টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অবশেষে উখিয়ার দুর্গম পাহাড়ের রহস্যময় জঙ্গী স্থাপনা উচ্ছেদ

Modhurchar
ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:

চট্টগ্রাম, ০৪ জুন (সিটিজি টাইমস) :: কক্সবাজারের উখিয়ার সেই দুর্গম পাহাড়ের সরকারি বনভুমি দখল করে জঙ্গী অর্থায়নে গড়ে তোলা অর্ধশতাধিক রহস্যময় স্থাপনা অবশেষে উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। ৪ জুন বৃহষ্পতিবার সকালে এসব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত  জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মোঃ আবদুস সোবহানের নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর ৪ শতাধিক সদস্য বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টা থেকে দুর্গম পাহাড়ের এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। দেড় ঘন্টার অভিযানে দু’টি বুলডোজার দিয়ে অর্ধশতাধিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের লেনদেনে বন কর্মীদের যোগসাজসে ১৫/২০ একর সরকারি বনভুমি দখল করে জঙ্গী সম্পৃত্ত বিদেশী এনজিওর অর্থায়নে এবং সশস্ত্র পাহারায় অর্ধ শতাধিক সেমিপাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এর আগেও একই এলাকায় জঙ্গী সম্পৃক্ত এনজিওর অর্থায়নে এরকম স্থাপনা স্থাপন করা হয়েছিল।

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের বিতর্কিত এমপি আবদুর রহমান বদির শ্যালক ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী আন্তর্জাতিক এনজিও মুসলিম এইড এবং তুরষ্কের আরো কয়েকটি এনজিওর ২৬ কোটি টাকার অনুদানে দুর্গম পাহাড়ে রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণের জন্য এসব স্থাপনা নির্মাণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বন বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সশস্ত্র পাহারা বসিয়েই বন কর্মীদের অজান্তে এসব রহস্যময় স্থাপনা গড়ে তোলা হয়।

জঙ্গী সম্পৃক্ত এনজিওর অর্থায়নে উখিয়ার মধুরছড়ার দুর্গম পাহাড়ে স্থাপনাগুলো নির্মাণের আগে রামু উপজেলার পানেরছড়া এলাকা এবং মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বালুখালী এলাকার বনভুমিতেও স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। উখিয়ার দুর্গম পাহাড়ে গত ৯ এপ্রিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ৪ শতাধিক সদস্য নিয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী রহস্যময় স্থাপনাটি উচ্ছেদ করতে গিয়েছিল। এসময় তারা জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর সমর্থিত সশস্ত্র লোকজনের বাঁধার মুখে পড়ে। এ কারনে সে সময় উচ্ছেদ করা যায়নি। এমনকি রহস্যময় স্থাপনাগুলো অক্ষত রাখতে পাহাড়ে যাতায়াতের রাস্তা পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত এলাকার এমপি আবদুর রহমান বদি ঘটনাস্থলে এসে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি যৌথ বাহিনীর সাথে এদিন এক বৈঠকে বসে স্থাপনাগুলো স্বউদ্যোগে সরিয়ে নেয়ার এক সপ্তাহের সময় নির্ধারণ করেন। সেই সাথে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পাহাড়ের ভিতর এরকম পরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের অর্থায়নের রহস্যও জানানোর কথা বলেন। এসব কারনে উচ্ছেদ কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়।

কিন্তু এক সপ্তাহের স্থগিতের কথা বলে দীর্ঘ প্রায় ২মাস পর্যন্ত উচ্ছেদ না করায় নানা কথা উঠে। শেষ পর্যন্ত সরকারের শীর্ষ স্থানীয় নির্দ্দেশে বৃহষ্পতিবার এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। কক্সবাজারের দক্ষিন বন বিভাগের নবাগত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবির বলেন-‘যে যাই বলুক সরকারি বনভুমি দখল করে স্থাপন করা রহস্যময় স্থাপনাগুলো নিরাপত্তাজনিত কারনেই উচ্ছেদ করা হয়েছে। কেননা একেত সরকারি বনভুমি তদুপরি বনভুমিতে অবৈধভাবে এরকম কোটি কোটি টাকার স্থাপনা রাতারাতি গড়ে তোলার ব্যাপারটি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাই এসব উচ্ছেদ করা হয়েছে।’
গত ৫ এপ্রিল বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে ‘উখিয়ার দুর্গম পাহাড়ে রহস্যময় স্থাপনা’ শীর্ষক স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর দেশব্যাপি তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের পশ্চিমে দুর্গম মধুরছড়া নামক পাহাড়ে সশস্ত্র পাহারা বসিয়ে ১০/১৫ একর বনভুমি দখল করে সেমিপাকা অর্ধ শতাধিক স্থাপনা গড়ার কাজের তত্বাবধান করেছেন এমপি আবদুর রহমান বদির শ্যালক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। এলাকাবাসীর অভিযোগ এসব স্থাপনা নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছে জঙ্গী সম্পৃক্ত এনজিওর অর্থ।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, স্থানীয় মাছকারিয়া ভুমিহীন সমিতির লোকজন তাদের জমানো টাকায় এসব স্থাপনা গড়ে তুলছেন। এখানে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

মতামত