টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শীর্ষ বৈঠকে হাসিনা-মোদি

INচট্টগ্রাম, ০৬ জুন (সিটিজি টাইমস) :: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বিকেলে চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্যান্য ইস্যুর পাশাপাশি তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি উত্থাপন করা হতে পারে। একারণে শীর্ষ বৈঠকে যাওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনা সেরে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

শনিবার দুপুরের পর সোনারগাঁও হোটেলে এই বৈঠক শেষে দুজন একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে রওনা হন।

তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে মমতা ব্যানার্জিকেই দৃশ্যত ‘বড় বাধা’ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি শনিবার ঢাকায় নামলেও একদিন আগেই এসে পৌঁছান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মতভেদের মধ্যে মমতা ওঠেন আলাদাভাবে রেডিসন হোটেলে।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে জটিলতার মধ্যে মোদির সঙ্গে মমতার কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে তিস্তা চুক্তি যে এই দফায় হচ্ছে না, তা আগেই দুই তরফে জানানো হয়েছে।

মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে মমতা এক টুইটে বলেছেন, ‘স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে আমার পক্ষ থেকে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা।’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের দলিল আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর এ স্বাক্ষর করেন। এ দলিল বিনিময়ের ফলে চার দশক আগের মুজিব-ইন্দিরা স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলো। এছাড়া কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকও সই হয় বৈঠকে।

১৯৭৩ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থল সীমান্ত চুক্তি ও প্রটোকল কার্যকরে সব বাধা দূর হওয়ার পরই ঢাকা এলেন নরেন্দ্র মোদি।

সকালে ঢাকায় নামার পর সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শনের পর হোটেলে ফেরেন মোদি। সেখানেই যান মমতা।

চার বছর আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরসঙ্গীর তালিকা থেকে শেষ মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন মমতা।

সব প্রস্তুতি থাকার পরও তার আপত্তির কারণে তখন আটকে যায় তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের চুক্তি সই, যা এখনও হয়নি।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিস্তা ইস্যূতে দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন।

বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি চা-চক্রে মুখোমুখি হবেন।

এ সময় নরেন্দ্র মোদি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য দুটি অমূল্য উপহার শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেবেন, যার মধ্যে একটি হচ্ছে ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের কলকাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণের একটি সিডি। আরেকটি হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ভারতীয় সংসদে পাস হওয়া এবং ভারতের সংবিধানের সংশোধন করা প্রমাণপত্রের টান্সক্রিপট (হুবহু নকল কপি)।

অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদির সম্মানে ‘সাইনিং ইন্সট্রুমেন্ট অব সারেন্ডার ১৯৭১’ শীর্ষক একটি ফটো প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেবেন নরেন্দ্র মোদি। এর পর যৌথ ইশতেহারে স্বাক্ষর করবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। যৌথ ইশতেহারে স্বাক্ষরের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হবেন নরেন্দ্র মোদি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৮১ জনের সফরসঙ্গী নিয়ে ছত্রিশ ঘণ্টার সফরে শনিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছান। নরেন্দ্র মোদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

ঢাকায় নেমে বিমানবন্দরে উপস্থিত বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ, তিন বাহিনীর কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন নরেন্দ্র মোদি।

মতামত