টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রিপনের হাত ধরে বাঁচল ১১৬ জন!

Riponইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
মো. রিপন। বাড়ী সিরাজগঞ্জে। পিতার নাম নুরুল ইসলাম। মেরিন ডিপার্টমেন্টে ৫ বছর চাকরী করেছেন তিনি। সেই সুবাদেই চালাতে পারেন ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। শারীরিক গড়ন ও অবয়ব দেখে তাকে হয়তো বা বোঝা যাবেনা। তার অদম্য সাহসিকতায় অপরাপর যাত্রীদের কাছে রিপন ‘নায়ক’ স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনিই মায়ানমারের সমুদ্রের জলসীমা থেকে সেন্টমার্টিনে নিয়ে আসেন সারেং বিহীন ট্রলারটি। এতে প্রাণে বেঁচে যান মালয়েশিয়াগামী ১১৬ যাত্রী। আদালতে জবানবন্দি শেষে উদ্ধার যাত্রীদের সাথে কথা বলতে গিয়ে এসব ওঠে আসে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে কক্সবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উদ্ধার হওয়া মালয়েশিয়াগামী যাত্রীরা জবানবন্দি দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জবানবন্দি রেকর্ড করেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিশাদুজ্জামান ও অরুণ পাল এবং জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিউদ্দিন। এ সময় সিরাজগঞ্জের মিলন খন্দকার রিপনের সাহসিকতার কথা তুলে ধরেন। বর্ণনা দেন কি করে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে তারা ফিরে এসেছে। একই কথা বলেন বগুড়ার আব্দুর রহমান ও ফিরোজপুরের মু. আসিফুর রহমান নামের আরো দুই যুবক। এরা সবাই রিপনের সাহসিকতার জলন্ত সাক্ষি।
তাদের ভাষ্যমতে, ১২ মে দুপুর ১২টার দিকে পাচারকারীরা ১১৬ যাত্রীকে একটি ট্রলারে তুলে দেয়। ট্রলারটি থাইল্যান্ডের মালিকানাধীন। ট্রলারে তুলে দিয়ে সেখান থেকে চালক ও মাঝি নেমে যান। এ অবস্থায় দুঃশ্চিন্তায় পরে যান ট্রলার থাকা যাত্রীরা। তাদের কান্না আর আত্মচিৎকার শুনে জাহাজে অবস্থানরত পাচারকারী চক্র উল্লাস শুরু করেন। ঠিক এমন সময়, হঠাৎ চলতে শুরু করে ট্রলার। নীরবতা নেমে আসে ট্রলারে। পুরাতন ও পেশাদার কোন মাঝি নয়। চালাচ্ছে সাহসী যুবক রিপন। যাত্রীরা দৃশ্য দেখে উদ্বেলিত। ঠিক এমন সময়ে ট্রলারটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে পাচারকারীরা। ট্রলারের গতি বাড়িয়ে দেয় রিপন। নিজ জীবন বাঁচাতে রিপন ছাড়া ট্রলারের বাকী ১১৫ জন যাত্রী শুয়ে পড়ে। কছিন সিদ্ধান্তে ট্রলারকে নির্দিষ্ট গতিপথে নিয়ে যাচ্ছে রিপন।
সাগরের অচেনা পথ হাতড়ে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ট্রলার চালিয়ে রিপন নিয়ে আসে ট্রলারটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি। এ সময় কোস্টগার্ড গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। রিপন বলেন,  ‘প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা ট্রলার চালিয়ে ফেরার সময় আরও ৫টি ট্রলার সাগরে ভাসতে দেখেছি। শুনেছি মানুষদের আর্তনাদ। এ সময় অপর ট্রলারের বাংলাদেশীদের ডেকে ডেকে তুলে নিই।’
তিনি জানান, তার এলাকার জাকির দালাল তাকে বেড়াতে আসার কথা বলে  ১০ দিন আগে টেকনাফ নিয়ে আসে। সেখানে তাকে অন্য একজন দালালের কাছে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। ওই দালাল তাকে ট্রলারে করে মালয়েশিয়াগামী জাহাজে তুলে দেয়। জাহাজে তিনি আটদিন ছিলেন। এ সময় তিনি কোসটগার্ডের উপর তার তীব্র ক্ষোভের কথা জানান।
এ সময় কথা হয় ফিরোজপুর থেকে আসা মু. হাসিবুর রহমান নামে উদ্ধার হওয়া আরেক যাত্রীর। তিনি বলেন, ‘রিপনই ১১৬ জন উদ্ধারের নায়ক। তার কারণে আমরা প্রাণে বাঁচি। রিপন না থাকলে হয়তোবা সবাইকেই সাগরে ডুবে মরতে হতো। অথচ বাহবাহ নিচ্ছে কোস্টগার্ড। এখানে তাদের কোন কৃতিত্ব নেই।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত