টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘এই লিংকে গেলে টাকা কাটা যাবে, আপনি রাজি?’

free-internetচট্টগ্রাম, ১৬ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :: সদ্য চালু হওয়া ফ্রি ইন্টারনেট সেবা নিয়ে গ্রাহকদের মনে ধন্দ তৈরি হচ্ছে। অনেকের কাছেই বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়ায় সেবাটি নিয়ে তাদের মধ্যে ‘নেতিবাচক’ প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ফ্রি ইন্টারনেট’ না বলে ‘ফ্রি ইন্টারনেট সেবা’ বলা হলে ব্যবহারকারীদের এই ধন্দ অনেকাংশে দূর হবে।

এরইমধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে ভিন্ন-ভিন্ন অভিযোগ, মতামত আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফেসবুক (মোট ২৯টি ওয়েবসাইট) থেকে অন্যান্য লিংকে যেতে গেলে টাকা কাটা যাচ্ছে। বিষয়টি অনেকে না বুঝে করছেন বা ভুলে যাচ্ছেন যে এই সেবা ব্যবহারের সময় সংশ্লিষ্ট ২৯টি ওয়েবসাইট ছাড়া অন্যান্য সাইটে যেতে মানা। এই ভুলে যাওয়া বা না জানার ফলে মোবাইলের ব্যালেন্স থেকে গ্রাহকের টাকা কাটা যাচ্ছে। এই পরিমাণ কোনও-কোনও ক্ষেত্রে যেকোনও ইন্টারনেট প্যাকেজের মূল্যের চাইতেও বেশি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা জানাচ্ছেন, এমন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব কি না, যে ব্যবস্থায় মোবাইল ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্ট সাইট ছাড়া অন্য কোনও সাইটে বা লিংকে ক্লিক করলে জানতে পারবেন (বা তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হবে) যে, ওই লিংকে গেলে তার টাকা কাটা যাবে। তাহলে ব্যবহারকারী সতর্ক হতে পারবেন।

সম্প্রতি দেশে ফেসবুকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট ডট আরজি চালু হয়েছে। মোবাইলফোন অপারেটর রবির মাধ্যমে বর্তমানে ইন্টারনেট ডট ওআরজি ‘বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবা’ দিচ্ছে। শিগগিরই গ্রামীণফোন এই সেবার সঙ্গে যুক্ত হবে বলে জানা গেছে। অন্য অপারেটরগুলোও পর্যায়ক্রমে একে-একে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত হবে। এক সময় দেশের সব মোবাইলফোন ব্যবহারকারী এই ‘বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবা’ ভোগ করতে পারবে। এখনই উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা না হলে বিপুল সংখ্যক মানুষ যখন এই সেবা পেতে চাইবে তখন উপকারের পরিবর্তে তা ‘সমস্যা’ হয়ে দেখে দিতে পারে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

এ ব্যাপারে আলাপ করলে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সচিব ও মুখপাত্র সরোয়ার আলম জানান, এ ধরনের কিছু একটা তৈরি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এটা তো একটা বড় ধরনের সমস্যা। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কতজনের পক্ষে এটা মনে রাখা সম্ভব যে, এই সাইটে ‌‌‌গেলে তা ফ্রি আর ওই সাইটে গেলে টাকা কাটা যাবে। তিনি মনে করেন, এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য এমন কোনও পদ্ধতি বা কৌশল বের করতে হবে, যা গ্রাহককে সতর্ক থাকতে বা হতে সহায়তা করবে।

সরোয়ার আলম বলেন, মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যখন ‘বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবা’র আওতায় কোনও সাইট ব্রাউজ করবেন, তখন সেখান থেকে অন্য কোনও সাইটে যেতে বা কোনও লিংকে ক্লিক করতে চাইলে তখন যদি মেসেজ আকারে কোনও সতর্কবাণী ব্যবহারকারীকে দেখানো হয়, তাহলে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন, ওই সাইটে যাবেন কি না।

তিনি উদাহরণ দেন, ধরা যাক কেউ ফেসবুক ব্যবহার করছেন। ফেসবুকে অনেক নিউজ সাইট বা মজার মজার সাইটের (কোনও তথ্য) লিংক শেয়ার করা থাকে। কারও কোনও একটি লিংক পছন্দ হলো। তিনি ওই লিংকে যেতে চান। ওই লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে স্ক্রিনে ইমেজ বা বার আকারে একটি মেসেজ আসবে। যাতে লেখা থাকবে, ‘এই লিংকে গেলে আপনার মোবাইলের টাকা কাটা যাবে, আপনি রাজি?’ এর নিচে থাকতে পার ‘ইয়েস’ বা ‘নো’ অপশন। তখন ব্যবহারকারীই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তিনি ওই সাইটে যাবেন কি না। সেটা তখন তার ইচ্ছের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। এতে কারও অজান্তে তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।

সরোয়ার আলম বলেন, এমন একটি অপশন চালুর বিষয়ে আমাদের এখনই অগ্রসর হতে হবে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ‘বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবা’ ভবিষ্যতে বড় খরচের খাত হয়ে দাঁড়াবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, বিটিআরসি এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে কোনও নির্দেশনা জারি করলে মোবাইল অপারেটরগুলো ওই নির্দেশনা মেনে চলবে। তখন ‘বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবা’ ব্যবহার নিয়ে ব্যবহারকারীদের কোনও অভিযোগ থাকবে না।

প্রসঙ্গত, মোবাইল অপারেটর রবি ইন্টারনেট ডট ওআরজির মাধ্যমে যেসব সেবা দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেসবের বাইরে কোনও ওয়েবসাইট ভিজিট করতে বা ভিডিও দেখতে চাইলে ‘সাধারণ ইন্টারেনট চার্জ’ দিতে হবে গ্রাহককে। কোনও ডাটা প্যাক কেনা না থাকলে ইন্টারনেট ডট ওআরজি ব্যবহারের সময়ও গ্রাহক তার পছন্দের প্যাকেজটি বেছে নিতে পারবেন। যদি ডাটা প্যাক না থাকে এবং গ্রাহক কোনও প্যাকেজ না কিনে ভিডিও কন্টেন্ট দেখতে চায় তাহলে পে-পার-ইউজের ভিত্তিতে চার্জ প্রযোজ্য হবে। যদিও রবি গ্রাহকরা তাদের স্মার্টফোন দিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করার সময় ‘ফ্রি ডাটা’ লখা দেখতে পারছেন স্মার্টফোনের একেবারে ওপরের দিকে।

ফেসবুকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হলো ইন্টারনেট ডট ওআরজি। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ভাষায় ইন্টারনেট ডট ওআরজি হচ্ছে অলাভজনক একটি উদ্যোগ যাতে প্রাথমিকভাবে বিনামূল্যে বেসিক ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারে সংশ্লিষ্ট মোবাইলফোন ব্যবহারকারীরা।

আফ্রিকার কয়েকটি দেশসহ পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও ইন্টারনেট ডট ওআরজি চালু করেছে বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবা। বাংলাদেশ ১০তম দেশ হিসেবে ফেসবুকের ‘বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবা’ চালু করেছে।-বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত