টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শত কোটি টাকার কোকেন আটক, সেই কন্টেইনারটি খোলা হবে আজ

bandarচট্টগ্রাম, ০৮ জুন (সিটিজি টাইমস) ::  তেল আমদানির ঘোষণা দিয়ে অবৈধ তরল পণ্য আনা কন্টেইনারটি আজ (সোমবার) সকাল ১১টায় সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে খোলা হবে। শনিবার রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ৩ নম্বর ইয়ার্ডে কন্টেইনারটি সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা। কন্টেইনারটিতে শত কোটি টাকা মূল্যের তরল কোকেন আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আমদানি সংক্রান্ত নথিপত্রে খাতুনগঞ্জের বনেদি ব্যবসায়ী ও শীর্ষস্থানীয় ট্রেডার নুর মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার বিকেলে খাতুনগঞ্জে খান জাহান আলীর কার্যালয় ঘেরাও করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেলকে আটক করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, ২৩২ খাতুনগঞ্জ, নবী মার্কেট-এই ঠিকানা ব্যবহার করে সান ফ্লাওয়ার তেল আমদানির ঘোষণা দিয়ে কন্টেইনার ভর্তি এই অবৈধ তরল পণ্য আমদানি করা হয়। কন্টেইনারে ১০৭টি ছোট ড্রামে সান ফ্লাওয়ার ভোজ্যতেল রয়েছে বলে আমদানি সংক্রান্ত কাগজে উল্লেখ রয়েছে। সান ফ্লাওয়ার তেলের নামে কোকেন আসছে এমন তথ্য পেয়ে শনিবার পুলিশ সদর দফতর থেকে চট্টগ্রাম নগর পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) এস এম তানভির আরাফাতের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বিষয়টি নিয়ে ওইদিনই তদন্তে নামেন। খান জাহান আলী লিমিটেডের নাম ঠিকানা ব্যবহার করে এখানকার কর্মকর্তা সোহেল চালানটি আমদানি করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেলে পুলিশ সোহলকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় শনিবার।

তবে প্রকৃত অর্থে এই চালানের সাথে খান জাহান আলী কর্তৃপক্ষের কোন যোগাযোগ নেই জানিয়ে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন ও ক্রাইম) বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা ব্যবহার করে তাদের এক কর্মকর্তা এই চালানের সাথে যুক্ত রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এদিকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্ততরের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কন্টেইনারটিতে অবৈধ পণ্য আছে জেনে সিলগালা করা হয়েছে। তবে এর ভেতরে কোন ধরণের পণ্য আছে তা খোলার আগে বলা যাচ্ছে না। সকলের উপস্থিতিতে সোমবার কন্টেইনারটি খোলা হবে। এরপর প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল ইংল্যান্ড প্রবাসী খালাত বোনের জামাই তার এক বন্ধুর মাধ্যমে বলিভিয়া থেকে চালানটি আমদানি করেছে বলে জানিয়েছে। কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ৩ নম্বর ইয়ার্ডে রয়েছে বলে জানালে পুলিশ সেখানে যায়। ইয়ার্ডে প্রবেশ করতে চাইলে বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। পরে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হোসাইন আহমেদ গিয়ে কন্টেইনারটি সিলগালা করে দেন।

মতামত