টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

১৫০ বাংলাদেশী পুলিশী হেফাজতে, দালালসহ দুই রোহিঙ্গা সনাক্ত

Coxsbazar Ovibashi update  (10)

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
মিয়ানমার থেকে ফিরিয়ে আনা ১৫০ বাংলাদেশীর মধ্যে হামিদ হোসেন নামে এক দালালসহ দুই রোহিঙ্গা সনাক্ত করা হয়েছে। দালাল হামিদ উখিয়া কুতুপালং শরনার্থী শিবিরের (ব্লক-এফ, শেড-১৫) সলিম উল্লাহর ছেলে।

৯ জুন মঙ্গলবার পরিচয় নিশ্চিত করতে গিয়ে এই দুই রোহিঙ্গা সনাক্ত করে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এদের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে ফেরত আসা ১৫০ জনের মধ্যে আরো অনেক রোহিঙ্গা থাকতে পারে। সঠিকভাবে তথ্য নেয়া হলে এটি স্পষ্ট হবে বলে সচেতনমহলের ধারণা।

এ দিকে দেশে ফেরত ১৫০ জনই কক্সবাজারে পুলিশী হেফাজতে রয়েছে। ৯ জুন মঙ্গলবার সকাল থেকে তাদের দেয়া নাম ঠিকানা বাছাই শুরু হয়েছে। কিভাবে তারা মানবপাচারের শিকার হয়েছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রত্যেকের কাছ থেকে আলাদা করে নেয়া হচ্ছে জবানবন্দি। সাথে তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিচ্ছে প্রশাসন।

তাছাড়া তাদের কেউ কোন অপরাধে জড়িত ছিল কিনা তাও যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষেই তাদেরকে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ।

তিনি বলেন, ৯ জুন মঙ্গলবার সকাল থেকে তাদের নাম ঠিকানা যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়। সবার কাছ থেকে আলাদা জবানবন্দি নেয়া হচ্ছে। একটানা চলছে এ কাজ। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে আজ বুধবার তাদের স্বজনের কাছে হস্তান্তর করার সম্ভাবনা রয়েছে।

৮ জুন সোমবার রাতেই তাদের কক্সবাজারে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ডরমেটরিতে রাখা হয়েছে। ওই দিন বেলা ১১টায় বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবির) ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল মিয়ানমার যান।

ঢেকিবনিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন বিভাগের সাথে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন মিয়ানমারের কর্মকর্তারা।

পরে ঘুমধুমের বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সেতু দিয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ফিরে আসা ১৫০ বাংলাদেশিদের মধ্যে কক্সবাজারসহ ১৭ জেলার বাসিন্দা রয়েছে।

ফিরে আসা ১৫০ জন মোট ২৮৪ জন অভিবাসীকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় গত ২১ মে উদ্ধার করে মিয়ানমারের নৌবাহিনী। পরে তারা দাবি করে এদের ২০০ জন বাংলাদেশি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ সদস্যের বিজিবির একটি প্রতিনিধি দলের গত ২৪ মে মিয়ানমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উদ্ধারকৃতদের বাংলাদেশে ফেরত নিতে হবে বলে মিয়ানমার দাবি করলে বিজিবির মায়ানমার সফর স্থগিত করা হয়।

এরপর বিজিবি উদ্ধারকৃতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে পাঠালে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যে তালিকা পাঠায় তা ছিল বিভ্রান্তিকর ও অপূর্ণাঙ্গ। তালিকাটি ওইদিনই বিজিবির সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে মিয়ানমারের কাছে আরেকটি চিঠি পাঠায় বিজিবি। পরে তাদের পাঠানো ২০০ জনের তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করে ১৫০ জনকে বাংলাদেশি হিসেবে সনাক্ত করা হয়। অবশেষে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত