টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

১৫০ অভিবাসীর আদালতে জবানবন্দি মঙ্গলবার

Coxsbazar Ovibashi update  (10)
ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:

দীর্ঘ ১৮ দিন পর মিয়ানমার থেকে সোমবার দুপুরে দেশে ফেরা ১৫০ অভিবাসীরা এখন কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সোমবার রাতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফেরত আনা ১৫০ বাংলাদেশী সেখানে পুলিশ-বিজিবি হেফাজতে রয়েছে।

রাতে তাদের খাবার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র নিশ্চিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার তাদেরকে কক্সবাজার আদালতে হাজির করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে।

আদালতে তাদের জবানবন্দি শেষে প্রত্যেককে নিজ নিজ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফয়েল আহমদ।

বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল খালেকুজ্জামান বলেন, তিন মাস আগে সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাত্রা করেছিল ১৫০ বাংলাদেশি। মাঝপথে মানবপাচারকারী তাদেরকে ভুলপথে ভাসিয়ে দেয়। একপর্যায়ে তাদের বহনকারী ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। অর্ধাহারে-অনাহারে থেকে গত ২১ মে মিয়ানমার উপকূল থেকে সেদেশের নৌ বাহিনী তাদেরকে সহ ২০৮ অভিবাসীকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে।

কর্ণেল খালেকুজ্জামান বলেন, মিয়ানমার ২০৮ জনকেই বাংলাদেশি দাবী করে তাদের নাম-ছবি দিয়ে বিজিবি’র কাছে একটি চিঠি পাঠায়। বিজিবি যাচাই বাছাই’র পর ১৫০ জনকে বাংলাদেশি হিসেবে সনাক্ত করে। এরপর সোমবার বিজিবি-বিজিপি’র পতাকা বৈঠক শেষে তাদেরকে ফেরত আনা হয়। বিজিবি সন্ধ্যায় তাদেরকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ফিরে আসা অভিবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসল মানবপাচারকারী দালালদের গ্রেফতার করবে পুলিশ। এছাড়া ফেরত আসা অভিবাসীদের কেউ কোন অপরাধে অভিযুক্ত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, আইনী প্রক্রিয়া শেষে অভিবাসীদের স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। স্বজনের কাছে হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত সরকারীভাবে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। তারা আপাতত কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আশ্রয়ে থাকবে।

মিয়ানমারের এনআইডি’র উপ-পরিচালক স্য নেইয় সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারে উদ্ধার হওয়া এই সব বাংলাদেশীদের মানবিক দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে। আন্তজার্তিক নিয়ম অনুযায়ী সমুদ্রে ভাসমান বিপদাপন্ন অভিবাসীদের উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক অভিবাস সংস্থা’র প্রোগাম অফিসার আসিফ মনির বলেন, উদ্ধার বাংলাদেশীসহ সকল অভিবাসীকে মানবিক সহয়তা দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। একই সাথে তারা বাংলাদেশী নাগরিকদের মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াটিও তদারকি করছে।

ফিরে আসা ১৫০ অভিবাসীদের মধ্যে কক্সবাজার জেলার ২৯, নরসিংদীর ৫৬, ঝিনাইদহ’র ১২, টাঙ্গাইলের ৩, চট্টগ্রামের ৮, চুয়াডাঙ্গার ৪, নারায়ংগঞ্জের ৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬, বান্দরবানের ৯, কুমিল্লার ১, চাঁদপুরের ১, রাজবাড়ীর ২, যশোরের ২, পাবনার ৫, বাগেরহাটের ৪, হবিগঞ্জের ১ ও নাটোরের ১ জন।

ঝিনাইদহ :

ঝিনাইদহের ইসমাইল হোসেনের ছেলে মফিউর রহমান, মোঃ নিজামের ছেলে হারুন উর রশিদ, ওসেল বিশ্বাসের ছেলে মহসিন বিশ্বাস, ইসমত আলীর ছেলে মোঃ সোবহান, মকবুল মুলার ছেলে পলাশ, মোতালেব মন্ডলের ছেলে রফিকুল ইসলাম, রাহাজ উদ্দিন মন্ডলের আবুল কালাম, রজব আলীর ছেলে আব্দু রাজ্জাক, শরীফ বিশ্বাস ছেলে দুলাল, ইসমাইল সরদারের ছেলে আব্দুল মালেক, রাসেদ মন্ডলের ছেলে ছব্বির হোসেন।

সুনামগঞ্জ :

সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ উলাহর ছেলে সাহেদ উদ্দিন, আহমদ আলীর ছেলে রমজান আলী, সোনাপুর আলীর ছেলে শওকত আলী, মোঃ ইদ্রিস আলীর ছেলে আলী হোসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছিদ্দিক সরকারের ছেলে আনোয়ার হোসেন, হোসেন মিয়ার ছেলে এরশাদ।

বান্দরবান :

বান্দবানের জেলার ইকবালের ছেলে জাহিদ ইসলাম, নূরুল হকের ছেলে রহিম উলাহ, মনির আহমদের ছেলে আব্দু ছবি, মোঃ শফির ছেলে নূরুল হক, কুমিলা জেলার সোলতান আহমদের ছেলে রিদুয়ান, চাঁদপুরের ইউসুপ আলীর ছেলে কালাম, রাজবাড়ির আব্দুল খালেকের ছেলে সাইফুল ইসলাম।

কক্সবাজার :

কক্সবাজার জেলার নূরুল ইসলামের রমিজ উদ্দিন, মোঃ সৌরভের ছেলে নূরুল হোসেন, মহসিন আলীর ছেলে সাকের, আসমত আলীর ছেলে সিরাজুল হক, জহির আহমদের ছেলে মিজানুর রহমান, ইমতিয়াছ আহমদের ছেলে আব্দুল খালেক, কাশেম আলীর ছেলে মোঃ রশিদ মিয়া, সেলিম হোসেনের ছেলে হামিদ হোসেন, রহমত আলীর ছেলে শাহাজান, আব্দুল জব্বারের ছেলে জসিম উদ্দিন, আব্দুর রহমানের ছেলে ইয়াছিন আরফাত, আমির হাওলাদারের ছেলে শহিদুল ইসলাম, দুলু মিয়ার ছেলে ইউসুপ খান, মোঃ হাসেমের ছেলে আবুল হোসেন, ফজল করিমের ছেলে একরাম, আব্দুল করিমের ছেলে ইকরাম, আব্দুল করিমের ছেলে সোহেল সরকার, মোঃ রাশেদের ছেলে ইদ্রিস, হাজী নূরুল হকের ছেলে ইমরান হোসেন, আহমদ আলীর ছেলে জসিম উদ্দিন, নুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুস শুক্কুর, জিয়াবুল হকের ছেলে মিজানুর রহমান, মাহমুদুল করিমের ছেলে গিয়াস উদ্দিন, মৃত আবু তাহেরের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, হাবিবুর রহমানের ছেলে সালামত উলাহ, শামশুল আলমের ছেলে মোক্তার হোসেন, মোঃ হাশিমের ছেলে নুরুল আবছার, সিরাজুল হকের ছেলে মুবিনুল হক, মৃত উলা মিয়ার ছেলে রফিক আলম, কালা মিয়ার ছেলে সাইফুল, টাইঙ্গাইলের আব্দুল করিমের ছেলে আব্দুল ছৈয়দ, আব্দুল জলিলের ছেলে উজ্জল হোসেন, জহির উদ্দিনের ছেলে সাহাদত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা সাহাব উদ্দিনের ছেলে মোঃ হেলাল, উমর আলীর ছেলে হাসেম, সাহেদ আহমদের ছেলে লুকমান কবির, আলী আমজাদের ছেলে চাদ মিয়া, শহিদুলাহর ছেলে সেলিম উদ্দিন, বদিউল আলমের ছেলে মোঃ বাদশা, আব্দুল আলিমের ছেলে মোঃ জলিল, শাহ আলমের ছেলে মোঃ আরিফ, চুয়াডাঙ্গার ফিরোজ মন্ডলের ছেলে সাইফুল মন্ডল, সুমিত আলী ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলাম, আব্দুরফ ফরাজির ছেলে শফিকুল ইসলাম, মফিউর রহমানের ছেলে মফিজুল হোসেন, নারায়নগঞ্জ জেলার আবু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া ও নুরুল ইসলামের ছেলে মোঃ হালিম, নরসিংদীর সোনা মিয়ার ছেলে এবাদুল মিয়া, মুজিবুল মিয়ার ছেলে ফাহাদ মিয়া, আব্দুল হাসিমের ছেলে রুহুল আমিন, জহিরুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান, সুজাউদ্দিনে ছেলে পারু মিয়া, তাজু মিয়ার ছেলে সালাম মিয়া, তারা মিয়া ছেলে নাহাম, ওহাব মিয়ার ছেলে সাগর, আব্দুল আওয়ালের জসিম উদ্দিন ও ওবাইদুল হাসানের ছেলে শামীম মিয়া।

বাকিদের নাম ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত