টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নিজেদের মামলায় ‘দিশাহারা’ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

cccচট্টগ্রাম, ১৫ জুন (সিটিজি টাইমস):: নিজেদের কর্মকর্তাদের করা মামলার জালে জর্জরিত অবস্থা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি)।আগের মেয়াদে হওয়া এসব মামলা থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে নতুন মেয়র নিয়েছেন সমঝোতার উদ্যোগ।

করপোরেশনের প্রধান আইন কমকর্তা সরওয়ার-ই-আলম নিজেই তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলার করেছেন দুটি। প্রকৌশল বিভাগের তিন সহকারী-প্রকৌশলীর করা মামলার কারণে তিন বছর ধরে আটকে আছে করপোরেশনের সব নিয়োগ ও পদোন্নতি।

মামলা করেছেন বর্তমান উপ-সচিব সাইফুদ্দিন মাহমুদ কাতেবীও । স্থায়ী নিয়োগ চেয়ে মামলা করেছেন রাজস্ব কর্মকর্তা সামশুল আলম।

প্রকৌশল বিভাগের ৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী একটি রিটসহ মামলা করেছেন মোট সাতটি। রাজস্ব বিভাগের ৪২ কর্মকর্তা-কর্মচারী মামলা করেছেন পাঁচটি, যার মধ্যে অধিকাংশেরর রায় গেছে বাদীর পক্ষে। এরপর উচ্চ আদালতে আপিল করেছে করপোরেশন।

এ অবস্থায় মামলার জাল থেকে মুক্তি পেতে বাদীদের সঙ্গে শনিবার আলোচনায় বসেন চট্টগ্রামের নতুন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

বৈঠকে নিয়োগ-পদোন্নতি বিষয়ে মেয়রের ‘বিবেচনার’ আশ্বাসে বাদীরা মামলা প্রত্যাহারে প্রাথমকিভাবে সম্মত হন। তবে এরমধ্যে কয়েকটি মামলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র।

আইন কর্মকর্তার মামলা

২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী মামলা পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগে করপোরেশনের প্রধান আইন কর্মকর্তা সরওয়ার-ই-আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ পেলেও মহিউদ্দিনের মেয়াদে আর চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি সরওয়ার। ২০১০ সালে সিটি নির্বাচনের পর আবার ওই পদে যোগ দিয়ে ২০১২ সালে তিনি অবসরে যান।

এরপর আইন কর্মকর্তা হিসেবে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাক্ট অনুসারে তিন বছর অতিরিক্ত চাকরির সুযোগ এবং দুটি ইনক্রিমেন্ট চেয়ে আদালতে দুটি মামলা করেন সরওয়ার। বিচারিক আদালতে তা খারিজের পর জজ আদালত থেকে রায় নিয়ে আবার কাজ শুরু করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে করপোরেশনের সচিব রশিদ আহমদ বলেন, “আমি ঢাকায় যাচ্ছি। ঢাকা থেকে ফিরে জানতে চাইব- মামলা দুটি কি অবস্থায় আছে, এক্ষেত্রে সিসিসির ভূমিকা কী হবে।”

অন্যদিকে সরওয়ার-ই-আলম বলেন, “আমার মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। তাই আর সভায় আলোচনা করিনি।”

চাকরির মেয়াদ কত দিন আছে এবং ইনক্রিমেন্ট কবে পাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনই বলতে পারছি না।”

নিয়োগ-পদোন্নতিতে অচলাবস্থা

অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া তিন সহকারী প্রকৌশলীর করা এক মামলায় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ২০১২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে সব নিয়োগ-পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে।

মামলার অন্যতম বাদী শাহিনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, শূন্য পদে নিয়োগে চেয়ে আবেদন করে তা না পেয়ে ২০০৭ সালে মামলা করেন তারা।

“২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন বিভাগের ১৪২টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলে আমরা আরেকটি মামলা করি। এর প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত নিয়োগ-পদোন্নতিতে নিষেধাজ্ঞা দেন।”

তবে শনিবার মেয়রের আশ্বাসের পর শাহিনুল বলেন, “করপোরেশনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এরকম মামলা আমরা চালাতে চাই না।”

এদিকে ১৯৮৯ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী যোগ দেওয়া ১১ জন সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে পদোন্নতি চেয়ে ২০১১ সালে আদালতে যান। গত এপ্রিলে আপিল বিভাগ তাদের পদোন্নতির আদেশ দিলেও তিন সহকারী প্রকৌশলীর ক্ষেত্রে রায় এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

এমনিক ২০১৪ সালের ৩০ মে প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোখতার আলম অবসরে গেলেও এ পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালাচ্ছে করপোরেশন।

এদিকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদের ছয়জনের মধ্যে একজনকে সহকারী প্রকৌশলী পদে শুরুতে অতিরিক্ত ও পরে চলতি দায়িত্ব দেওয়ায় আদালতে গেছেন অন্য পাঁচজন।

সাবেক মেয়র মনজুর আলম করপোরেশনের রাজস্ব সার্কেলের সংখ্যা চার থেকে বাড়িয়ে আট করার সময় পদোন্নতি নিয়ে দুটি এবং চাকরি স্থায়ী করার জন্য আরও তিনটি মামলা হয়, যার একটির বাদী রাজস্ব কর্মকর্তা সামশুল আলম।

সামশুল আলম চাকরি জীবনে দুটি পদন্নোতি পেলেও তা চলতি দায়িত্ব। ছয় মাস পরে তিনি অবসরে যাবেন।

তিনি বলেন, “আমি রাজস্ব কর্মকর্তার পদে থাকলেও বেতন পাই উপ-কর আদায়কারীর। পদোন্নতি হলেও স্থায়ী করা হয়নি। এ অবস্থায় অবসরে গেলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।”

করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা সরওয়ার-ই-আলম বলেন, “সব মামলাই অভ্যন্তরীণ। যেহেতু বাদীরা সম্মত হয়েছেন, তাই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগুলো শেষ করা সম্ভব।

“শূন্য পদে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণের জন্য কত পদ আছে তা দেখে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে। মেয়র মহোদয় স্বল্পতম সময়ে এগুলো শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।”

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত