টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মালয়েশি মানবপাচার: ৪০ দালালের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজার ব্যুরো:
সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগর থেকে ১১৬ মালয়েশিয়াগামী যাত্রীসহ ট্রলার উদ্ধারের ঘটনায় টেকনাফ থানায় মামলা হয়েছে। ১৩ মে রাতে কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার ফিরুজ আহমদ বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। মামলা(নং-৩২/৩৩৯)।
এতে টেকনাফ কচুবনিয়ার মৃত মোজাহের মিয়ার ছেলে শীর্ষ মানব পাচারকারী গুরা মিয়াকে  প্রধান আসামী করা হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ, উখিয়া, রামু, নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প, পাবনা, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার দালালরাও এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামী করা হয়েছে। এ মামলায় এ পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।
এ মামলায় গুরা মিয়া ছাড়াও অন্যান্য আসামীরা হলো- আবদুর রহিমের ছেলে নজির আহমদ প্রকাশ নজির ডাকাত, ফজল আহমদের ছেলে মো: ইসলাম প্রকাশ বাগু, আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল হামিদ, সোনা আলীর ছেলে আবদুল গফুর, নজির আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহ, কাটাবনিয়ার আবদুল মাজেদের ছেলে শওকত আলম ও আলমগীর, কাটাবনিয়ার আবদুর রহমানের ছেলে আবুল কালাম ও জিয়াউদ্দিন বাবলু, হারিয়াখালীর আবদুস শুক্কুরের ছেলে কুদ্দুস, মো: হোছনের ছেলে মৌলভী আবুল হাশে, লেদা আনরেজিষ্টার্ড রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের মৃত হোছন আলীর ছেলে হাফেজ আয়ুব, পশ্চিম লেদার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে নুরুল কবি, মোস্তাক(পিতা অজ্ঞাত), উখিয়ার জালিয়া পালংয়ের সোনারপাড়ার খলিলুর রহমানের ছেলে ফরিদ মাঝি, আবদুস সালামের ছেলে নুর মোহাম্মদ মাঝি, পশ্চিম সোনাইছড়ির ইউছুপ আলীর ছেলে রুস্তম আলী, আজিজুল্লাহর ছেলে কায়সার আহমদ জনি, হলদিয়াপালং নলবনিয়া এলাকার ছৈয়দুর রহমানের ছেলে শামসুল আলম, সাবরাং কচুবনিয়ার ইউছুপ আলীর ছেলে ছিদ্দিক, ইউছুপ (পিতা অজ্ঞাত), সিরাজগঞ্চ শাহাজাদপুর থানার রতন কান্দি এলাকার সিরাজ, পাবনা জেলার সোজানগর থানার হাটখালী এলাকার কল্যাণ মন্ডলের ছেলে জব্বা, নরসিংদী জেলার রায়পুর বটতলী এলাকার শাহ আলম, মুরাদনগর হোসেন মিয়ার ছেলে চান মিয়, গজারিয়ার পলাশ থানার গজারিয়া এলাকার রতন, মৃত মারুর ছেলে আল আমিন, ইতনা থানার জয়সিদ্দি এলাকার মালেকের ছেলে হারুন, কিশোরগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার গাউছিয়া এলাকার শাহ আলী, জালিয়াদিঘী এলাকার মো: হোছনের ছেলে জসীম উদ্দী, নজির আহমদের ছেলে মফি, রামু উপজেলার কম্বনিয়ার পূর্ব ধেছুয়াপালং এলাকার মো: ফেরদৌসের ছেলে আব্দুল্লাহ বিদ্যু, খুনিয়া পালং ইউনিয়নের পূর্ব গোয়ালিয়াপালং আশরাফ মিয়ার ছেলে মনছুর আলম, হিমছড়ি আবদুল কাদেরের ছেলে আবুল কালাম, দক্ষিণ গোয়ালিয়া পালং মো: কালুর ছেলে নুরুল কবির বাদশ, ধেছুয়াপালং মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মো: সালাম বাদল, নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পের মো: শফির ছেলে আমান উল্লাহ আনু ও হ্নীলা মৌলভীবাজার মৃত মকবুল আহমদের ছেলে ছৈয়দ আলম সিকদার।

এ দিকে থাইল্যন্ড জঙ্গলে গণকবরের সংবাদ ও বাংলাদেশী উদ্ধার এর পর থেকে জেলার শীর্ষ মানবপাচারকারী নুরুল কবির, রেজিয়া আকতার রেবি প্রকাশ মেডাম, একরাম, ছৈয়দ করিম, ছৈয়দ হোষচন, আব্দুল্লাহ বিদ্যুৎসহ র্শীষ গডফাদার নিরাপদে সটকে পড়ে। কয়েকজন ‘বন্দুকযদ্ধে’ মারা গেলেও অধিকাংশ দালাল অগোচরে কাজ করছে। খোঁজ রাখছে প্রশাসনের গতিবিধি। তাদের সাথে কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার খাতিরের কথাও বারবার সাধারণ মানুষের মুথে শুনা যায়।

পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, ১১৬ জন উদ্ধঅরের ঘটনা মামলা রেকর্ড হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামীদের ধরার চেষ্টা চলছে। মানবপাচার চিরতরে নির্মূল না হওয়া অভিযান চলবে। মানবপাচারের বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা ‘জিরোটলারেন্স।’ কোন দালালের ছাড় নেই। সম্পৃক্ত সকলকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত