টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে বিভিন্ন কলেজের সংবর্ধনার ফাঁদে মেধাবীরা

bচট্টগ্রাম, ০২ জুন (সিটিজি টাইমস) :: মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে কোচিং সেন্টার ও বেসরকারি কলেজ গুলোর সংবর্ধনার ফাঁদ।

জিপিএ প্রাপ্তদের মেধার স্বীকৃতি হিসেবে সংবর্ধনার আয়োজন করা হলেও এর আড়ালে মূলত আছে ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের দিন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সংশ্লিষ্ট কলেজে ভর্তির বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে বেসরকারি কলেজে পড়তে কাউন্সেলিং শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও কলেজের পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্তরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাউন্সেলিং করছে।

ফলাফল প্রকাশের পরদিন থেকেই কোন কোন প্রতিষ্ঠান সংবর্ধনার জন্য নিবন্ধন শুরু করেছে।

নিবন্ধনের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের যাবতীয় তথ্য নেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানের্ আমন্ত্রণপত্র নিতে আসতে হচ্ছে আয়োজক প্রতিষ্ঠানে।

সেখানেই প্রথম দফা কাউন্সেলিং করছেন কোচিং সেন্টার ও কলেজের কর্তা ব্যক্তিরা।

শিক্ষা পাড়া হিসেবে পরিচিত নগরীর চকবাজারে সোমবার গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, মেধাবীদের সম্মান জানাতে নয়, ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি থেকেই এ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা চালিয়ে ভর্তি করানোই উদ্দেশ্য।

তারা বলছেন, ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এ ধরণের শিক্ষা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বোচ্চ ফলাফলের কারণে কেউ যদি সম্মাননা দিয়ে থাকে তা ফিরিয়ে দেওয়া যায় না।

স্বীকৃতির আনন্দ উপভোগ করতে শিক্ষার্থীদেরও আগ্রহ থাকে। ফলে অভিভাবকরা তা এড়িয়ে যেতে পারেন না।

তবে এর মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী-অভিভাবকের ভিন্নমত রয়েছে। তারা এ ধরণের সংবর্ধনা নিতে মোটেও আগ্রহী নয়।

তাদের মতে, কিছু অতি উৎসাহী অভিভাবক আছেন যারা সংবর্ধনা নিতে বেশ উৎসাহী। ফলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ সুযোগ লুফে নেয়।

সংবর্ধনার জন্য নিবন্ধন করেছেন জানিয়ে চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া নিহাজ বিন হাসেম বলেন,ভাল রেজাল্ট করেছি।

সেজন্য সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। তাই আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছি।

শিক্ষক সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং আপাদমস্তক শিক্ষক হয়ে উঠতে না পারার কারণে এ ধরণের ব্যবসায়িক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে মন্তব্য করে শিক্ষাবিদ আনোয়ারা আলম বলেন, নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলে কোন সমস্যা ছিল না।বাইরের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ব্যবসা।

নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের সাবেক এই অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি কলেজে পড়ার ইচ্ছা সবার থাকে। কিন্তু ভর্তি হতে না পারলে হতাশ হয়ে পড়ে।প্রাইভেট কলেজগুলো তাদের এই দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, সরকারি কলেজে ভর্তি হতে না পারা এমন ছাত্রীদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হয়েছে। তাদের বুঝাতে হয়েছে, সরকারি কলেজ ছাড়া বেসরকারি অনেক কলেজে ভাল পড়ালেখা হয়।

তাদেরকে অনেকভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হতো। কারণ তারা ভাবে তার বন্ধু সরকারি কলেজে পড়ছে। সে পড়তে পারছে না। এজন্য তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করতো।

আনোয়ারা আলম বলেন,‘আমরা শিক্ষাটাকে বাণিজ্য বানিয়ে ফেলেছি। ফলে শিক্ষকরা এতে জড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে নগরীর অলি-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো স্কুল-কলেজ গড়ে উঠছে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত