টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আইএসআইএসের হত্যার টার্গেটে ভিআইপিরা

issচট্টগ্রাম, ৩১  মে (সিটিজি টাইমস) : “নতুন জঙ্গি সংগঠনের টার্গেট বাংলাদেশে খেলাফত প্রতিষ্ঠা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা করা। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস-এর আদলে বাংলাদেশে গঠিত নতুন সংগঠনটির নাম জুনুদ আল তাওহীদ ওয়াল খিলাফাহ।”

রবিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম এসব তথ্য জানান। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানার বারিধারা ডিওএইচএসের নিজ বাসা থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা শেখ নাজমুল আলম দাবি করেন, “গ্রেপ্তারকৃত আবদুল্লাহ আল গালিব সদ্য নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সহ-সমন্বয়ক ছিলেন। বর্তমানে তিনি আইএসআইএস-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। বারিধারার নিজ বাসায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগঠনের প্রচার, অর্থ ও কর্মী সংগ্রহ এবং তাদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দেন গালিব।”

এছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা অবনতি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা করে খিলাফত প্রতিষ্ঠার সহ-সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের অনেক সদস্য তৎপর।

গ্রেপ্তারকৃত গালিবের বরাত দিয়ে এ ডিবি কর্মকর্তা বলেন, “গালিব এর আগে হিযবুত তাহরীরের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘জুনুদ আল তাওহীদ আল খিলাফাহ’নামে আইএসআইএসের আদলে বাংলাদেশে নতুন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের টার্গেট বাংলাদেশে বর্তমান সরকারকে উৎখাত ও খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও তাদের হত্যার টার্গেটে রয়েছেন।”

নাজমুল আলম বলেন, “আরো ১০-১২ জন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্য নিয়ে গোপনে বৈঠক করছিলেন গালিব। তাদের নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসআইএসের সদস্য সংগ্রহ এবং কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের কাজ করেন তিনি। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গালিবের অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়।”

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির নজরদারিতে তারা থাকলেও কীভাবে পালিয়ে গেল- এ প্রশ্নের জবাবে অভিযানের তত্ত্বাবধানকারী ডিবির এডিসি শাহাজাহান বলেন, “ঘটনাস্থলে যেতে দুই-তিন ঘণ্টা সময় লাগে। কোনোভাবে টের পেয়ে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গালিবকে গ্রেপ্তারের সময় তার পাসপোর্ট, চারটি কম্পিউটার হার্ডডিস্ক, দুটি পোর্টেবল হার্ডডিস্ক, ১০টি সিডি, ‘মেড ইন পাকিস্তান’ লেখা একটি টুপি, একটি সিপিইউ, বিভিন্ন লেখকের জিহাদের উদ্বুদ্ধকরণ সংক্রান্ত ৪৩টি বই ও মঈনুল ইসলাম নামে মাসিক তিনটি পত্রিকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত গালিবের বাবা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবদুল্লাহ ওরফে খোকন। গ্রামের বাড়ি যশোর জেলায়। একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘এ’ এবং ‘ও’ লেভেল পড়াশোনা শেষ করেন। বর্তমানে তিনি আতরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ১৫ মিনিটর তিন সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা উপস্থাপন করা হয়। তাতে মুখোশধারী প্রায় ১০ জনকে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যায়। এ ভিডিও বার্তাটিও অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয় এবং এটি ইন্টারনেটে ফেসবুক ও বিভিন্ন ব্লগে ‘আত-তাহরীদ মিডিয়া’র নামে গালিব প্রচার করেন বলে জানায় ডিবি।

সংবাদ সম্মেলনের আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সাইবারটিমের) মো. শাহজাহান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন।

মতামত