টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ছাত্রীকে ফেল করিয়ে প্রেমে ব্যর্থ শিক্ষকের প্রতিশোধ!

fariaচট্টগ্রাম, ০২ জুন (সিটিজি টাইমস) : নড়াইলে ছাত্রীকে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য করে বিফল প্রেমের প্রতিশোধ নিলেন এক শিক্ষক!

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করা এবং উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী ফারিয়া ইসলামকে কৌশলে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করানো হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও কম নম্বর দেওয়া হয়েছে বলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনসদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফারিয়া ইসলাম এ বছর নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। মেধাবী ফারিয়া সাতটি বিষয়ে এপ্লাস পেলেও পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও ওই স্কুলের সব পরীক্ষার্থীকে ২৫ নম্বর করে দেওয়া হলেও ফারিয়াকে দেওয়া হয়েছে ১৫ নম্বর করে।

ফারিয়ার পরীক্ষাকেন্দ্র নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ফসিয়ার রহমান তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে ফারিয়া সেই প্রস্তাব প্রত্যাখানসহ তাকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ওই শিক্ষক ফারিয়াকে ব্যবহারিকে কম নম্বর দিয়েছেন বলে অভিযোগ করে ফারিয়ার পরিবার।

এ ছাড়া পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে জমাকৃত খাতা ও বহুনির্বাচনির উত্তরপত্র পরিবর্তন করে বিকৃত করে জমা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ কারণে ফারিয়া পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফারিয়াসহ তার পরিবার।

এ ব্যাপারে ফারিয়া বলে, ‘আমি ফসিয়ার স্যারের আক্রোশের শিকার। তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখানসহ উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় স্যার আমাকে ব্যবহারিক বিষয়গুলোতে কম নম্বর দিয়েছেন। তিনি পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকায় এ সুযোগ পেয়েছেন। আমি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

ফারিয়া আরো বলে, ‘ফসিয়ার স্যার আমাদের বিদ্যালয়ে থাকাকালীন আমাকে প্রায়ই উত্যক্ত করতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে মেহেরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। পরে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।’

নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ফিরোজ কিবরিয়া বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে ফরিয়ার ফলাফল খারাপ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

ফারিয়ার বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা সাবিনা আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়ে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিসহ প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কখনো প্রথম, কখনো দ্বিতীয়স্থান অর্জন করে এসেছে। একজন শিক্ষকের কুদৃষ্টির কারণে আমাদের মেয়ে এসএসসিতে ফেল (অকৃতকার্য) করেছে। প্রধানমন্ত্রীসহ জাতির কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করছি। ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক যেন এমন আচরণ না করেন।’

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনি মোহন বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

এদিকে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের ব্যাপারে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও এসএসসি পরীক্ষা কমিটির প্রধান মনিরা সুলতানা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফসিয়ার রহমানই ফারিয়াকে ব্যবহারিকে কম নম্বর দিয়েছেন। এ ব্যাপারে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওয়ায়েজ উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে তিনসদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত শিক্ষক ফসিয়ার রহমান বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মতামত