টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বার্সেলোনা ত্রিমুকুট, নায়ক সেই মেসিই

বার্সেলোনা ৩ জুভেন্টাস ১
(রাকিটিচ, সুয়ারেজ, নেইমার) (মোরাতা)

spচট্টগ্রাম, ০৭ জুন (সিটিজি টাইমস) ::  চাঁদে কলঙ্ক আছে৷ কিন্তু জ্যোৎস্নায়? –নেই৷ ফিফায় কলঙ্ক আছে৷ কিন্তু ফুটবলে? –নেই৷ ব্লাটাররা যতই কেলেঙ্কারির চাদর গায়ে জড়িয়ে থাকুন না কেন, ফুটবলের অপার্থিব সৌন্দর্য থাকবে চিরভাস্বর৷ শনি-রাতের বার্লিন বুঝিয়ে দিল আরও একবার৷

বার্লিন প্রাচীর আগেই ধ্বংস হয়েছে৷ দেখার ছিল, আক্রমণের ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে কতক্ষণ অটুট থাকে বিশ্বখ্যাত ইতালীয় রক্ষণ৷ কারণ শনি-রাতের মহারণের আখ্যাই দেওয়া হয়েছিল: ক্ষিপ্র আক্রমণ বনাম দুর্ভেদ্য রক্ষণ৷ কীরকম সেই আক্রমণের ঝাঁঝ? মশলার নাম এম এন এস৷ মেসি, নেইমার, সুয়ারেজ৷ যে ত্রয়ীর পা থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের আগেই এই মরশুমে বেরিয়ে এসেছে ১২০ গোল! কী আশ্চর্য, সেখানে জুভেন্টাসের গোল ১০৩! এম এন এস বিপক্ষকে ভুগিয়েছে, বিপক্ষকে পুড়িয়েছে৷ সেই ত্রয়ীর অলঙ্কারে সজ্জিত বার্সেলোনাকে আটকে রাখা সম্ভব? –না, সম্ভব হয়নি৷ ম্যাচের শুরুতেই বিস্ফোরণ! যে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল জুভে-রক্ষণ৷ তার পরেই ভেঙে পড়ল তাসের ঘরের মতো৷ এই রক্ষণ নিয়েই এত মাতামাতি? তেকাঠির নিচে বর্ষীয়ান গোলরক্ষক অবিশ্বাস্য কয়েকটা সেভ না করলে ফাইনালের উত্তেজনায় কবেই পড়ে যায় যবনিকা! ফুটবল-কবিতার আবেগ লুকিয়ে তো একটাই জায়গায়৷ আক্রমণের বৈচিত্র্যে৷ রক্ষণের খোলসে নিজেদের বন্দী করে রাখার কৌশলে যে বাজিমাত করা যাবে না, সেটা বুঝে বার্সেলোনার পথেই হাঁটল ইতালির চ্যাম্পিয়নরা৷ পাল্টা আক্রমণেরই সুফল পেল জুভেন্টাস৷ তবে ক্ষণিকের জন্য৷

প্রথমার্ধের ৪ মিনিট৷ বিস্ফোরণের নাম রাকিটিচ৷ মেসির দুরন্ত ক্রস থেকে বল পেয়ে আলবার পাস নেইমারকে৷ তিনি বল দিলেন ইনিয়েস্তাকে৷ তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত পাসে গোল করতে ভুল করেননি রাকিটিচ৷ গোল পেয়ে আরও অনন্য বার্সা৷ আক্রমণের ফুল ফোটাল তারা৷ বরং বলা ভাল, ফুল ফোটালেন সেই ত্রয়ী৷ গোটা প্রথমার্ধে খুঁজেই পাওয়া গেল না জুভেন্টাসকে৷ দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই স্ট্র্যাটেজি বদল তাদের৷ প্রতি-আক্রমণেই সমতা ফেরায় তারা তেভেজ-মোরাতা যুগলবন্দীতে৷ তেভেজের শট স্টেগানকে পরাস্ত করতে না পারলেও সুযোগসন্ধানী মোরাতা গোল করতে কোনো ভুল করেননি৷ গোল খেয়ে একটু থমকে গেল বার্সা, ততটাই আক্রমণ শানিয়েছে জুভেন্টাস৷ এই পরিস্হিতিতে আবার ত্রাতার ভূমিকায় সেই ত্রয়ীর দুই মহারথী! মেসি ও সুয়ারেজ৷ এল এম টেনের শট বুফোঁ বাঁচালেও ওত পেতে থাকা শিকারির মতো জুভে-জালে বল জড়িয়ে দিয়ে যান সুয়ারেজ৷ ম্যাচের রঙ আবার লাল-নীল৷ সেই রঙকে আরও রাঙিয়ে দিয়ে গেলেন আর এক লাতিন আমেরিকান নেইমার৷ ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষমুহূর্তে৷ অনিচ্ছাকৃত হ্যান্ডবল হলেও নেইমারের গোল বাতিল হয়েছিল ৭২ মিনিটে৷ সেই আক্ষেপ পুষিয়ে দিলেন নিজেই৷

আক্রমণের ত্রিভুজ– মেসি, নেইমার, সুয়ারেজ৷ সেই ত্রিভুজের কাঁধে ভর দিয়েই ত্রিমুকুটের স্বাদ নিল বার্সেলোনা৷ ইউরোপের প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয়বার৷ নজিরের সঙ্গে জুড়ে রইল অন্য আবেগও৷

আসলে একটা টিমকে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়ন্স হতে গেলে যা যা দরকার, সব ছিল বার্সায়। মাঝমাঠে ইনিয়েস্তা, রাকিটিচের মতো প্লেয়ার। দুই ফুলব্যাক আলবা ও আলভেজ। লুই এনরিকের মতো মস্তিষ্ক। আর সবশেষে স্বপ্নের আক্রমণ।

জাভি হার্নান্দেজ বিদায়ের দিনে এর চেয়ে ভালো বার্সা টিম আর দেখে যেতে পারত কি?

মতামত