টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শরনার্থী ক্যাম্প ভিত্তিক মানবপাচারকারী গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ২৭ মে (সিটিজি টাইমস) ::  টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের অনেকে অবৈধভাবে সাগর পথে মালিয়েশিয়া পাড়ি জমিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে মালয়েশিয়া অবস্থান করলেও বাদ পড়েনি রেশন বুক থেকে। অনুপস্থিত ওই মালয়েশিয়া অবস্থানকারী ব্যক্তির রেশন তুলে ভোগ করছেন পরিবার। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প ভিত্তিক মানবপাচারকারী গডফাদাররা নিরাপদে ক্যাম্পে অবস্থান করে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এসব দালালদের মাধ্যমে সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে অনেকের সলিল সমাধি ঘটেছে। ওইসব মানবপাচারকারীর দালালদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভাবে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেয়ায় দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্যাম্পের একাধিক সুত্রে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নয়াপাড়া শরনার্থী শিবিরে একটি শক্তিশালী মানবপাচারকারী সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে গোটা ক্যাম্পে প্রভাব বিস্তার করে আসছে । তম্মধ্যে ই-ব্লকের মোহাম্মদ সিরাজ (এমআরসি নং-৬১০৯৯), সি ব্লকের সোনা আলীর ছেলে নজিম উদ্দিন ওরফে লালু (এমআরসি নং জেড-৩১৩৫), মোহাম্মমদ সালামের ছেলে হাসন আলী (এমআরসি নং- ০৩০৮১, বর্তমানে বিএমসি), আবদুল হাকিমের ছেলে জমিল আহাম্মদ (এমআরসি ২৮৬০১, বর্তমানে বিএমসি সভাপতি), নুরুল হক দোকানদার ও তার স্ত্রী লাইলা বেগম, এইচ ব্লকের মোহাম্মদুল হাসান, আমান উল্লাহ আনু, ইন্নামিনের ছেলে আবদুর রাজ্জাক অন্যতম মানবপাচারকারী বলে ক্যাম্পে জনশ্রুতি রয়েছে। এরা মানব পাচার সিন্ডিকেটের পাশাপাশি শিবিরের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করে সাধারন রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে রাখে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সহসাই সাহস করেনা।

উক্ত ওইসব মাবপাচারকারীদের মাধ্যমে বর্তমানে অনেকে মালয়েশিয়া পাঁড়ি জমিয়েছে এবং অনেকে পাঁড়ি দিতে গিয়ে সাগরে সলিল সমাধি ও নিখোঁজ রয়েছে। মালয়েশিয়া পাড়ি দেয়া ব্যক্তিরা হচ্ছে সি ব্লকের ৮৭৫ নং শেডের ৩/৪ রুমের আলী হোসাইনের ছেলে আলী জোহার ও মোহাম্মদ জোহার, ৮৯২ শেডের ৬ নং রুমের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে মোঃ ইব্রাহীম, তার ভাই মোঃ জোবাইর ও সাবের আহমদ, সি ব্লকের ৮১৪/৬ নং শেডের নীর আহম, সি ব্লকের ৮৬৯/১ নং শেডের মোঃ ইব্রাহীমের ছেলে মোঃ নুর, ৮৭১ নং শেডের ২ ও ৩ নং রুমের হাফেজ আহমদ, বি ব্লকের নজির আহমদের ছেলে মোঃ আনিস, সি ব্লকের লুবেদার স্বামী মোঃ কাসিম, সি ব্লকের ৮৫৭/১ নং শেডের মোঃ ফয়েজের ছেলে জিয়াউর রহমান, ই-ব্লকের শাহ আলমের ছেলে বেলাল হোসাইন, ৮৭৬/৫ নং শেডের আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেরে মোঃ ইউনুছ, বি- ব্লকের শহা আলম মাঝির ছেলে মোঃ উসমান, মোঃ ইউসুফের ছেলে মোঃ সাদেক, ডি ব্লকের বলির মেয়ে আরজিনা বেগম, কালা মিয়ার ছেলে জানে আলম, ৮৭৭/৩ নং শেডের আমিনার স্বামী রশিদ আহমদ, ১০০৯/৪ নং শেডের মকবুল হোছাইনের ছেলে মোহাম্মদ জাফর, বি-ব্লকের সৈয়দ হোসেনের ছেলে সামশুল আলম, মনজুর আলম, নুর আলম, নজির আহমদের ছেলে কালা মিয়া ও লাল মিয়া, রউন বুইজ্ঝার ছেলে শামসুল আলম, আহমদ শরীফের ছেলে হাসু মিয়া, পি-ব্লকের জাফর হোছন ওরফে কালা মাঝির ছেলে মোঃ জোবাইর, আরিফ উল্লাহ, আবদুল জব্বারের ছেলে শরীফ উল্লাহ, সি-ব্লকের ৮২৮/২ নং শেডের আবদুল জলিলের ছেলে আবদুল কাদের, ৮৮০/৪ নং শেডের মাহমুদার স্বামী মোঃ হোছাইন, বি-ব্লকের মোঃ শফিকের ছেলে আবদুর রহমান, জাফর হোছাইনের ছেলে মোঃ রবি, ই-ব্লকের আবদুল মালেকের ছেলে মোঃ ইউনুছ, সি-ব্লকের জামিল আহমদের ছেলে দল্লা, ৮৮৭/২ নং শেডের মোঃ হারুনের ছেলে মোঃ ইসমাইল, ৮০৪/১ নং শেডের মোঃ আলমের ছেলে জামিল আহমদ, ৮৮৬/২ নং শেডের মোস্তফা খাতুনের স্বামী মোঃ আবদুল্লাহ ও বি-ব্লকের আবদুল মালেকের ছেলে মোঃ সাদেকসহ অসংখ্য নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরনার্থী মালয়েশিয়া চলে গিয়াছে।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, একই পরিবারের ২ থেকে ৪ জন, কারও স্বামী, কারও ভাই, বোন মালয়েশীয়া পাড়ি জমিয়েছে। অনেকে নিজের পুত্র, কন্যা ও স্বামীকে হারিয়ে নিরবে চোখের জল ফেলছে। এসব ছেলে, স্বামী ও বোন হারানো ভূক্তভোগীরা মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের ভয়ে মূখ খোলতে পারছেনা কেউ। ক্যাম্প প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে গেলে সেখানে রয়েছে সিন্ডিকেটের লোক। ফলে ভিড়তে পারেনা প্রশাসনের ধারে কাছেও। শিগগিরই এসব মানবপাচারকারী রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ছেলে, স্বামী ও কন্যা হারানো ভূক্তভোগী ভিকটিমের পরিবার। পাশাপাশি নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়া গিয়েও কিভাবে রেশন পায় তাও খতিয়ে দেখার বিষয় বলে মনে করেন সচেতনমহল।

এব্যাপারে নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পের ইনচার্জ জালাল উদ্দিনের (০১৮৫৯ ৬৭৭১৬৬) সাথে কয়েকবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া শরনার্থী শিবিরে ১৫ হাজার ২৪৯ জনসহ মোট ২৫ হাজার ৮৫২ জন নিবন্ধিত মিয়ানমার শরনার্থী অবস্থান করছে। নিবন্ধিত শরনার্থীর সঙ্গে যুক্ত পরিবারের প্রায় আরো ৫ হাজার শরনার্থী শিবিরে অবস্থান করছে বলে সুত্রে জানা গেছে।

মতামত