টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফিফা কেলেঙ্কারি: ইসরায়েলকে রক্ষাই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য?

fifa-spচট্টগ্রাম, ২৮ মে (সিটিজি টাইমস) :: যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই পরিচালিত ফিফার দুর্নীতি-সংক্রান্ত তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছে ‘হঠাৎ’ দুর্নীতির ঘটনা ফাঁস হওয়া নিয়েও।

ইসরায়েলকে বিশ্ব ফুটবলের এই সংস্থা থেকে বাদ দিতে ফিলিস্তিন যে দাবি জানিয়ে আসছিল তার শুনানি ২৮ ও ২৯ মে জুরিখে অনুষ্ঠিত ফিফার কংগ্রেসে হওয়ার কথা ছিল। তার ঠিক আগের দিন দুর্নীতির খবর প্রচার ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আওতায় নিয়ে আসাকে নিছক ‘দুর্নীতি বিরোধী অভিযান’ হিসেবে দেখছেন না অনেকে। রাশিয়াকে বেকাযদায ফেলাও তাদের উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল বলে ভাবা হচ্ছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের তুমুল জনপ্রিয়তাও আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠছিল অন্যান্য খেলার সত্ত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রবাসীর ফুটবল ’আসক্তি’ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) চলতি বছর ২০ মার্চ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ এনে ফিফা থেকে তাদের বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। ২৯ মে অনুষ্ঠিতব্য কংগ্রেসে ফিফার ২০৯ সদস্য ভোটের মাধ্যমে ইসরায়েলে ভাগ্য নির্ধারণের কথা ছিল। ঠিক সেই সময়ে এফবিআই ফিফার দুর্নীতির খবর প্রচার করল। এতে করে ফিফার আসন্ন কংগ্রেসে ইসরায়েলের থাকা-না থাকার প্রশ্নে ভোটের আয়োজন হচ্ছে না বলেই ধরে নেওয়া যায়।

এর আগে ফিফা সভাপতি যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের রামাল্লার ওয়েস্ট ব্যাংক ঘুরে আসেন। সেখানে দেশটি নেতা মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে তিনি দেখা করেন। প্রকাশ্যে ভাষণও দেন ব্ল্যাটার। ইসরায়েল বিষয়ে ফিফা সদস্যদের ভোটে ২৯ মে সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানিয়ে আসেন।

ইসরায়েলকে বাদ দেওয়ার যে দাবি ফিলিস্তিনের তা পূরণে অন্তত ৭৫ শতাংশ ভোটে প্রয়োজন। ইউরোপসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে ইতোমধ্যেই ইসরায়েল প্রশ্নে তাদের আপত্তি ও অস্বস্তি প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনে নির্বিচার হামলা তাদের এই মত গঠনে ভূমিকা পালন করেছে। ফলে ভোটে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ইসরায়েলে পক্ষে কম ছিল। আর সেসময় এমন দুর্নীতি আবিষ্কারকে মোক্ষম চাল হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফিফার উপর যুক্তরাষ্ট্রের যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই- ইসরায়েলকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নে ভোট অনুষ্ঠানের আযোজনেই তা প্রমাণিত হয়। এই তদন্তের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ফিফাকে তাদের আওতায় নিয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ১১৯০ সালেই ফিফার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল।

এসব দুর্নীতির ঘটনাও কম-বেশি সবাই জানে। বিশ্বের বিভিন্ন বাণিজ্যিক মহারথিরা এর সঙ্গে যুক্ত। তারপরও এবারের কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর কোকাকোলাসহ বিভিন্ন মার্কিনী ও ইহুদি মালিকানার প্রতিষ্ঠান ফিফার ’অসততার’ বিরুদ্ধে এক জোট হয়েছে। এসব ঘটনা ইসরায়েলকে রক্ষার কৌশলকেই মনে করিয়ে দেয়।

মতামত