টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চমেকের জন্য আসছে নতুন ট্রান্সফরমার

চট্টগ্রাম, ০৭ জুন (সিটিজি টাইমস) ::  ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ায় গত দু’দিন বিদ্যুৎহীন থাকা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে সংযোগ দিয়ে কোনমতে সচল রাখা হয়েছে আইসিইউ, সিসিইউ ও অপারেশন থিয়েটারসহ হাসপাতালের জরুরী বিভাগগুলো।

এ পরিস্থিতিতে চমেক হাসপাতালের জন্য ঢাকা থেকে একটি নতুন ট্রান্সফরমার আনা হচ্ছে। শনিবার রাতে এটি স্থাপনের পর রোববার সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার শহিদুল গণি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় পুরনো একটি ট্রান্সফরমারে ক্রুটি দেখা দিলে হাসপাতাল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। তবে শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টা থেকে হাসপাতালের বেশিরভাগ বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।

জানা গেছে, গোটা হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থাপিত দুই হাজার কেভি ওয়াটের ট্রান্সফরমারটি অনেক বছরের পুরনো। এর বয়স ৫০ বছরের কম নয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রান্সফরমারটিতে ত্রুটি দেখা দিলে তা সারানোর চেষ্টা করে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন। কিছুক্ষণের জন্য ঠিকও হয়। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে গোটা হাসপাতাল।

এরপর পার্শ্ববর্তী মেডিকেল কলেজ, দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংযোগ টেনে মধ্য রাতের মধ্যে আইসিইউ, সিসিইউ ও অপারেশন থিয়েটারসহ হাসপাতালের জরুরী বিভাগগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হয়। এছাড়া জোড়াতালি দিয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা অনেকটা স্বাভাবিক করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ফ্যান চললেও তাতে নেই গতি, আর বাতি জ্বললেও তাতে নেই আলো। তীব্র গরমে হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনদের হাঁসফাঁস অবস্থা। বাধ্য হয়ে হাত পাখা নিয়ে বাতাস করতে দেখা যায় পরিবারের সদস্যদের। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বেশির ভাগ রোগীর স্বজনদের হাতেই হাতপাখা দেখা গেছে।

১২ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন তাজুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কারেন্ট আসে। কিন্তু কারেন্ট আসলেও ফ্যান ভালোভাবে চলছেনা। অসহ্য গরমের মধ্যে খুব কষ্ট হচ্ছে। শুনেছি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ায় এ অবস্থা হচ্ছে। এখন সরকার একটা ট্রান্সফরমার দিলে আমরা বাঁচি।’

১৬ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর ছেলে জহির বলেন, ‘শনিবার দুপুর ২টার দিকে বিদ্যুৎ আসে। ফ্যান চললেও বাতাস নেই। গরমের কারণে থাকতে পারছিনা। খুব কষ্টে সময় পার করতে হচ্ছে। নতুন ট্রান্সফরমার বসানো হলে আমাদের দুর্দশা লাঘব হবে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মারুফ বলেন, ‘৫০-৬০ বছরের পুরনো ট্রান্সফরমারটি বিকল হলে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে হাসপাতাল। পরিচালক স্যার শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নিজে হাসপাতালে উপস্থিত থেকে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। জরুরী বিভাগগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ’

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার শহিদুল গণি বলেন, ‘জোড়াতালি দিয়ে জরুরী বিভাগগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক করেছি। হাসপাতালে ৭০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিকল হওয়া ট্রান্সফরমারটি ৫৫ বছরের পুরনো। নতুন একটি ট্রান্সফরমার ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে। ট্রান্সফরমারবাহী গাড়ি এখন কুমিল্লায়। রাতের মধ্যে এটি চট্টগ্রামে এসে পৌছবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আশা করছি রোববার সকাল থেকে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত