টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজান পথেরহাটের দুটি মসজিদ পুকুর ব্যবহার অযোগ্য, মুসল্লিদের দূর্ভোগ

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি

RAOZAN-PATHERHAT-NEWS-PICy-চট্টগ্রাম, ২৬ মে (সিটিজি টাইমস) :: চট্টগ্রামের রাউজান দক্ষিণ অংশের ৮টি ইউনিয়নের লোকজন, স্কুল কলেজ মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রী হাসপাতাল ব্যবসা বাণিজ্য ব্যাংক বীমা সহ নানামুখি কর্মকান্ডে নোয়াপাড়া পথেরহাটের বিশাল বাজারের এই স্থানটি জনগুরুত্বপূর্ণ।

নোয়াপাড়া পথের হাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি পুকুর জলাশয় থাকলেও এই গুলোর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিচ্ছন্নতার অপব্যবহার ময়লা আবর্জনা ফেলাসহ নানা কারণে পুকুর দুটির পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পথের হাট সংলগ্ন দুইটি মসজিদের পুকুরে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পূর্বে হাজারও লোকজন অজু করে ময়না দুষিত পানিতে। গত বছর এ নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে আর্বজনা ফেলার দায়ে কয়েক দোকানদার থেকে জরিমানা আদায় করে আর আর্বজনা ফেলবেনা মর্মে মুছলেকা নেন। কিন্তু দুদিন না যেতে আবার শুরু হয় আবজর্না ফেলা।

এই প্রসঙ্গে নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাফর ইকবার ও আবুল ফয়েজ জানান, পুকুরের পানিতে ময়লা যুক্ত হয়ে পড়ায় পানি মুখে নেওয়ার মতো অবস্থা নেই। পানির রং অনেকটা পরিবর্ত হয়ে উঠেছে। এদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুকুর জলাশয়ের ব্যবহার ও অপব্যবহার এবং দূষণের মাত্রাও তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বসবাসের জায়গার সংকীর্ণতা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই তুলনায় পুকুর জলাশয় বাড়ছে না। ফলে এগুলোর উপর বেশী নজর দেওয়া প্রয়োজন। এই জলাশয়গুলোতে নানা অপব্যবহার ও ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র ফেলার কারণে পরিবেশ বিপর্যয়সহ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে জলাশয়ের পানি ব্যবহারে নানা রোগ জীবানু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান স্কুল মার্কেটের পুর্ব পাশে এক চা দোকানদার এ দোকানের পেছনে প্রশ্রাব খানা বানিয়েছে। এতে লোকজন নিয়মিত প্রশ্রাব করে চলেছে। এসব পুকুরের পানিতে গিয়ে পড়ছে।

এদিকে বাজারের উত্তর পার্শ্বের ভুমি অফিসের মসজিদ পুকুরটির পাসে বসে সি.এন.জি চালকরা নিয়মিত প্রশ্রাবসহ নানা আবর্জনা নিক্ষেপ করছে য্ াপুকুরের পানিতে গড়িয়ে পড়ছে। এই পানি ব্যবহার করছে শত.শত লোকজন। এই এলাকায় বহুতল মার্কেট গড়ে উঠলেও পানি ও বাতাসের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে। ছোট বড় জলাশয়গুলো ভরাট ও অবৈধ দখল করে দোকান নির্মাণের ফলে বড় ধরণের অগ্নিকান্ড সৃষ্টি হলে পানির অভাবে অগ্নিনির্বাপনের ব্যাপক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এরিমাঝে নিজেদের গড়া বায়ুদূষণ, অপরিচ্ছন্নতা আমাদের স্বাস্থ্যকে নিজেরায় হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছি। তাই এই এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে বুঝতে হবে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া নিজেদের টিকে থাকা অসম্ভব। একারণে নিজেদের স্বার্থেই বসবাসের চারপাশের জলাশয়গুলো বাঁচিয়ে রাখার কোন বিকল্প নেই। তাই অনেকেই বলেন স্থানীয় প্রশাসনের উচিত দক্ষিণ রাউজানের প্রাণকেন্দ্র নোয়াপাড়া এলাকার সব পুকুর জলাশয় আবর্জনা মুক্ত ও সংরক্ষণে কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত