টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে থানার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল আ’লীগ নেতা!

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৯ মে (সিটিজি টাইমস) : মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী বারইয়ারহাট পৌরসভার মাদক স¤্রাট মো. সোহাগকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বারইয়ারহাট পৌর আওয়ামীলীগ নেতা রেজাউল করিম খোকনের বিরুদ্ধে। এসময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ৯টায় উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার ছালেহ বোডিংয়ের নিচে এঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সোহাগের বাড়িতে অভিযান চালায়। 

জোরারগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জোরারগঞ্জ থানার তালিকাভুক্ত চার মামলার পলাতক আসামী মাদক সম্রাট সোহাগকে ধরতে বারইয়ারহাটের ছালেহ বোডিংয়ের নিচে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার বিপুল চন্দ্র দেবনাথ, এসআই মাঈন উদ্দিন, এসআই মনির, আবদুল্লাহ সহ আরো কয়েজজন পুলিশ সদস্য অংশ নেন। এএসআই আবদ্দুল্লাহ ও মনির সোহাগকে ঝাপটে ধরলে সে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের অন্য সদস্যদের সাথে তার ধাক্কা ধাক্কি হয়। এসময় বারইয়ারহাট পৌর আওয়ামীলীগের সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা রেজাউল করিম খোকন তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে পুলিশের কাছ থেকে সোহাগকে ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করে জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মনির। ধাক্কা ধাক্কিতে পুলিশের দুই কর্মকর্তা এসআই মনির ও আবদুল্লা সামান্য আহত হয় বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী সোহাগের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় অস্ত্র, মাদক, মারামারি সহ চারটি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে একটি মামলায় সে জামিনে রয়েছে। চলতি বছরের একাধিকবার তাকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালায় জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। সোহাগ বারইয়ারহাটসহ এর আশপাশের এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরির্দশক মনির জানান, সোহাগকে ধরার পর আওয়ামীলীগ নেতা রেজাউল করিম খোকন তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে রাত সাড়ে ১১টার সময় তাকে বারইয়ারহাট বাজারের কলার আড়তের সামনে থেকে সোহাগকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসি।

এ বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা রেজাউল করিম খোকন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমার অফিসের নিচে সোহাগকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে পুলিশ। হৈচৈ শুনে আমি ৩য় তলা আমার অফিস থেকে নিচে নেমে আসি। একপর্যায়ে পুলিশের হাত থেকে সোহাগ পালিয়ে যায়। পরে থানার ওসির সাথে আলোচনা করে রাত সাড়ে ১১টার সময় সোহাগকে থানায় নিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করি।

এ ব্যপারে বক্তব্য জানতে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেননি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত