টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে কেচো সারের ব্যবহার

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

Mirsarai-pic--2-(-20.5.15.)চট্টগ্রাম, ২৩ মে (সিটিজি টাইমস) : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কেচো সারের ব্যবহার। প্রশিক্ষন, প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা গ্রহন করে বসতবাড়ীর পাশে এ সার উৎপাদন করে অনেকেই ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। সার ব্যবহারের পর আশানুরুপ ফলন পাওয়ায় মিরসরাইয়ের অনেক গ্রামেই শুরু হয়েছে বানিজ্যিক ভাবে কেচো সারের উৎপাদন। মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দেওয়ানপুর গ্রামের বিজলা রানী নাথ স্থানীয় বেসরকারী সংস্থা অপকা থেকে প্রশিক্ষণ ২০০০ কোচো এবং ৪ টি রিং অনুদান হিসেবে পেয়ে শুরু করেন কেচো সারের উৎপাদন। নিজের সব্জী ক্ষেতে এ সার ব্যবহার করে তিনি ভালো ফল পেয়েছেন। এছাড়া তিনি প্রতি কেজী ২০ টাকা দরে ১৫০ কেজী সার বিক্রী করেছেন।

বিজলার মতো আরো অনেক নারী তাদের নিজেদের বাড়ির আঙ্গিনায় বানিজ্যিক ভাবে শুরু করেছেন কেচো সারের উৎপাদন। দূর্গাপুর ইউনিয়নের হাজীশ্বরাই গ্রামের বেলা রানী নাথ, বকুল বেগম, মিনতি রানী পাল, লক্ষী রানী পাল, ননী বালা পাল সহ বিভিন্ন গ্রামের ৩০ জন নারী তাদের বসত বাড়ির আঙ্গিনায় কেচো সার উৎপাদন করে যাচ্ছেন। আর এ কাজে তাদের সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছে অর্গানাইজেশন ফর দ্যা পুয়র কমিউনিটি এডভান্সমেন্ট অপকা নামের স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা।

অপকার টেকনিক্যাল অফিসার (কৃষি) সাবাব ফারহান জানান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন- পিকেএসএফ’র অর্থায়নে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কেচো সার উৎপাদন এবং এর ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছি। গ্রামীন নারীদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে তাদের প্রশিক্ষন এবং উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। ইত্যোমধ্যে প্রশিক্ষিত নারীরা তাদের বাড়ীর আঙ্গিনায় কেচো সার উৎপাদন করে নিজেরা ব্যবহার করে তা অন্যত্র বিক্রীও শুরু করেছেন।

অপকার টেকনিক্যাল অফিসার (মৎস্য) গৌতম বিশ্বাস এবং টেকনিক্যাল অফিসার (প্রানী সম্পদ) ডা. প্লাবন পাল বলেন, কোচো সার উৎপাদন করতে হলে ৪ টি রিংএ আধা শুকনা গোবর এবং ২০০০ কেচো দেওয়া হয়। দিনের বেলায় রিংএর মুখে ঢেকে দিয়ে রাতে খুলে দেওয়া হয়। প্রথম বার কেচো সার উৎপাদন হতে ২৫-৩০ দিন সময় লাগে। পরবর্তীতে পর্যায়ে সময় লাগে ১৫-২০ দিন। কোচো সার উৎপাদন শেষে রিং থেকে সার চালুনি দিয়ে চালা হয়। সার থেকে কেচো আলাদা হয়ে গেলে সেই কেচো পুনরায় গোবার দিয়ে উৎপাদন হয়। কেচো পর্যায়ক্রমে বংশ বিস্তার করে। সার রৌদ্রে শুকিয়ে বস্তা বন্দি করে সংরক্ষন করা হয়। তিন বছর পর্যন্ত সংরক্ষন থাকে এই সার। কেচো সার ব্যবহার হয় সব্জী, মাঠ ফসল চাষে। পুকুরে মাছের খাবার হিসেবে ও এ সার কাজে ব্যবহার করা যায়।

কেচো সার উৎপাদনকারী বিজলা রানী নাথ বলেন, আমরা অপকা থেকে প্রশিক্ষন এবং উপকরণ নিয়ে কেচো সার উৎপাদন শুরু করি। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে গ্রামের বিভিন্ন চাষীদের কাছেও এ সার বিক্রী করা হচ্ছে। এ সার ব্যবহারে ফলন বাজারের অন্যান্য সারের চেয়ে বেশি হয়।
২০১৪ সালে ২০ জন নারী প্রায় ১২০০ কেজী সার উৎপাদন হয়। চলতি বছরে সোনাপাহাড়, ধূম, দেওয়ানপুর, মোবারক ঘোনা, হাজীশ্বরাই, দক্ষিন সোনাপাহাড়, দূর্গাপুর, সহ মোট ১০ টি গ্রামের ৩০ জন নারী সদস্য সার উৎপাদন করছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০০ কেজী উৎপাদন হয়। পুরো বছরে ৬০০০ কেজী সার উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে

অপকার নির্বাহী পরিচালক মোঃ আলমগীর বলেন, দাতা সংস্থা পিকেএসএফ’র সহযোগীতা নিয়ে অপকা কৃষি এবং প্রানী সম্পদ ইউনিটের মাধ্যমে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। কেচো সার উৎপাদনের ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। গ্রামীন জনগন এ সার বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করে কৃষি খাতে বৈপ্লবিক উন্নতি সাধন করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, কেচো সারে জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন ও অন্যান্য উপযোগী উদাপন বেশী পরিমানে থাকে। অনান্য সারের চেয়ে কেচো সার ২৫ শতাংশ কম ব্যবহার করে একই ফলন পাওয়া যায়। কেচো সার উৎপাদনে অপকার কারিগরী ও আর্থিক সহযোগীতা প্রদান মিরসরাইয়ের কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ বলে মনে করেন। প্রকল্প গ্রহনের মাধ্যমে সরকারী ভাবেও কেচো সার উৎপাদন এবং কৃষি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিশ্চিত কল্পে উদ্যোগ গ্রহন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত