টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রোজাকে কেন্দ্র করে অস্থির পেঁয়াজের বাজার

ত এক সপ্তাহ যাবৎ খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

piচট্টগ্রাম, ৩০  মে (সিটিজি টাইমস) : রোজা শুরু হতে এখনও বাকি প্রায় ২০/২২ দিন। কিন্তু রোজাকে কেন্দ্র করে বাজারে এখনই বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। ২৬ টাকা কেজি দরের দেশি পেঁয়াজ মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে বর্তমানে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। রোজা শুরু হতে-হতে এই পেঁয়াজের দর কত টাকা কেজি দরে গিয়ে ঠেকবে, তা কেউই বলতে পারছেন না। তবে কেউ এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরবরাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করলেও এর কারণ জানাতে পারেননি। রাজধানীর কয়েকটি বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির জন্য এই সময়টিকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছে। রোজা শুরু হওয়ার মাস খানেক আগের এই সময় সাধারণত সরকারি লোকজন বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, টিসিবি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এবং জেলা প্রশাসন বাজার নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও কৌশল নিয়ে মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। এই সময়টিতে সাধারণত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম স্থবির থাকে। রোজা শুরু হওয়ার ১৫/২০ দিন আগে বিশেষ করে শবে বরাতের পর থেকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা বাজার মনিটরিংয়ে নামে। তাই কোনও কারণ ছাড়া মূল্য বাড়িয়ে অযৌক্তিক মুনাফা করার জন্য এই সময়টিকে বেছে নিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

গত এক সপ্তাহ যাবৎ খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে শান্তিনগর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আমজাদ ট্রেডার্সের মালিক সানোয়ার হোসেন  জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। তাই পেঁয়াজের দর বাড়তির দিকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আবদুল হাতেম মজুমদার  জানান, সাপ্লাই নেই। তাই দাম বেড়েছে। কিন্তু কেন সাপ্লাই নেই, কী কারণে সাপ্লাই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলো, তার কোনও জবাব নেই এই পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে।

উল্লেখ্য, পেঁয়াজের দর যে এত বেড়েছে, তা আদৌ জানেন না বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গত ১৯ মে মঙ্গলবার সচিবালয়ে পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উৎপাদনকারী, পাইকারি বিক্রেতা ও পরিশোধনকারীদের বৈঠকে সাংবাদিকরা পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২২ লাখ টন। প্রতিমাসে গড়ে ১ লাখ ২০ হাজার টন প্রয়োজন হয়। রোজা ও ঈদের সময় পেঁয়াজের এই চাহিদা কিছুটা বাড়ে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এ বছর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৯ লাখ টন। ভারত থেকে আমদানি করা হয় ৫ লাখ মেট্রিক টন। এরপরও বেড়ে যাচ্ছে পেঁয়াজের দাম।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুসারে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজের এলসি খোলার বিপরীতে ৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। এত কিছুর পরও প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ ১৫/২০ দিন আগেও পেঁয়াজের কেজি ছিল ২৪ থেকে ২৬ টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, রমজান উপলক্ষে বাজারে কোনও পণ্যের মূল্য বাড়বে না। রমজানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যেরই মজুদ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। অতীতের মতো এবছরও রোজায় ক্রেতা সাধারণ স্বাচ্ছন্দ্যে বাজার করতে পারবেন। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত