টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চবিতে সহকারী প্রক্টরের সামনে দুই শিক্ষার্থীকে পেটাল পুলিশ

চবি প্রতিনিধি :

cuচট্টগ্রাম, ০৬ জুন (সিটিজি টাইমস) ::  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুই সহকারী প্রক্টরের সামনে পুলিশ বাংলা বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াদ হোসেনকে পুলিশ পিটিয়েছে। দুজনই ছাত্রলীগের একাকার গ্রুপের নেতাকর্মী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে শনিবার বিকেল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার পর পুলিশ উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের আটক করতে শাহজালাল হল এবং শাহ আমানত হলে প্রবেশ করে। এ সময় শাহজালাল হল থেকে এ দুই জনকে আটক করতে গেলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের তিন চার জন সদস্য তাদের দৌড়ে ধরে পেটাতে পেটাতে নিয়ে আসে। হলের বাইরে এনেও তাদের পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ও লাথি মারে।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকরী প্রক্টর অরুপ বড়ুয়া এবং অহিদুল ইসলাম। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে সহকারী দুই প্রক্টর বলে পুলিশের সঙ্গে কোনো বেয়াদবি করেছে বলে মনে হয়, তাই তাদের মারধর করেছে।

পরে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইলের হস্তক্ষেপে পুলিশ সদস্যরা শান্ত হয়। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে থাকলে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল এবং তদন্ত কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চায়।

মারধরের শিকার মাসুদ ও রিয়াদ হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ধরতে গেলে তারা ভয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ধরে তাদের বেধড়ক মারধর করে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যের শাস্তির আওতায় আনা হবে ‘

প্রক্টর সিরাজ উদ দৌল্লাহ বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের কথা শুনেছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

ঘটনার সময় সহকারী প্রক্টরদের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা প্রথমে ব্যাপারটি বুঝতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, শনিবার দুপুর আড়াইটায় চবি রেল স্টেশনে কনকর্ড গ্রুপের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একাকার গ্রুপের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় উভয় গ্রুপের ৭ নেতাকর্মী আহত হয়। পরে বিকেল পৌঁনে পাঁচটার দিকে পুনরায় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় কনকর্ড গ্রুপের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হোসেন আহত হয়। এ সময় পুলিশ ৫ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে শাহজালাল হল এবং শাহ আমানত হল থেকে বিকেল ৬টার দিকে উভয় গ্রুপের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। এ সময় হল থেকে পুলিশ বেশ কয়েকটি দেশী অস্ত্র উদ্ধার করে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত