টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কিশোরী ধর্ষন: অভিযুক্ত শাহ আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি টক্ অব্ দ্যা রাঙ্গুনিয়া

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

unnamedচট্টগ্রাম, ২৫ মে (সিটিজি টাইমস) :: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দরিদ্র রিক্সা চালক কবির আহমদের কিশোরী কন্যা ধর্ষনের ঘটনায় অবশেষে অভিযুক্ত শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ধর্ষিতার মা। অভিযুক্ত শাহ আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি এখন টক্ অব্ দ্যা রাঙ্গুনিয়া। কিশোরী ধর্ষনের ঘটনা নতুন মোড় নিচ্ছে। ফেঁসে যাচ্ছেন ধর্ষকসহ জড়িতরা। এদিকে প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ধর্ষিতার পরিবার।

ধর্ষিতার মা নুরুন নাহার বেগম জানান, সোমবার (২৫ মে) চট্টগ্রাম আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে প্রভাবশালীদের সহায়তায় ষাটোর্ধ্ব শাহ আলমকে বাঁচাতে ১৪ বছর বয়সি ভাইকে ১১ বছর বয়সি বোনের ধর্ষক সাজিয়ে মামলা দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রোববার হাইকোর্টের সংম্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে সোমবার রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলমসহ জড়িতদের গ্রেফতার করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ধর্ষিতার মা কর্তৃক রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণে অস্বীকার করা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন ।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

এ ছাড়া ধর্ষণে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসিকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রুল জারি করা হয়েছে।

জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী ১৫ জুন রাঙ্গুনিয়া থানার ওসিকে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের আইজিপি, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, রাঙ্গুনিয়া থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের রুলে বিবাদী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়নের মিনাগাজীর টিলা এলাকায় ১১ বছর বয়সি মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় শাহ আলমের (৬০) বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে পুলিশ শাহ আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মধ্যরাতে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। পুলিশ মূল অভিযুক্ত শাহ আলমকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। পরদিন ১০ মে ধর্ষিত শিশুটির বড় ভাই সফুর আহাম্মদ (১৪) এবং ধর্ষিত শিশুটিকে আটক করে নিয়ে যায় শিলক তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ। এরপর সেখানে সফুর আহাম্মদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে নিজ ছোট বোনের ধর্ষক হিসেবে স্বীকারোক্তি আদায় করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। ভাইকে বোনের ধর্ষক সাজানোর নেপথ্যে থানা পুলিশসহ প্রভাবশালী নেতা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ কৌশলে ধর্ষিতার মাকে বাদী করে নিজ পুত্রের বিরুদ্ধে মামলা দিতে বাধ্য করলেও সোমবার চট্টগ্রাম আদালতে শাহ আলমের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করেছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত