টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টানা তিনদিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন চমেকের বিভিন্ন ওয়ার্ড, রোগিদের দুর্ভোগ

চট্টগ্রাম, ০৬ জুন (সিটিজি টাইমস) :: টানা তিনদিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগি এবং তাদের স্বজনদের। 

ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ২টা থেকে চমেক হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহসহ অবকাঠামোগত কাজের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তর পিডিবির সহযোগিতায় অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আশপাশের এলাকার চারটি ছোট ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এতে সরবরাহ আংশিক বাড়লেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ কোনভাবেই নিশ্চিত করতে পারছেনা সরকারি এ সংস্থাটি।

তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় সমাধান করে ফেলেছেন।

তবে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না করা পর্যন্ত পুরোপুরি সমাধান মিলবে না বলেও স্বীকার করেছেন তারা।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানের দাবি, শনিবার সকাল ১০টা থেকে চমেক হাসপাতালে ৯০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আর উপ-সহকারি প্রকৌশলী তৌহিদুল আকবরের দাবি, তারা বিদ্যুৎ সমস্যার ৭০ ভাগ নিশ্চিত করেছেন।

চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই জহিরুল ইসলাম জানান, অপারেশন থিয়েটার, প্রসূতি ও আইসিইউতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়লেও আর কোথাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। অধ্যাপক-সহযোগী অধ্যাপকসহ চিকিৎসকদের বসার কক্ষগুলো এখনও বিদ্যুৎবিহীন ‍আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে ‍জানা গেছে, হাসপাতালের ৩৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ফিজিক্যাল মেডিসিন, চর্ম ও যৌন এবং মনোরোগ বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা শনিবার সকাল পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) চিকিৎসা কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে হাসপাতালের বেশির ভাগ সেবা বন্ধ রয়েছে। শুধু জেনারেটরের সাহায্যে অতি জরুরি কিছু অস্ত্রোপচার চলছে। জরুরি ভিত্তিতে সীমিত আকারে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা চালুর ব্যবস্থা হয়েছে।

তবে বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো হাসপাতাল জুড়ে পানির সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় বেশির ভাগ ওয়ার্ডে পাখা চলছে না।

এস আই জহিরুল ইসলাম  জানান, হাসপাতালের আটটি লিফটের মধ্যে শনিবার সকাল পর্যন্ত চালু আছে মাত্র একটি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ সহকারি প্রকৌশলী তৌহিদুল আকবর বলেন, চকবাজার-পাঁচলাইশ এলাকায় ‍চারটি ছোট ট্রান্সফরমার থেকে ছোট ছোট লোড এনে স্টোর করে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে আইসিইউতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র পুরোপুরি সচল হয়েছে। অধিকাংশ ওয়ার্ডের বৈদ্যুতিক পাখাও সচল করা হয়েছে।

হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করার জন্য নতুন ট্রান্সফরমান স্থাপন করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

 

মতামত