টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাজাভোগ শেষে ১৪ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল মিয়ানমার

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

tচট্টগ্রাম, ১৯ মে (সিটিজি টাইমস) : : মিয়ানমারের কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদের কারাভোগের পর ১৪ জন বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। তম্মধ্যে ১১ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রী, ২ জন জেলে ও ১ জন অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করায় আটক হয়েছিল। মিয়ানমানমারের অভ্যন্তরে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিজিপি পর্যায়ে মংডুস্থ ১ নং পয়েন্ট অব এন্ট্রি এন্ড এক্সিট এলাকায় বৈঠক শেষে তাদের ফেরত আনা হয়েছে। ১৯ মে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দেড় ঘন্টা ব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন টেকনাফ সদর বিওপির কোম্পানী কমান্ডার মোঃ জাকারিয়া ও মিয়ানমারের ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জেলা অফিসার সহকারী পরিচালক ইউ থুন থুন। এদিকে সকাল পৌনে ১২ টায় সদর বিওপির মিলনায়তনে ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায় লেঃ কর্ণেল মোঃ আবুজার আল জাহিদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিয়ানমারের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপুর্ণ এবং আন্তরিক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মানব ও মাদকপাচারসহ সীমান্তে বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা হয়েছে। তিনি আরো জানান, মিয়ানমারের কারাগারে বর্তমানে কতজন বাংলাদেশী নাগরিক এবং সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার সংখ্যা সম্পর্কে মিয়ানমার কোন তথ্য সরবরাহ করেনি। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মিয়ানমারের কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগের পর ফেরত আসা বাংলাদেশীরা হচ্ছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার দক্ষিণপাড়ার মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে আবদুর রহিম (৩৪), উখিয়া উপজেলার দক্ষিন পালং খালী গ্রামের বশির আহমদের ছেলে জয়নাল উদ্দিন (৩৫), শফিকুর রহমানের ছেলে এবায়দুল্লাহ (৩৫), নুর হাশিমের ছেলে নুর কবির (২৯), টেকনাফ উপজেলার গোদারবিল গ্রামের আবদুল শুক্কুরের ছেলে নুরুল আমিন (৩৩), লেদা গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে মোঃ ইউছুপ (৩২), নাজির পাড়া গ্রামের মৃত জাফর আলমের ছেলে ছৈয়দ আলম (২৯), ঢাকার দোহার মকছুদপুর গ্রামের আবুফুর ওরফে বাবুল খানের ছেলে রাজিব খান (৩৩), চট্টগ্রাম লোহাগাড়ার চরমবা ওয়াহিদের পাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ জসিম (৩০), সাতকানিয়া বাজালিয়া গ্রামের বক্কর আলীর ছেলে আবদুর রহিম প্রকাশ বদি (৩৫), মোঃ ফজল কবিরের ছেলে বাদশা মিয়া (৩৪), বান্দরবনের নাইক্ষছড়ির বাবলু খিয়াং গ্রামের ইউমং কো এর ছেলে ইউ ক্য মং (২৮), আলীকদম উপজেলার হাজী গোরামিয়া পাড়ার মোঃ জামালের পুত্র মোঃ আমিন (২৭) ও ধলু পাড়া গ্রামের জাফর আহমদের ছেলে মোঃ ইউনুছ (৩৩)।

ফেরত আসা টেকনাফের লেদা গ্রামের মোঃ ইউছুফ জানান, নাফনদীতে মাছ শিকারে গিয়ে তৎকালীন নাসাকার হাতে আটক হয়ে দীর্ঘ ৬ বছর ৫ মাস কারাভোগ করেছে। তিনি বিজিবি প্রচেষ্টায় দেশে ফিরতে পারায় সন্তোষ্টি এবং বিজিবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারমত আরও শতশত বাংলাদেশী নাগরিক মিয়ানমারের কারাগারে মুক্তির প্রহর গুনছে। সে দেশের কারাগারে অমানুষিক যন্ত্রনা ভোগ করছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযত যোগাযোগ এবং তৎপরতার অভাবে তারা দেশে ফিরতে পারছেনা বলে দাবী করেন। তাছাড়া ফেরত আসা মালয়েশিয়াগামী যাত্রী পালংখালীর জয়নাল উদ্দিন জানান, ২০১২ সালের ২৫ জুন ৮০ জন মালয়েশীয়াগামী যাত্রী বোঝাই টেকনাফের কাটাবনিয়া ঘাট থেকে রওয়ানা দিয়ে মিয়ানমারের আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল। ৩৬ মাস মাস কারাভোগের পর তাদের দলের ১১ জন ফেরত আসলেও বাকীদের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেনা।

মতামত