টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পর্যটনের নতুন দিগন্ত কক্সবাজার বোটানিক্যাল গার্ডেন

Coxs Bazar Botanical Garden-4
ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
কক্সবাজার বোটানিক্যাল গার্ডেন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন সংযোজন। রামু উপজেলার রাজারকুলে বন বিভাগের ২৫০ একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের অন্যতম এ ইকোট্যুরিজম বোটানিক্যাল গার্ডেন।
প্রাথমিকভাবে ৬০ একর জমিতে কাজ শুরু হয়েছে। জুনের মধ্যে প্রথম দফার কাজ শেষ হবে।
প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে একদিকে যেমন পর্যটক আকৃষ্ট হবে, অন্যদিকে সরকার পাবে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এ গার্ডেন কক্সবাজারে পর্যটনের আরেকটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে।
‘ইকো-রেস্টোরেশন অব হিল ফরেস্টস’ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার বোটানিক্যাল গার্ডেনে ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার কাজ চলছে। এরই মধ্যে এখানে ছোট কালভার্ট, স্টাফ ব্যারেজ, অফিস, পাহাড়ে ওঠার ছোট রাস্তা, বিভিন্ন প্রকার বাগান ও পুকুর তৈরি করা হয়েছে। গার্ডেনে রোপণ করা হয়েছে বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ বৈলাম, বাটনা, নারিকেল, ধলি গর্জন, তেজবহুল, উড়ি আম, শিল কড়ই, কাইফল, কাঠবাদাম, সোনালু, ছাতিয়ান, জ্যাকারান্ডা, মূস বৃক্ষসহ এ মৌসুমের গোলাপ, গাঁদা, ইনকা গাঁদা, দোপাটি, বোতাম, কালেনডুলা, সূর্যমুখী, মিনি সূর্যমুখী, ডালিয়া, নয়নতারা, কসমস ফুলের চারা। এছাড়া আরও ২৬ প্রকার বর্ষজীবী, বহুবর্ষজীবী ফুলের বাগান, ৩৫ প্রজাতির বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ এবং ১২ প্রজাতির বাঁশ রোপণ করা হয়েছে।
পর্যটকদের সুবিধার জন্য নতুনভাবে একটি রেঞ্জ অফিস, চারটি নার্সারি, কপি হাউস, বাউন্ডারি ওয়াল, দুটি ব্রিজ, আটটি টয়লেট, দুটি ছাতা ও ছয়টি বেঞ্চ স্থাপনের কাজ চলছে। দু’এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৬০ একর জমির ওপর প্রথম ফেজের কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে। এরপর ৫ জুলাই রম্যভূমিতে এ বোটানিক্যাল গার্ডেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইসতিয়াক আহমদ জানান, এ গার্ডেন শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো দেশের জন্য সম্পদে পরিণত হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য এ গার্ডেন হবে অন্যতম গবেষণার স্থান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দেয়ার জন্য পরিবেশবান্ধব কিছু একটা করার কথা দেড় বছর আগে কক্সবাজার সফরে এসে চিন্তা করেন ড. হাছান মাহমুদ। এরপর তিনি জেলার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে এ স্থানকে চিহ্নিত করে পিপি তৈরির নির্দেশ দেন বন বিভাগকে।

এ গার্ডেন কক্সবাজারে পর্যটনের আরেকটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে বলে মনে করছেন কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম কিবরিয়া।

রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা আমির হামজা জানান, প্রতিনিয়ত পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে এখানে। গার্ডেনে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল সরকার বলেন, মাস্টার প্লানের ভিত্তিতে ২৫০ একর জমিতে গার্ডেন হচ্ছে। প্রথম ধাপে ৬০ একরে কাজ শুরু হয়েছে। জুনের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। গার্ডেনকে অত্যাধুনিক ও আকর্ষণীয় করতে নতুন প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।

মতামত