টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ভারতসহ ৪ দেশে যাওয়া যাবে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে

hচট্টগ্রাম, ০৮ জুন (সিটিজি টাইমস) :: বাংলাদেশ-ভারত-নোপাল-ভুটানের মধ্যে যাত্রীবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করতে আর কোনো বাধা থাকবে না।আজ সোমবার এক সংক্রান্ত একটি চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।এই চুক্তির আওতায় পণ্যবাহী যানও চলাচল করতে পারবে।

আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদন দেয়া হয়।সভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ১৫ জুন ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে চার দেশের সড়ক পরিবহনমন্ত্রীদের সম্মেলনে ‘বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ)’ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই চুক্তির আওতায় কোনো বাঁধা ছাড়াই এক দেশ থেকে আরেক দেশে পণ্যবাহী গাড়ি (ট্রাক, টেইলার), যাত্রীবাহী বাস বা ব্যক্তিগত মোটরযান প্রবেশ করতে পারবে।

এক্ষেত্রে প্রতিটি গাড়ির জন্য পৃথক ট্রানজিট ফি দিতে হবে। পাশাপাশি পণ্যবাহী গাড়ির জন্য পৃথক কর ও শুল্ক দিতে হবে। এছাড়া প্রতিটি পণ্যবাহীর গাড়ির ট্রানজিটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশকে আর্থিক গ্যারান্টিও দিতে হবে।

প্রতিটি দেশে গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রে নিজ নিজ কাস্টমস নীতিমালা অনুসরণ করবে। এসব শর্ত রেখে বিবিআইএন এমভিএর খসড়া চূড়ান্ত করেছে।

জানা গেছে, গত বছর নভেম্বরে সার্ক সম্মেলনে আট দেশের মধ্যে সইয়ের জন্য সার্ক এমভিএ উত্থাপন করা হয়। তবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রস্তুতির অভাবে তা অনুমোদন হয়নি। সেই চুক্তির ভিত্তিতে বিবিআইএম এমভিএর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এজন্য গত ২-৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের কলকাতায় এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মোটরযান চলাচলে অন্য দেশকে সুযোগ দিতে চার দেশ একমত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ এপ্রিল ভারতের চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান ছাড়াও মালদ্বীপ বা শ্রীলঙ্কায় পণ্য রপ্তানি-আমদানিতে সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের বিধানও রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশকে নির্ধারিত চার্জ পরিশোধ সাপেক্ষে বন্দরে পণ্য খালাস বা লোডের অনুমতি দিতে হবে। নিয়মিত যাত্রী ও অনিয়মিত যাত্রীদের জন্য পৃথক ছাড়পত্র অনুমোদন করবে সদস্য দেশগুলো। এজন্য চুক্তির সঙ্গে ফর্মের ছকও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে বলে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

এছাড়া বিবিআইএন মোটরযান চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে গাড়ি প্রবেশ ও প্রস্থানের সম্ভাব্য রুটগুলো এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম রুটটি হলো কলকাতা থেকে পেট্রাপোল, বেনাপোল, ঢাকা হয়ে আখাউড়া দিয়ে আগরতলা। দ্বিতীয় রুট হিসেবে রয়েছে আগরতলা, আখাউড়া হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর। তৃতীয় রুটটি ভারতের শিলচর থেকে সিলেটের সুতারকান্দি, পাটুরিয়া ফেরি পার হয়ে বেনাপোল দিয়ে কলকাতা।

রুটগুলোতে ভারত-বাংলাদেশ-ভারত যুক্ত হবে। ভুটান-ভারত-বাংলাদেশ রুটে হবে দুটি। প্রথমটি ভুটানের সামদ্রুপ জংখার থেকে ভারতের গৌহাটি, শিলং, সিলেটের তামাবিল হয়ে চট্টগ্রাম এবং দ্বিতীয়টি থিম্পু থেকে ফুয়েন্টশোলিং, ভারতের জাইগাও হয়ে বুড়িমারি স্থলবন্দর দিয়ে চট্টগ্রাম বা মংলা বন্দর যাবে। কাঠমান্ডু থেকে কাকারভিটা হয়ে ফুলবাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে চট্টগ্রাম বা মংলা বন্দর পথে যুক্ত হবে নেপাল।

চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের গাড়ি আরেক দেশে চলাচলে কারিগরি বিষয়গুলো চুক্তির আওতায় নির্ধারিত হবে। এক্ষেত্রে গাড়ির ধরন, সর্বোচ্চ ওজন ও এঙ্গেল লোড, নির্গত গ্যাসে বায়ু দূষণের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ও সংশ্লিষ্ট অন্য বিষয় থাকবে। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য দুই দরজা বিশিষ্ট মোটরযান, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে।

এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয় নিশ্চিত ও তা যাচাই করতে হবে। সদস্য দেশগুলো অতিক্রমের ক্ষেত্রে প্রতিটি পণ্যবাহী গাড়িকে ট্রানজিট কনসাইনমেন্টের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র নিতে হবে। এছাড়া এক দেশে থেকে অন্য দেশে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে রিলিজ অর্ডার ইস্যু করতে হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত