টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আনসারুল্লাহর দৃষ্টি এবার মাদ্রাসায়

indexচট্টগ্রাম, ২৪ মে (সিটিজি টাইমস) :: উগ্রপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিম তাদের শক্তিবৃদ্ধির জন্য এবার মাদ্রাসা ছাত্রদের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। একইসঙ্গে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে জড়িতদেরও দলে ভেড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর আগে আনসারুল্লাহর নেতারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন ছাত্রদের তাদের দলে ভিড়িয়েছে। তবে ইতোমধ্যে মুক্তমনা ও ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিকদের হত্যার দায়ে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, দলটির সদস্যদের অবস্থান জানতে পুলিশ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এবং ফেসবুক পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে দলটির প্রধান জসিম উদ্দিন রাহমানী ও তার ৩১জন অনুসারীকে গ্রেফতার করার পর থেকে এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নতি করা যায়নি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়া ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যার দায়ে দলটির সাত নেতাকর্মী বর্তমানে বিচারের সম্মুখীন। তারা সবাই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্র।

গোয়েন্দারা জানান, আনসারুল্লাহ বাংলাদেশে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গ্রুপ আল-কায়েদা ও তালেবানকে অনুসরণ করে। এছাড়া তারা ছাত্রশিবির এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী হুজি, জেএমবি ও হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে কাজ করে।

পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ বন্ধের নামে বিজ্ঞান লেখক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলামকে হত্যা করার পর অন্য মৌলবাদী ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোও তাদের সমর্থন দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে আনসারুল্লাহর নেতারা ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার মাদ্রাসায় যাচ্ছে। সেখানকার ছাত্রদের তাদের দলে যোগ দেওয়ার আহবান জানাচ্ছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সূত্রে জানা যায়, দলটি মূলত ছাত্রদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে তাদের, যারা ছাত্র-শিবিরের সঙ্গে জড়িত এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব পোষণ করে।

ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রদের মধ্য থেকে যারা প্রযুক্তিতে পারদর্শী, সে রকম প্রায় ১০০ জনকে আনসারুল্লাহ দলে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি জানতে পেরেছি, তারা দলে কিছু মাদ্রাসা ছাত্রকেও নিয়োগ করেছে।’

এ ঘটনার যোগসূত্র খুঁজতে গিয়ে পুলিশ সম্প্রতি আশুলিয়ার ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা উল্লেখ করে জানায়, ওই ঘটনার সঙ্গে মাদ্রাসা ছাত্র এবং ছাত্র-শিবিরের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে তদন্তকারীরা। ওই ঘটনায় এক ডাকাতসহ আটজন নিহত হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চারজন মাদ্রাসা থেকে তাদের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে বর্তমানে ছাত্র শিবিরের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তবে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় তারা অন্য একটি বিশেষ জঙ্গি গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করেছে।’

ওই ঘটনার তদন্তকারী জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে আনসারুল্লাহর জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিম উদ্দিন রাহমানীকে গ্রেফতারের পর ব্লগার রাজীব হত্যায় দায়েরকৃত চার্জশিটের আসামি ও অভিজিৎ হত্যার পরিকল্পনাকারী রেদয়ানুল আজাদ রানা আনসারুল্লাহর নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন রানা অনেক আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

তবে রাহমানীকে গ্রেফতারের পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিলা এলাকার মারকাযুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর গ্রেফতারের পর রাহমানী তার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, তার বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়েই ছাত্ররা রাজীবকে হত্যা করেছে। এখনও ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকে তার বক্তব্যটি রয়েছে।

তদন্তকারীরা বিশ্বাস করেন, ধর্মনিরপেক্ষ ওয়াসেকুর রহমান বাবু ও বিজ্ঞান লেখক অনন্ত বিজয় দাশকেও আনসারুল্লাহর সদস্যরাই হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডে তারা ‘স্লিপার সেল’ ব্যবহার এবং বিভিন্ন সংকেতের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে।

কয়েকদিন আগে একটি অজ্ঞাত গোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও এক সংসদ সদস্যসহ দেশের ১০ জন প্রখ্যাত নাগরিককে হত্যার হুমকি দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আনসারুল্লাহই এ হুমকি দিয়েছে। তবে ডিবি কর্মকর্তারা হুমকিদাতাদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দফতর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে এ গ্রুপটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই সরকার একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রুপটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে।-বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত