টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

২০১৮ সালে বিকল্প বিশ্বকাপ করবে ইউরোপ!

চট্টগ্রাম, ০২ জুন (সিটিজি টাইমস) ::  তবে কি ফুটবল বিশ্ব দ্বিখণ্ডিতই হতে যাচ্ছে? সেই ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে আগামী শুক্রবার। যখন ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিধর ইউরোপ সিদ্ধান্ত নেবে, ২০১৮ বিশ্বকাপে আদৌ অংশ তারা নেবে কি না। নাকি এর বদলে নিজেরা আয়োজন করবে বিকল্প এক বিশ্বকাপ। যে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোকেও আমন্ত্রণ জানাবে তারা। মানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো দলগুলোকেও পাশে চাইছে ইউরোপ। আর তা করা গেলে ফিফার আসল বিশ্বকাপই হয়তো তখন হয়ে যাবে আকর্ষণহীন। বিকল্প বিশ্বকাপই হবে ‘আসল’ বিশ্বকাপ!

শনিবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। যে বার্লিন এক সময় দ্বিখ-িত বিশ্বের প্রতীক ছিল, সেই বার্লিন থেকেই আসতে পারে ফুটবল বিশ্বের দ্বিখ-িত হওয়ার খবর। বার্লিনে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের আগের রাতে উয়েফার সবগুলো প্রতিনিধি একসঙ্গে বসছে। ফিফার আর্থিক কেলেঙ্কারির খবর ফাঁস হওয়া, একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার এবং ইউরোপের তীব্র বিরোধিতার পরেও সেপ ব্ল্যাটারের আরেক মেয়াদে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। মূলত ব্ল্যাটারের ‘ভোট ব্যাংক’ উন্নয়নশীল দেশগুলোই জিতিয়ে দিয়েছে তাঁকে।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপ মনে করে, ফিফাকে ব্ল্যাটার এবং কলঙ্কমুক্ত করার পথ একটাই—বিদ্রোহ। এর আগে প্রথম এই সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন ডাচ ফুটবল সংস্থার প্রধান বার্ট ফন অস্টফিন। সেটা যে স্রেফ কথার কথা বা আলগা হুমকি নয়, এখন সেটাই মনে হচ্ছে। ব্রিটেনের কোনো ট্যাবলয়েডও নয়, ইউরোপের এই সম্ভাব্য বিদ্রোহের খবর দিয়েছে দেশটির শীর্ষ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।

ফুটবলের আসল শক্তির জোগানদার ইউরোপই। গত বিশ্বকাপের ৩২ দলের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩টিই ছিল ইউরোপের। ২০০২ বিশ্বকাপে ছিল ইউরোপের ১৫টি দল। যেখানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচটি করে দেশ অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় দক্ষিণ আমেরিকা বা আফ্রিকা থেকে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, এর আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ইতালি; ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স—এই দেশগুলো ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ। ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট লড়াই উপহার দেয় ইংল্যান্ড।

ফুটবল বিশ্ব দ্বিখণ্ডিত হয়ে নতুন ফিফা গড়ার হুমকি!

৬৬ বছর বয়সী এক সাবেক ডেনিশ গোয়েন্দার অ্যালান হ্যানসেনের নেতৃত্বে বিদ্রোহের পরিকল্পনা করছে সেই ইউরোপ। উয়েফার নির্বাহী কমিটির এই সদস্য মনে করেন, এটাই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়। ইউরোপের শীর্ষ দেশগুলো একযোগে ২০১৮ বিশ্বকাপ বয়কট করলে সেই ধাক্কা ব্ল্যাটার সামলাতে পারবেন না। গত শুক্রবার জুরিখে ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচনের আগে উয়েফার ৫৪ সদস্য বৈঠকে বসেছিল। সেখানেও এই প্রস্তাব পেড়েছিলেন হ্যানসেন। ১৭ সেপ্টেম্বর মাল্টায় উয়েফার সম্মেলন। সেখানেই আসতে পারে চূড়ান্ত ঘোষণা।

বিশ্বকাপের প্রতি আসর থেকে ৩০০ কোটি ডলারের মতো আয় করে ফিফা। ইউরোপের দেশগুলো বেরিয়ে গেলে সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পনসরদের অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নেবে। সেই ধাক্কাও ফিফা সামলাতে পারবে না। কিন্তু সত্যিই কি ইউরোপ এই পথে যাবে?

হ্যানসেন নিজেই এই বিকল্পটিকে বলছেন সবচেয়ে ‘র‌্যাডিকাল’। তবে ফিফায় দীর্ঘ দিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন, ‘২০ বছরের মতো হবে আমি ফুটবল বিশ্বে জড়িয়ে আছি। আমি সত্যিই ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পক্ষে। তবে আপনাদের বুঝতে হবে এভাবে পরিবর্তন সম্ভব নয়, কারণ অনেক সহযোগী দেশ আছে যারা পরিবর্তন চায় না। এটা অনেকটা সেই প্রবাদের মতো, আপনি ঘোড়াকে পানির কাছে নিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু তাকে বাধ্য করতে পারেন না পানি পান করাতে।’

এই অবস্থায় বিশ্বকাপ থেকে বেরিয়ে আসাটাই একমাত্র উপায় বলে মনে করেন তিনি, ‘আমরা যদি আমাদের মতো করে একটা টুর্নামেন্ট চালাই, এই দেশগুলো, যারা পরিবর্তন চায় না, বুঝতে পারবে ইউরোপ ছাড়া বিশ্বকাপ সম্ভব নয়। জানি এটা হয়তো গণতান্ত্রিক উপায় হবে না, কিন্তু ফিফাকে আমরা বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভবিষ্যতে যে রকমটা দেখতে চাই, সেটা বাস্তব করতে হলে এমন বৈপ্লবিক কিছু করা ছাড়া উপায়ও নেই।’

অবশ্য হ্যানসেনের এমন চাওয়া পূরণ হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ এবারের নির্বাচনের আগে ১০ থেকে ১৫টি উয়েফা সদস্য ব্ল্যাটারের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রিন্স আলীকে ভোট দেবে বলে রাজি হয়েছিল, যে প্রতিশ্র“তি অনেকগুলো দেশই রাখেনি। যাদের মধ্যে আছে স্পেন আর ফ্রান্সও, যারা শেষ পর্যন্ত ব্ল্যাটারকেই ভোট দিয়েছে। এখন দেখা যাক, কী অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব আর বিশ্বকাপের ভাগ্যে!

সূত্র : দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট
– See more at: http://www.sheershanewsbd.com/2015/06/02/82909#sthash.xhe5L2Xn.dpuf

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত