টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সিঙ্গাপুরের ছাড়পত্র মিলছে না শিগগিরই!

bnpচট্টগ্রাম, ২১ মে (সিটিজি টাইমস) :: কিডনিতে পাথর ধরা পড়ায় শিলংয়ের সিভিল হাসপাতাল থেকে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে নর্থ ইস্ট ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনস্টিটিউট হাসপাতালে (নেগ্রিমস) স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে তাকে ওই হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার ছাড়পত্র শিগগিরই মিলছে না সালাহ উদ্দিনের।

এ সম্পর্কে বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি জানিয়েছেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদ কিডনি, চর্মরোগ ও প্রোস্টেটের কিছু সমস্যায় ভুগছেন। শিলং সিভিল হাসপাতালে এসব রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সেখানকার চিকিৎসকরা তার জন্য একটি বোর্ড গঠন করেন। বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বুধবার বিকেলে কড়া পুলিশি পাহারায় সালাহ উদ্দিনকে শিলং সিভিল হাসপাতাল থেকে নর্থ ইস্ট ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনস্টিটিউট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে, অনুপ্রবেশের মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের পক্ষে লড়বেন রাজ্য হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এস পি মহন্ত। সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী প্রাক্তন সাংসদ হাসিনা আহমেদ ইতিমধ্যে এস পি মহন্তর সঙ্গে দেখা করে মামলার বিষয়ে পরামর্শ করেছেন। বুধবার সকালে আইনজীবীর বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন হাসিনা আহমেদ।

সিঙ্গাপুরে সালাহ উদ্দিনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জনি জানান, তিনি (সালাহ উদ্দিন) সুস্থ, এমন ছাড়পত্র চিকিৎসকরা দিলেই মামলাটি আদালতে উঠবে। এরপর ভারতের আইন অনুসারে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন যে তাকে ভারতের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেবেন কি না। এর আগ পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। কারণ, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার ছাড়পত্র তো আর চিকিৎসকরা দিতে পারবেন না, ওটা দেবেন আদালত।

দুই মাস ‘নিখোঁজ’ থাকার পর গত ১১ মে শিলংয়ে সালাহ উদ্দিন আহমেদের খোঁজ পাওয়া যায়। সেখান থেকে তিনি স্ত্রী হাসিনা আহমেদকে ফোন করেন। এর মধ্য দিয়ে সালাহ উদ্দিনের নিখোঁজ হওয়ার অবসান ঘটে। কিন্তু তিনি কীভাবে শিলং গেলেন, সেই রহস্য এখনো পর্যন্ত উন্মোচিত হয়নি।

দীর্ঘদিন পর তিনি কীভাবে শিলংয়ে আবির্ভূত হলেন? কারা তাকে নিয়ে গেছে? মাঝখানে ৬২ দিন তিনি কোথায় ছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর জানেন না সালাহ উদ্দিন নিজেও। তিনি বলেছেন, ৬২ দিনের বহু কিছু তিনি মনে করতে পারছেন না। তিনি তাই জানেন না তাকে কারা কোথায় রেখেছিল। এমনকি কারা তাকে এই দীর্ঘপথে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে গেছে, সেটাও তিনি বলতে পারেননি!

সালাহ উদ্দিনের এই ‘স্মৃতিভ্রম’ শিলংয়ের ডাক্তাররা নাকি বিশ্বাস করছেন না। ফলে এতসব রহস্যের কোনো কূলকিনারা হচ্ছে না। এদিকে, শিলং টাইমস সরকারি আইনজীবীদের বরাত দিয়ে খবর দিয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশের আইনে সালাহ উদ্দিন একজন অভিযুক্ত। এ জন্য দুই দেশের মধ্যকার কিছু পদক্ষেপের বিষয়ে হাসপাতালের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

গত ১০ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তার পরিবার ও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত