টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানবপাচার: তালিকা ধরে সাঁড়াশি অভিযানে সরকার

manbচট্টগ্রাম, ১০মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :দালালদের খপ্পরে পরে সমুদ্রপথে ট্রলারে করে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় যাওয়া চলছে বহুদিন ধরে। স্থানীয় পুলিশ, কোস্টগার্ডের অভিযানে মাঝেমধ্যে উদ্ধারও হচ্ছে কেউ কেউ। তবে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের জঙ্গলে গণকবর ও পরপর কয়েকদিন বাংলাদেশিদের জীবিত উদ্ধারে অবশেষে টনক নড়েছে সরকারের। কক্সবাজারে তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারীদের শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। এরই মধ্যে চার অভিযুক্ত পাচারকারী নিহত হয়েছে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’।

চলতি মাসের প্রথম দিকে থাইল্যান্ডের শংখলা প্রদেশে বেশ কয়েকটি গণকবরের সন্ধান পায় দেশটির পুলিশ। এসময় ওই জঙ্গল থেকে এক বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এরপর একে একে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসে। এছাড়া ওই জঙ্গল থেকেই পরপর কয়েকদিন বাংলাদেশিসহ বহু রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। এ পর্যন্ত গত দুই দিনে ১৩২জন বাংলাদেশিকে ওই জঙ্গলের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে এসব খবর পাওয়ার পর থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে মানবপাচারকারীদের ধরতে পুলিশ ব্যপক অভিযান চালাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছ, ১৭৬ জনের তালিকা ধরে শুরু হয়েছে এই অভিযান, যাদের ৭৯ জনই টেকনাফের।

পুলিশের এ তৎপরতায় গা ঢাকা দিয়েছে মানবপাচারকারীরা। পালিয়ে বেড়াচ্ছে দালালরও। গোপন বৈঠক করে নিজেদের পরিকল্পনা পাল্টাচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমনি এক বৈঠকে রবিবার পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে জাফর মাঝি নামে শীর্ষ মানবপাচারকারী মারা যায়।

এর আগে শুক্রবার ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিন সন্দেহভাজন পাচারকারী নিহত হন। নিহতরা হলেন- টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ বাজারপাড়া এলাকার ধলু হোসেন, কাটাবুনিয়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ও হারিয়ারখালী এলাকার জাফর আলম। এদের মধ্যে ধলুর বিরুদ্ধে মানব পাচারের নয়টি, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আটটি এবং জাফরের বিরুদ্ধে দুটি মামলা আছে।

ওই খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “থাইল্যান্ডে অবৈধভাবে যারা লোক পাঠিয়েছেন,সেসব অপরাধীদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জড়িত টেকনাফেরই ৭৯ জন!

পুলিশ মানবপাচারে জড়িত অভিযোগে ১৭৬ জনের যে তালিকা করেছে তার মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফেরই আছে ৭৯ জন।অভিযানের আগে আলাদাভাবে এই তালিকা করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে তা। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।

স্বারষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকায় আছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের আওয়ামী লীগের দলীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদি, টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ ও এমপি বদির ভাই মৌলভী মুজিবুর রহমান ও টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ।এই তালিকায় স্থান পাওয়া সবার বাড়ি কক্সবাজার জেলায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার-পাঁচ বছর আগেও কক্সবাজার জেলার লোকজন পাচারকারীদের ২০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে অক্টোবর-ফেব্রুয়ারি মাসে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যেত। যাত্রাপথে ট্রলারসহ যেসব যাত্রী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ধরা পড়ত তাদের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ যাত্রীই মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গা। তখন মালয়েশিয়ায় সমুদ্রপথে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হতো ফিশিং ট্রলার। এসব ট্রলার ছিল খুবই নিম্নমানের এবং ট্রলারগুলো মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর ভেঙে ফেলা হতো। গত এক থেকে দেড় বছর ধরে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের কার্গো ট্রলার।

