টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কিশোরী ধর্ষন: রাঙ্গুনিয়ার ওসি-এস আই’র বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের মামলা

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৭ মে (সিটিজি টাইমস) ::  চাঞ্চল্যকর কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হুমায়ন কবির এবং এস আই মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় উভয়ের বিরুদ্ধে মামলার আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বুধবার ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক মো. জাকির হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদির আইনজীবী এরশাদুর রহমান বলেন, বাদির দাখিল করা অভিযোগ ফেলে দিয়ে নতুন করে অভিযোগ লিখে সেখানে বাদির স্বাক্ষর নিয়েছেন ওসি ও এস আই। অভিযুক্ত দু’জন ধর্ষণের আলামতও নষ্ট করেছেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে সোমবার (২৫ মে) ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ অভিযুক্ত ধর্ষক মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান মো.আলী শাহ এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকার বিষয়টি উল্লে আছে। তবে বুধবার দায়ের করা মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে আসামি করা হয়নি।

উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার সরকারি গাড়িতে করে অভিযুক্ত ধর্ষক মো.শাহ আলমকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। আর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা টাকার বিনিময়ে শাহ আলমকে বাদ দিয়ে ধর্ষিতার বড় ভাইকে ধর্ষক সাজিয়ে গ্রেপ্তার করেছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মিনাগাজীর টিলা এলাকার প্রভাবশালী শাহআলম তার প্রতিবেশি ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ফুসলিয়ে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। এতে কিশোরী অন্ত:স্বত্তা হয়ে পড়লে শাহ আলম তার মায়ের উপর চাপ সৃষ্টি করে গর্ভপাত ঘটান।

গত ৭ মে রাতে কিশোরীর মা রাঙ্গুনিয়া থানায় শাহ আলমকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ৮ মে রাতে শাহ আলমকে পুলিশ আটক করে। আদালতে দাখিল করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাঙ্গুনিয়া থানার এস আই মো. মুজিবুর রহমান আসামি শাহ আলমকে রাত ৮টার দিকে থানায় ধরে নিয়ে যায়। পরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় ওসি হুমায়ন কবির ও এস আই মুজিবুর রহমান তার (শাহআলম) পরিবারের সাথে হাত মিলিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রাত ২টায় তাকে ছেড়ে দেয়। বাদিনীকে না জানিয়ে রাত ২টার দিকে শাহ আলমকে উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহ’র গাড়িতে করে ওসি ও এস আই মিলে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। বাদিনী এবং ভিকটিমকে থানায় রেখে দেয়। ৯ মে বাদিনী শাহআলমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিয়েছে সেটা ছিঁড়ে নতুন করে একটি অভিযোগে স্বাক্ষর নেয় যেখানে শাহআলমের নাম নেই। ৯ মে ভিকটিমের ১৪ বছর ৬ মাস বয়সী বড় ভাই তাকে থানায় দেখতে এলে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে নিজের বোনকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করে। বাদিনীর অভিযোগ, তার ছেলেকে ভুল বুঝিয়ে ও হুমকি দিয়ে পুলিশ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আদায় করেছে। ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠার পর তা গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। পরে গণমাধ্যমে নেপথ্যের কাহিনীও উঠে আসলে সোমবার ধর্ষিতা কিশোরীর মা বাদি হয়ে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত