টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টাকা কামাতে মনির যৌন ফাঁদ

110128_1চট্টগ্রাম, ২৬ মে (সিটিজি টাইমস) : অর্থ কামানোর জগতে কত রাস্তা! বৈধ-অবৈধ বিভিন্নভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার খবর হামেশায় পাওয়া যায়। ধরা খেয়ে যেমন উঠে আসল টাকা কামাতে মনি আক্তারের যৌন ফাঁদের খবর।

পুলিশের ডেরায় থেকেই হম্বি- ‘তোরা আমার কিচ্ছু করতে পারবি না। পুরুষ মানুষ আমার চেনা আছে। সুযোগ পেলেই শালার বিছানায় শুতে চায়। ছাড়িয়ে নিতে লিডারদের খবর দিয়েছি, ওরা আসলে দেখবি আমি গাড়িতে করে চলে যাচ্ছি।’

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর হালীশহরের শান্তিবাগ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ২৩ বছর বয়সী মনি আক্তারকে দুই পুরুষ সহযোগীসহ আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- রনি (২৮) ও লিটন (২৫)।

মণি আক্তার সব সময় নিজের বয়স আর চেহারা দিয়ে পুরুষদের আকর্ষণ করতেন। ফোন করে বাসায় ডেকে এনে আপত্তিকর ছবি তুলতেন তিনি। তারপর সেই ছবি দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করতেন।

নগরীর ব্যবসায়ী শ্রেণীই ছিল মনি আক্তারের প্রধান টার্গেট। চট্টগ্রামসহ সারাদেশের অন্তত ১০০ ব্যক্তিকে এভাবে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

আটকের পর পুলিশকে মনি জানিয়েছেন, তার সঙ্গে আরো ১০ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর ও খুলশী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তারা এভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

আর গত রবিবার গভীর রাতে এমনই এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন মনি আক্তার। এরপর বেরিয়ে আসে তার অন্ধকার জগতের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশের ভাষ্যে, যার সঙ্গে পরিচয় হতো, তাকেই কিছুদিনের মধ্যে মনি বিছানায় যাওয়ার প্রস্তাব দিতেন। এরপর তাকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে তা দিয়ে ব্লাক-মেইল করতেন তিনি।

তবে গত রবিবার মোস্তফা গ্রুপের ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে কম টাকায় প্লট বিক্রির লোভ দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন কাজল নামের এক ব্যক্তি। মনির লোক কাজল প্রথমে শাহাদাতকে মনির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

এরপর মনি কথা বলার ছলে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে শাহাদাতকে নগ্ন হতে বাধ্য করে। এ সময় তার সহযোগীতরা মনির সঙ্গে শাহাদাতের আপত্তিকর ছবি তুলতে থাকে। শাহাদাত এ ঘটনা থেকে বাঁচার আকুতি জানালে তাকে দুই লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানায়।

শাহাদাত বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে বিকাশের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ২০,০০০ টাকা পাঠানো হয়। আরো টাকা আদায়ে মনি ও তার চক্রের সদস্যরা তাকে ওই বাড়িতে আটকে রাখে।

এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করার পর পুলিশ তদন্তে নামে। তারা কৌশলে মনির সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা পরিশোধ করার কথা জানায়। রনি নামে প্রতারক চক্রের আরেক সদস্য চট্টগ্রামের বড়পুল এলাকায় তাসফিয়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে টাকা নিতে এলে পুলিশ তাকে আটক করে।

এরপর রনির স্বীকারোক্তিতে মনির বাসা থেকে শাহাদাতকে উদ্ধার করা হয়। মনি ও লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা তিনজন জানান, এ ঘটনার সঙ্গে এরশাদ ও মামুনসহ আরো বেশ কয়েকজন জড়িত।

এ বিষয়ে খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, মনি পুরুষদের ব্ল্যাকমেইলিং করতে ওস্তাদ। সে তার রূপের মোহে অনেক মানুষকে নিঃস্ব করেছে বলে জেনেছি।

তিনি বলেন, মনি স্বীকার করেছে, টাকার বিনিময়ে ছেলেদের বাসায় ডেকে এনে কাপড়চোপড় খুলে আপত্তিকর ছবি তুলতো সে।

সুকান্ত বলেন, আমরা ধারণা করছি মনির সঙ্গে আরো অনেকে রয়েছেন। যেখানে অনেক উঠতি মেয়েও থাকতে পারে। পুরো চট্টগ্রাম শহরে তাদের বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। অপকর্মের কাজে তারা ইয়াবা ও ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করে।

প্রতারণার শিকার শাহাদাত বলেন, মানসম্মানটা উদ্ধার করতে পেরেছি, তাতেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। তা না হলে ব্ল্যাকমেইলিং করে ওরা আমাকে সারা জীবন ধ্বংস করে দিতো।

তিনি বলেন, ‘আমি জমি কেনার ফাঁদে পা দিয়ে এ ঘটনার শিকার হয়েছি। মনি ও তার সহযোগীরা আমার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন সেট, মানিব্যাগ, ৫,০০০ টাকা ও ব্যাংকের দুটি ক্রেডিট কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে।’

ঘটনার পরপরই মনিকে খুলশী থানায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় সে চিৎকার করে পুলিশ ও সাংবাদিকদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। রাগ ঝাড়তে দেখা যায় পুলিশের উপরও।

তখনই মনি আক্তার বলতে থাকেন, ‘তোরা আমার কিচ্ছু করতে পারবি না। পুরুষ মানুষ আমার চেনা আছে। সুযোগ পেলেই শালার বিছানায় শুতে চায়। ছাড়িয়ে নিতে লিডারদের খবর দিয়েছি, ওরা আসলে দেখবি আমি গাড়িতে করে চলে যাচ্ছি।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত