টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পরিসংখ্যানটি শিউরে উঠার মতো

nariচট্টগ্রাম, ০৫ জুন (সিটিজি টাইমস) :আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১২৩ নারী ও শিশু ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে ১৫ জনকে। ২০১৪ সালে সারা দেশে ধর্ষিত হয়েছে ৭০৭ নারী ও শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৬৮ জনকে। এছাড়াও আত্মহত্যা করে ১৩ জন।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার বলছে, চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১৫৮টি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪টি, মার্চে ৪০টি ও এপ্রিলে ৪১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া এ ৪ মাসে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ৫৩টি।

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির হিসাব অনুযায়ী, ২০১১ সালে সারা দেশে ৬২০, ২০১২ সালে ৮৩৬, ২০১৩ সালে ৭১৯ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত বছর ও চলতি বছরে ধর্ষণের ঘটনা আরও বেশি বেড়েছে।

তবে সংস্থা তিনটি এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে।

প্রকৃত পরিস্থিতি আরও কতটা ভয়াবহ তার একটি ধারণা পাওয়া যায় পুলিশের এক হিসাব থেকে। পুলিশের হিসাবে ২০১৪ সালে প্রায় পাঁচ হাজার নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এসব সহিংসতার মধ্যে রয়েছে অ্যাসিড নিক্ষেপ, অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা, পাচার, খুন এবং যৌতুকের জন্য নির্যাতন। কিন্তু এসব নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে কতগুলোর বিচার হয়েছে তার কোনো প্রতিবেদন কখনোই প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ১২ হাজার ৯৭১ জন। আর ২০০১ থেকে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ৩৮ হাজার ৭৯১ জন ধর্ষিত হয়েছেন। আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩২৬ জনকে। আবার নারী নির্যাতনের ঘটনার বেশিরভাগই থানায় নথিভুক্ত বা মামলা হয় না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইমিস সেন্টারে (ওসিসি) সারা দেশ থেকে প্রায় প্রতিদিনই দুই থেকে তিনজন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিতে আসে। সে হিসাবে প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৯০ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে কেবল দেশের প্রধান হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের আওতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল শের-ই-বাংলা, খুলনা, সিলেট এম এ জি ওসমানী, রংপুর ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২২ হাজার ৩৮৬ জন ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের ঘটনায় চিকিৎসা নিয়েছেন গত চার বছরে।

নারী অধিকারকর্মীরা ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে বারবার কথা বললেও বিষয়টি গণমাধ্যম বা সমাজে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি বলে সমালোচনা আছে। তবে মাইক্রোবাসে নারী ধর্ষণের পর তোলপাড় হয় সারা দেশে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যে অভিযোগ তুলেছেন, তা রীতিমতো ভয়াবহ। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেছেন, কারাগার এবং গাজীপুর নারী ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে নারীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নারীদের যৌন হয়রানি করতে বিনা বিচারে আটকে রাখার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। আরও ভয়াবহ হচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে তিনি চিঠি দিলেও এর প্রতিকার হয়নি।

রাজধানীতে এক আলোচনায় প্রধান বিচারপতি সিলেট কারাগার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘সেখানে দেখলাম লোহমর্ষক ঘটনা। যুবতী নিরপরাধ অনেক মেয়ে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আছে, কারও যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করেছে, তারা সেখানে নির্যাতিত হচ্ছে।’

মতামত