টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস-মশা, চট্টগ্রামবাসীর দুর্দশা

ctgচট্টগ্রাম, ১০ জুন (সিটিজি টাইমস)::দৈনন্দিন জীবনে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস এই তিনটি জিনিসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। প্রয়োজনীয় এই তিনটি জিনিসের সংকটের পাশাপাশি যদি থাকে মশার উৎপাত, তাহলে সেই জীবনকে দুর্বিসহ জীবন ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। এমনি চরম দুর্দশার জীবন কাটাতে হচ্ছে চট্টগ্রামবাসীকে। পানি, বিদ্যুৎ ও মশার যন্ত্রণার সঙ্গে নতুন করে গ্যাস সঙ্কট দেখা দেয়ায় নগরবাসীর জীবনে ‘মরার উপর খরার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

কর্ণফুলী গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেড সূত্র জানায়, গত রবিবার ভোর থেকে চট্টগ্রাম মহানগর জুড়ে গ্যাস সংকট দেখা দেয়। এর ফলে বাসা ও শিল্প-কারখানাসহ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও নানা কাজে ব্যাপক সমস্যা চলছে। গ্যাসের অভাবে গ্যাসচালিত যানবাহনও অচল হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইয়ুব খান বলেন, বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রে গ্যাসের চাপ কম থাকায় রবিবার থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে পুরো চট্টগ্রাম নগরজুড়ে গ্যাসের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এ সমস্যা নিরসন প্রায় অসম্ভব বলে জানান তিনি।

এদিকে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের লোডশেডিংও বেড়ে গেছে। বিদ্যুতের অভাবে ঘরের পাখা, শিল্প কারখানা ও হাসপাতাল অচল হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ৯ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে বলে পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে চট্টগ্রাম পিডিবির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মনিরুজ্জামান লোডশেডিংয়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়। তবে মেইনটেনেন্সজনিত কারণে বিভিন্ন এলাকায় কিছু সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। একে লোডশেডিং বলা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে চাহিদা মোতাবেক গড়ে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি ১৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৯৫০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। যা অতীতের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। তাই বর্তমানে চট্টগ্রামে কোনো লোডশেডিং নেই।

কিন্তু নগরবাসীরা জানান, ভোর ৬টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। এর ফলে অসহ্য গরমে খাওয়া-দাওয়া এমনকি ঘুম পর্যন্ত হারাম হয়ে গেছে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের সঙ্গে প্রকট আকার ধারণ করেছে পানি সমস্যাও। চট্টগ্রাম ওয়াসা সারাদিনে এক ঘণ্টাও পানি সরবরাহ দিতে পারছে না। এর ফলে কোন কোন এলাকায় দিনের পর দিন পানির অভাবে প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার অবস্থা।

নগরীর মুরাদপুর এলাকার মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকা, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, হালিশহর হাউজিং সোসাইটি, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, খুলশি আবাসিক এলাকা, মৌসুমি আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওয়াসার পানি সরবরাহের অভাবে খাবার পানি কিনে খেলেও ব্যবহার্য পানির জন্য হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মৌসুমি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা বদরুল ইসলাম জানান, ‘পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংঙ্কটের সঙ্গে মারাত্মক যন্ত্রণায় আছি মশা নিয়ে। সন্ধ্যা বা রাত তো দূরের কথা, দিনের বেলাতেও মশার উৎপাতে শান্তিতে বসতে পারছি না। অপরিচ্ছন্ন নালা-নর্দমা, যত্রযত্র ময়লা আর্বজনা নিক্ষেপ ও ডাস্টবিনগুলো খোলা রাখার কারণে নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে মশার উৎপাত অব্যাহত রয়েছে। মশার উৎপাত রোধে সিটি করপোরেশন কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলম বলেন, মশার উৎপাত রোধে সিটি করপোরেশন গত এক বছরে এক কোটি টাকার ওষুধ ছিটিয়েছে। এরপরও মশার উৎপাত যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। চসিকের সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পানির সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রতন কুমার সরকার বলেন, গত ৫-৬ বছর ধরে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ চাহিদার এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে । তার উপর এখন গরমের কারণে পানির চাহিদা যেমন বেড়েছে তেমনি বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের কারণে যতটুকু সম্ভব ততটুকু পানিও সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে পানির কষ্ট গত মাসের তুলনায় এখন দ্বিগুণ বেড়েছে।

তিনি বলেন, এ সমস্যা নিরসনে হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বাড়াতে হবে, নয়তো একমাত্র বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ সমস্যা কিছুটা নিরসনের সাথে পানি সরবরাহও বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। অন্যথায় নগরবাসীর কষ্ট দ্রুত লাগবের কোনো সম্ভাবনা আছে বলে মনে হচ্ছে না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত