বৈঠক হলেও এর সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য জানা যায়নি। জাতীয়তাবাদী ঘরানা, বাম ঘরানা ও ইসলামপন্থী ঘরানার দলগুলোকে নিয়ে গঠিতব্য এ জোটের প্রাথমিক অবস্থান সরকারবিরোধী রাজনীতি। এর মধ্যে ইসলামপন্থী ঘরানার সম্ভাব্য জোটের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যুক্তদের নাম ও দলের নাম জানা গেছে। সরকারের অন্তত দুটি গোয়েন্দা সংস্থা এ কাজে পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্রমাগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে নিষ্ক্রিয় রাখা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক জোটগুলোর কার্যক্রমে স্থবিরতা থাকায় এবং অাগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব জোট গঠিত হবে। এর মধ্যে ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে একটি বৃহৎ ইসলামী জোট করার চেষ্টা চলছে। এসব দলগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ফরায়েজি অান্দোলন, ১৪ দলীয় জোটের সাবেক শরিক ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক ইসলামীক পার্টি, ঐক্য অান্দোলন, খেলাফত অান্দোলন, ২০ দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল অাওয়ামী পার্টি। তবে কোনও কোনও দলের নেতা সরাসরি বিষয়টিকে অস্বীকার করলেও বিভিন্ন দল ও সংস্থার লোকজন থেকে জোটে অাসার ডাক পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে ফরায়েজি অান্দোলনের মহাসচিব অাব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান জানান, তিনি ইতোমধ্যে অনেকের কাছ থেকে জোটে যাওয়ার ডাক পেয়েছেন। মুহাম্মদ হাসান বলেন, অামাদের সারা দেশে মাশাল্লাহ দল এখন সক্রিয়। অামরা কোনও জোটে যেতে চাই না। কোনও দলের অধীনে যেতে চাই না। ইসলামী ঐক্যজোটে ছিলাম, কিন্তু গত বছর থেকে নেই। তিনি অারও বলেন, গত বছর থেকে অদ্যাবধি অনেকের কাছ থেকে ডাক পেয়েছি। কারা দলের নেতা, কে কোন সংস্থার, অনেকে ফোন করে এতকিছু তো মনে রাখতে পারি না।

২০ দলীয় জোটের শরিক দল ন্যাশনাল অাওয়ামী পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেন, নতুন কোনও জোটের বিষয়ে কোনও অালোচনা কারও সঙ্গে হয়নি। এ ব্যাপারে জানি না। তবে সম্প্রতি জিয়াউর রহমান সাহেবের মৃত্যুবার্ষিকীর অালোচনা সভায় বিএনপি নেতা শাহাজান ওমরের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সবার মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল যে, জোটে কোনও সমস্যা হয়েছে কিনা। এরপর যদিও বিএনপি বিষয়টিকে নমনীয় করেছে। এটি নিয়ে বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যে বিক্ষোভ তৈরি করেছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের কার্যক্রমকে নিষ্ক্রিয় করে পরিকল্পিত সরকারবিরোধী অবস্থান তৈরি করতেই এ জোট করার চেষ্টা চলছে। অাগামী নির্বাচনে বিএনপি না এলেও জোটের শরিক দলগুলো সংসদীয় অাসন ভাগ করে দিয়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখানোর চেষ্টা হিসেবে জোটগুলোকে অাত্মপ্রকাশ করার চেষ্টা চলছে।

যদিও প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দাসংস্থার সূত্রমতে, সবগুলো বিষয় প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। নতুন করে ‌‘সক্রিয় সরকারবিরোধতা’কে বাধাগ্রস্ত করতে ইসলামপন্থীদের একটি বৃহৎ জোট করা হবে। এক্ষেত্রে বিএনপির বাইরে নির্ভরযোগ্য ইসলামী দলগুলোকে জোটভুক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, এর অাগে বিগত নির্বাচনের অাগেও জোট করা হয়েছে। ওই সব জোটের কার্যকরিতা প্রায় শূন্য থাকায় নতুন জোটভুক্ত হতে দলগুলোর মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তবে অাগামী নির্বাচনে নিজেদের দলীয় অাসনগুলো নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল ইসলামী দলগুলো নতুন জোটে যুক্ত হবে। অন্যথা না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রমতে, বিএনপির পাশাপাশি হেফাজতকেও নিষ্ক্রিয় রাখার চেষ্টা করা হবে। সেক্ষেত্রে হেফাজতের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত ‌‌‌অান্দোলনকে নতুন জোটে অানা হবে। কয়েক বছর ধরে এ দুটি দল কোনও জোটে নেই। এর মধ্যে একটি দলের অামির মাওলানা হাবিবুর রহমান বুলবুলি হুজুর বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন।

পাশাপাশি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে সুবিধা পেয়েছিলেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। যদিও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোর সমালোচনা হলে দলের তৎকালীণ মহাসচিব হুমায়ুন কবিরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বেঁচে যান অামির মাওলানা হাবিবুর রহমান। তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকার পাশাপাশি তসলিমা নাসরিনের মাথার মূল্য ঘোষণা করার অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে তার সঙ্গে কথা বলতে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

জানা গেছে, নতুন জোটের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অাছেন খেলাফত অান্দোলনের অামির হাফেজ মাওলানা অাতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জি। সম্প্রতি তিনি দলের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

গোয়েন্দা সূত্রমতে, ব্যক্তিগতভাবে তিনি নতুন জোটে যাওয়ার বিষয়ে অাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও তাকে ফোন করা হলে ফোন রিসিভ করেননি। এরপর দলটির মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনও অালোচনা করেননি। অামি অনেক দিন ধরে অসুস্থ। দেখি কি করা যায়।

যদিও খেলাফত অান্দোলনসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোতে জাফরুল্লাহ খানকে জামায়াত ঘরানার হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। জামায়াতের মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি ড. খলিলুর রহমান মাদানীর সঙ্গে তার সম্পর্ক সবসময় মধুর বলে তার দলের মহানগরের এক নেতা দাবি করেন।

এদিকে ইসলামপন্থী দলগুলো ছাড়াও বাম ও জাতীয়তাবাদী ঘরানার দলগুলোকে নিয়ে পৃথক জোট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাম ঘরানায় এ জোটের সমন্বয় করছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তবে তিনি বিষয়টিকে অস্বীকার করে বলেন, বাম গণতান্ত্রিক জোট করার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এটা অব্যাহত অাছে। অাশা করি অামরা একটি জোট করতে পারবো।

তবে জোট নির্বাচনকেন্দ্রীক হবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, এ বামদের জোট শুধু নির্বাচনকেন্দ্রীক না, অাদর্শ কেন্দ্রীক হবে।-বাংলা ট্রিবিউন

মতামত