টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

যে কারণে খুন হল গৃহবধু শারমিন

khচট্টগ্রাম, ১৪ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) ::  নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসায় সতীনের বাসায় বেড়াতে এসে খুন হয়েছেন শারমিন আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধু। এঘটনায় নিহতের বড় সতীন রোজি আক্তারকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে পাঁচলাইশের মির্জাপুল এলাকার ইকুইটি ভিলেজের ৪র্থ তলার ই-ফাইভ ফ্ল্যাট থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত শারমিন বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডীর হাকিম বাড়ীর আবুধাবী প্রবাসী এম এ হাকিমের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার দশ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

পরিকল্পিতভাবে বড় বউয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে নিহত শারমিনের মামা আব্দুর রহিম বেলাল  বলেন, ‘গত ২০১৩ সালের নভেম্বরের ১৮ তারিখ বড় বউয়ের সম্মতিতে আমাদের একই এলাকার আবুধাবী প্রবাসী এম এ হাকিমের সাথে শারমিনকে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বড় সতীন রোজি তার তিন মেয়ে নিয়ে মির্জারপুল ইকুইটি ভিলেজের ৪র্থ তলার ই-ফাইভ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতো। আর আমার ভাগিনা শারমিন থাকতো বহদ্দারহাট খতিবের হাট এলাকার সিপিডিএল ভবনের ৪র্থ তলার সেভেন-ডি নম্বর ফ্ল্যাটে। শারমিনের ঘরে আহমেদুর রহমান নামে দশ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। গত দেড়মাস আগে তার স্বামী হাকিম আবুধাবী চলে যান। এরপর বহদ্দারহাটের বাসা থেকে গত বৃহস্পতিবার মির্জারপুলের বাসায় বেড়াতে এসেছিল শারমিন। আর বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে খবর পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এঘটনায় নিশ্চয় বড় বউের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সকালের দিকে এঘটনা ঘটলেও বড় বউ আমাদের কোন ফোন করেনি। আর ডাকাত আসলে তাকেও তো ক্ষতি করতো।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধু শারমিন আক্তার খুন হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সিআইডি, ডিবি ও পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। খুনের মোটিভ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছেনা।ডাকাতি বা এধরণের কোন কিছু হলে একবাসায় থাকা দু’জন মহিলার মধ্যে অন্যজনও কিছুটা না কিছুটা আঘাত প্রাপ্ত হত। যেহেতু সেধরণের কোন কিছু হয়নি। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বড় সতীনকে আটক করা হয়েছে।’

পাঁচলাইশ থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় সতীন রোজির পরিবারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে ছুরিকাঘাত করে শারমিনকে খুন করেছে। শারমিনের মাথার পিছনে ছুরির আঘাত রয়েছে। একইভাবে ডান পেটেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এঘটনায় বড় সতীন রোজির ভাই ও মামাকে পুুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে বলে ওই ভবনের একাধিক বাসিন্দা জানালেও পাঁচলাইশ থানা পুলিশ বিষয়টি স্বীকার করছে না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত