টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এরা আমাদের ভাই, এদেরকে সাহায্য করতেই হবে

manbচট্টগ্রাম, ১৯ মে (সিটিজি টাইমস) :: দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলো একগুয়েভাবে বলেই যাচ্ছে তারা কোনো অভিবাসীকে আশ্রয় দেবে না। হাজারো মানুষ সাগরে ভেসে মরে গেলেও তাদের কিছু যায় আসে না। কিন্তু সরবারের এমন মনোভাব মেনে নিতে পারেননি ইন্দোনেশিয়ার দরিদ্র জেলেরা। গত শুক্রবার তাদের সামনে ডুবতে বসা একটি বোট থেকে উদ্ধার করে সাত শতাধিক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলিমকে তীরে নিয়ে এসেছেন।

সরকার তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এর সোমবার দেশটির পক্ষ থেকে তাদের জেলেদের বলে দেয়া হয়েছে আর কোনো নৌকা ডুবতে দেখলেও যেন সাহায্য করা না হয়!

এদিকে, আচেহ প্রদেশের উপকূলে যাদেরকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে তাদের কাছে না ঘেঁষতে স্থানীয় মানুষদের প্রতি আহবান জানিয়েছে সরকার। সরকারি কর্মকর্তারা লাউড স্পীকারে প্রচার করেছেন যে, তাদের কাছে গেলে রোগবালাই ছড়াতে পারে। কিন্তু এসব সরকারি সতর্কতা কেউ মানছে না।

শত শত গ্রামবাসী প্রতিদিন নিজেদের ঘরে রান্না করে ভাত, নুডলস, প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় নিয়ে জড়ো হচ্ছেন অভিবাসীদের আশ্রয় নেয়া দুটি শিবিরে।

বেশকিছু লুঙ্গি, তোয়ালে, মেয়েদের স্কার্ফ, বাচ্চাদের কাপড় এবং খাবার নিয়ে আসা হায়াতুর রহমান জাকফার বলেন, ‘এরা আমাদের ভাই-বোন। তাই এদেরকে সাহায্য করতেই হবে। তারা একটু ভাল জীবন আর নিরাপত্তার জন্য সংগ্রাম করছে। তাদেরকে সাহায্য না করার তো কোনো কারণ নেই।’

একইভাবে মালয়েশিয়াতে এসব অভিবাসীর জন্য সহায়তা পাঠাতে ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন তরুণ-তরুণীরা। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ সরকারের উপর চাপ দিচ্ছেন অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য। দেশটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১১০০ জন আশ্রয় পেয়েছেন।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের মেয়ে এবং প্রখ্যাত সমাজকর্মী মেরিনা মাহাথির গত সপ্তাহে সাগরে চলমান জাহাজগুলোর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছিলেন যে, তারা অভিবাসীদের নৌকা দেখলে যেন যেভাবে পারে সহায়তা করে।

মেরিনা বলেন, ‘আমাদের আসল উদ্বেগ যারা এখনো সাগরে অবস্থান করছে তাদের নিয়ে। এটা সত্যিকারের একটি মানবাধিকার সংকট। আমরা এটা থেকে হাত গুঠিয়ে বসে থাকতে পারিনা। একটা সমাধান বের করতেই হবে।’

দেশটির নাগরিকদের অনেকে একটি অনলাইন পিটিশনের মাধ্যমে সরকারকে ‘রাজনীতির আগে মানবতাকে প্রাধান্য’ দিতে আহবান জানিয়েছেন।

পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘আমরা এদেশের জনগন চাই, আমাদের দেশে আসতে চাওয়া এবং সমুদ্রে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া মানুষগুলোকে আমাদের সরকার উদ্ধার করে তাদের যত্ন নিক।’

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ব্যাংককের দায়িত্বে থাকা মুখপাত্র ভিভিয়ান তান বলেন, ‘আমরা একদিকে দেখছি, নৌকায় থাকা লোকজনকে নিয়ে সরকারগুলো সমালোচনায় ব্যস্ত। এ সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। অন্যদিকে এটা খুবই আশাব্যঞ্জক যে, ওই সব অঞ্চলের সাধারণ মানুষ নৌকায় থাকা লোকজনের প্রতি খুবই সদয় আচরণ করছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া অভিভূত হওয়ার মতো। সরকারগুলোর উচিত এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা এবং যত দ্রুত সম্ভব আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করা।’

ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা একজন ইসলামি স্কলার তার দেশের সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এক বছর আগে দুর্ঘটনাকবলিত একটি বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারে সরকার এখনো সমুদ্রে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। অথচ জীবন্ত লোকজন সমুদ্রে ভাসতে থাকলেও তাদের উদ্ধার করছে না।’

আসরি জয়নাল আবেদিন নামে সরকারি একজন মুফতি বলেন, ‘যারা এখনো বেঁচে আছে, আমরা তাদের সমুদ্রে মরতে দিচ্ছি। আমাদের মানবিকতা কোথায়?’

অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের নৌজাহাজগুলো অভিবাসীদের বোটগুলোকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে দিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মতে, প্রায় আট হাজার অভিবাসী আন্দামান, বঙ্গোপসাগ এবং মালাক্কা প্রণালীতে ভাসমান ছিলেন। এদের মধ্যে তিন হাজারের মতো ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ায় সরকারের বাধা সত্ত্বেও কোনোভাবে আশ্রয় পেয়েছেন। জাতিসংঘ এসব বোটকে ‘ভাসমান কফিন’ বলে অভিহিত করেছে।

সূত্র: এপি

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত