টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘জীবন দিয়ে হলেও নগরবাসীর ঋণ শোধ করতে চাই’

Nasirচট্টগ্রাম, ১১ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) ::চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, ‘আমাকে মেয়র নির্বাচিত করায় আমি চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে ঋণী। জীবন দিয়ে হলেও আমি নগরবাসীর ঋণ শোধ করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমার সফল হওয়ার বিকল্প নেই। পাঁচ বছরে ইনশাআল্লাহ আমি সফল হব। এজন্য আমি সবার সহযোগিতা চাই।’

সোমবার দুপুরে মহানগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গণসংবর্ধনার জবাবে আ জ ম নাছির বলেন, ‘অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমি আজকের এই পর্যায়ে এসেছি। ২০১৩ সালের একটি কঠিন সময়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছি। অনেকের অনেক আশঙ্কা ছিল, অনেকের অনেক ধারণা ছিল। কিন্তু সবার ধারণা ভেঙে দিয়ে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। ঠিক সেভাবে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে আমি করপোরেশন পরিচালনা করব।’

নাছির বলেন, ‘চট্টগ্রামের মেয়রের পদমর্যাদা এখনো নির্ধারণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, চসিকের মেয়রকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়ার চিন্তা করছেন তিনি। এই স্ট্যাটাস ছাড়া আমি কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করব না। করপোরেশনের সঙ্গেও আমার দূরতম বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকবে না। ২৮ এপ্রিল মেয়র নির্বাচনের পর থেকে মেয়র হিসেবে আমাকে প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে আপনারা আমার মধ্যে পরিবর্তন দেখেছেন কি না আপনারাই বলুন। যত বেশি বিনয়ী ও মার্জিত হওয়া সম্ভব আমি হব। এজন্য আপনাদের কাছে দোয়া ভিক্ষা চাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘করপোরেশনের দায়িত্ব নিতে হয়তো ২৫ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এর মধ্যে প্রতিদিন করপোরেশনের সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখছি। বাইরে থেকে যতটুকু সম্ভব প্রতিদিন কর্মকর্তাদের আমি নির্দেশ দিচ্ছি। ২৮ এপ্রিলের পর থেকে নগরীতে পরিবর্তন এসেছে। আগের চেয়ে ময়লা-অবর্জনা পরিষ্কার হচ্ছে বেশি। আরো বেশি পরিষ্কার হবে।’

নগরীর নালা-নর্দমাগুলো যাতে পরিষ্কার রাখা হয়, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে- উল্লেখ করে তিন বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান অসম্ভব। নালা-নর্দমার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এ বর্ষায় সেটা সম্ভব নয়। এজন্য প্রকল্প গ্রহণ, টেন্ডার আহ্বান করাসহ অনেক কাজ আছে। অল্প সময়ে সেটা সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, ‘জলাবদ্ধতার ব্যাপারে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র পলিথিন ফেলার ফলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এই বিষয়ে আমাদের সবারই সচেতন হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে চাক্তাই খালের পেছনে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। কিন্তু কাজ হয়নি। অপরিকল্পিত কোনো কাজ করব না। পরিকল্পিতভাবে কাজ করব। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে। বর্জ্য থেকে সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে সিটি করপোরেশনের আয় বাড়ানোর চিন্তা করছি আমি।’

নিজ দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নাছির বলেন, ‘আপনারা এমন কিছু কাজ করে ফেলেন, যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। আর যারা পদ আঁকড়ে থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পালন করবেন না, শুধু নিজের আখের গোছাবেন, তারা সরে দাঁড়াবেন। আমি এবং আমাদের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ নগর আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করব। নিবেদিতপ্রাণ, পরীক্ষিত, দলের কর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা আছে, এমন নেতাদের আমরা সংগঠনের দায়িত্বে আনব।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রাক্তন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এম ইসহাক মিয়া, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম মো. জাহাঙ্গীর, নগর মহিলা লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আফতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, ১৪ দলের পক্ষে ন্যাপ নেতা আলী আহমেদ নজির, বিএমএর চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি মুজিবুল হক খান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রাক্তন সভাপতি মো.হারুন প্রমুখ।

মতামত