টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কী থাকছে মোদি-খালেদার আধা ঘণ্টার বৈঠকে

bnpচট্টগ্রাম, ০৬ জুন (সিটিজি টাইমস) : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিএনপি সূত্র জানায়, রবিবার সফরের দ্বিতীয় দিনে খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠকে বসবেন মোদি। সোনারগাঁও হোটেল স্যুটে বিকেল ৪টার পর এ বৈঠকের জন্য সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ মিনিট।

খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপির নীতি নির্ধারক পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হওয়ার বিষয়টি বিএনপিকে অবহিত করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার সাথে মোদির বৈঠক হবে কি না এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে নানা জল্পনাকল্পনা চলছিল। বিএনপির তরফ থেকে বৈঠক হবে, এমন কথা বলা হচ্ছিল বারবার। তবে শুক্রবার সকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী খালেদা জিয়ার সাথে মোদির বৈঠকের ‘সুযোগ নেই’ বল দাবি করেন। অবশ্য তার কিছুক্ষণ পরই দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্কর মোদি-খালেদা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভিন্নধারার রাজনীতি করে আসছেন। ভারত সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার এ সফর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য প্রটোকলে না পড়লেও বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করবেন তিনি।

জানা গেছে, মোদির বাংলাদেশ সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর বৈঠকের আগ্রহ জানিয়ে দিল্লিতে চিঠি দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এতে বিজেপির সাথে বিএনপির অতীতের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে ভবিষ্যতে সে সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

কূটনীতিক সূত্রগুলো বলছে, ভারতের জনতা পার্টি-বিজেপি নেতারা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ একটি ‘অরাজনৈতিক’ সংস্থা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করা উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার দল বিএনপি বিপুল মানুষের কাছে জনপ্রিয়। বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক না হলে ‘নেতিবাচক’ মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে একটি পজিটিভ মেসেজ দিতে চান, যাতে বাংলাদেশের মানুষ ভারত সম্পর্কে ‘পজিটিভ’ ধারণা পায়। জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক স্থাপন এবং সব দলের সাথে সুসম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি। মোদি এ দেশের জনগণের ‘অ্যান্টি ইন্ডিয়ান’ মনোভাবের পরিবর্তন করতে উদ্যোগী হয়েছেন। তার সফরে এ বিষয়টির ছাপ স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ভারত পৃথিবীর বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আর বাংলাদেশের সাথে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আজ অশান্ত ও অস্থিতিশীল। বিষয়টি ভারতও অনুধাবন করছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ভারত এগিয়ে আসবে, দেশের মানুষ যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছে উনি (নরেন্দ্র মোদি) সেই গণতন্ত্রের কথা বলবেন-এটাই সবার প্রত্যাশা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠকে বিএনপির ৮-১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, ড. মঈন খান, হান্নান শাহসহ দলের শীর্ষ নেতারা প্রতিনিধি দলে থাকবেন।

জানা গেছে, বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন, বাণিজ্য ঘাটতি, সীমান্তে হত্যাসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার পাশাপাশি বিএনপির তরফ থেকে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে। এ ক্ষেত্রে বৃহৎ গণতান্ত্রিক প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সহযোগিতা চাইবে বিএনপি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত