টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত, হাইকোর্টের অবৈধ ঘোষণা

মিরসরাই প্রতিনিধি

sচট্টগ্রাম, ১৩ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :: মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে। তার বিরুদ্ধে দেশবিরোধী একাধিক মামলা রয়েছে অভিযোগ তুলে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তাকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

এরপর মিরসরাই উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদিকা ইয়াসমিন শাহীন কাকলীকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের (প্যানেল চেয়ারম্যান ২) দায়িত্ব দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন রিট পিটিশন ২৩২৮ এর ২০১৫ বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ রিট ডিভিশন শুনানী অর্থে স্থানীয় সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। বিগত ২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়নও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রজ্ঞাপন স্মারক নং-৪৬.০৪৬.০২৭.০০.০০.০৬৩.২০১৫-১০৫ মূলে মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে নম্বর ২৩২৮/২০১৫ রিট পিটিশন দায়ের করেন। এদিকে মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি হাইকোর্টের অবৈধ ঘোষণার কপি বাংলাদেশ সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের রিপ্রেজেন্ট বাই দ্য সেক্রেটারি, মিনিস্ট্রি অব ল জাস্টিস অ্যান্ড পার্লামেন্টারি এফেয়ার্স সেক্রেটারি, বাংলাদেশ সরকারের পল্লী উন্নয়নও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারী, চীফ ইলেকশান কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকারের ডেপুটি ডিরেক্টর, মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মিরসরাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান-২) বরাবরে পাঠানো হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালের শেষের দিকে এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলনের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতার ঘটনায় ৮ টি মামলায় আসামি করা হয় নুরুল আমিনকে। আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসারপর ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে নুরুল আমিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেওয়ারপর সর্বশেষ গত ১২ জানুয়ারি হত্যাও নাশকতার দায়ে নতুন আরো ২ টি মামলায় আসামি হন তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আসিফ ইমতিয়াজ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে মোট ১০টি মামলা রয়েছে। ১০টির মধ্যে দুইটি মামলার অভিযোগপত্র বিজ্ঞ আদালতে গৃহিত হয়েছে। মামলারপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে (উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮, ধারা ১৩’র ১’র খ অনুযায়ী) রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত থাকার দায়ে নুরুল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণার বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শাহীনুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে জনসেবা করার প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করা কখনো সুখকর নয়। দীর্ঘ সময় ধরে মিরসরাইয়ের মাটিও মানুষের জন্য রাজনীতিও সমাজনীতি করে আসছেন নুরুল আমিন। নুরুল আমিন চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত ও একাধিক মামলার আসামী করা যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তা প্রমাণিত হয়েছে হাইকোর্টের রায়ে।’

এ বিষয়ে নুরুল আমিন বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনসেবা করতে না পারার মতো দুঃখ আর কি হতে পারে? আমি জনসেবার মনমানসিকতা নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আসীন হয়েছি। অথচ আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে; যেসব অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেসব মামলায় আমার নূন্যতম সংশ্লিষ্টতাও নেই। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের রায়ই তার প্রমাণ।”

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, “নাশকতার মামলার দ্রুত বিচার আইনের আসামী মিরসরাই উপজেলা পরিষদের বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যন নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের পল্লী উন্নয়নও সমবায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে যে আবেদন করেছিলেন তার রায় সংবলিত একটি কপি আমরা পেয়েছি। তিনি বর্তমানে নাশকতার মামলায় পলাতক রয়েছেন। নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্তের যে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট তা কার্য্যকরের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের যে আদেশ দেবেন তা আমরা পালন করবো। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া আমাদের এইক্ষেত্রে কিছুই করার নেই।”

নুরুল আমিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ সাধারন সম্পাদকও মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

মতামত