টেকনাফের তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারীরা হলো আবদুর রহমান বদি (৪৩) পিতা-মৃত এজাহার মিয়া, জাফর আহমদ (৫১) পিতা-মৃত সুলতান আহমদ, মৌলভী মুজিবুর রহমান (৩২) পিতা-মৃত এজাহার মিয়া, মো. ধলু হোসেন (৫৫) পিতা-মৃত সুলতান আহমদ, মো. ইউনুছ (৪০) পিতা-মৃত সুলতান আহমদ, মো. ইসমাইল (৩৫) পিতা-ছালে আহমদ, ফিরোজ আহমদ পিতা-মৃত আবু শামা ওরফে বাডু হাজী, দেলোয়ার (৩৮) পিতা-মৃত আবদুল মোতালেব, মো. সাহাব মিয়া, পিতা-মৃত সুলতান আহমদ, মো. শরীফ হোসেন (৪০) পিতা-মৃত জালাল আহমদ, শরীফ হোসেন ভুলু (৪৫) পিতা-মৃত মো. হোসেন, সাহেদুর রহমান নিপু পিতা-আবদুর রহমান ওরফে অসি আবদুর রহমান, হামিদ হোসেন (৪০) পিতা-মৃত হাজী আবদুল করিম, জহির উদ্দিন ওরফে কানা জহির (৬০) পিতা-মৃত হোসেন আলী সিকদার, মৌলভী আজিজ পিতা-মৌলভী নাছির উদ্দিন, নূর হাকিম মাঝি (৫৫) পিতা-মৃত গণি মিয়া, নূর মোহাম্মদ মেম্বার পিতা-নজু মিয়া, মৌলভী বশির ওরফে ভাইলা পিতা-মৃত সুলতান আহমদ, নজির আহমদ ওরফে নজির ডাকাত পিতা-আবদুর রহিম, আবদুল হামিদ (৪০) পিতা-আবদুল, গুরা মিয়া (৩২) পিতা-মৃত মোছাব্বর আহমদ, মো. কাসেম ওরফে জিমা কাসেম (৫৫) পিতা-অজ্ঞাত, মো. ইসলাম ওরফে বাগু (৩২) পিতা- ফজল আহমদ, জাফর আলম (৩৫), পিতা-ফজল আহমদ, আক্তার কামাল (৩৫) পিতা-নজির আহমদ মেম্বার, শাহেদ কামাল (৩০), পিতা-নজির আহমদ মেম্বার, আবদুর গফুর (৪০) পিতা-আলু ফকির, হেবজ রহমান ওরফে হেবজ মাঝি (৪২) রোহিঙ্গা, পিতা-অজ্ঞাত, মো. নুরুল হুদা, পিতা-মৃত আবুল কাসেম, মো. নুরুল কবির পিতা-মৃত আবুল কাসেম, আমান উল্লাহ ওরফে আনু পিতা-মো. শফি।

বেলাল উদ্দিন (২২) পিতা-মো. ধলু হোসেন, নূর হোসেন (৩২) পিতা-মৃত জালাল আহমদ, নুরুল আলম পিতা-নজির আহমদ, এনায়েত উল্লাহ পিতা-হাজী আলী হোসেন, মো. সেলিম পিতা-মৃত হোসেন, মো. হোসেন পিতা-দলিল মিয়া, জাফর আহমদ পিতা-জোর আহমদ, মো. শফিক পিতা-মাহমুদুল্লাহ মাঝি, আবু তাহের পিতা-আবুল কাসেম মিয়া, মো. জাফর পিতা-মৃত নূর আহমদ, আলী মাঝি পিতা-অজ্ঞাত, সামসুল আলম পিতা-মৃত কবির, মো. সাব্বির আহমদ পিতা-মৃত আব্দুল লতিফ, মো. কামাল হোসেন পিতা-কাল মিয়া, মো. হাসান, পিতা-ফয়জুর রহমান, মো. কবির হোসেন, পিতা-শফি মিয়া, মো. কবির হোসেন, পিতা-নূর আহমদ, সাদ্দাম (৪৫) পিতা-নূর আহমদ, আবুল কালাম পিতা-গুরা মিয়া, মো. শরীফ পিতা-লাল মিয়া, মো. লিটন, পিতা-আবদুল্লাহ, মো. আবুল হাসেম, পিতা-মো. জালাল, মো. দলিল আহমদ, পিতা-মো. হোসেন, সিদ্দিক আহমদ, পিতা-ইউসুফ আলী, ফয়েজ, পিতা-আজিজুর রহমান, নুরুল ইসলাম ওরফে কালা পুতু, পিতা-মৃত মকবুল আহমদ, জাহাঙ্গীর, পিতা-আব্দুল মাজেদ, মীর আহমদ, পিতা-অজ্ঞাত, মো. শাকের মাঝি (৩০), পিতা-কবির আহমদ, নুরু মাঝি (৪০), পিতা-নাজু মিয়া, হাফেজ মোক্তার, পিতা-মৌলভী আবদুল গফুর, মো. সৈয়দ আলম, পিতা-মৃত দুদু মিয়া, আব্দুর রহিম, পিতা-মঈনুজ্জামান, আলী আহমদ ওরফে আলী বলি, পিতা-অজ্ঞাত, নুরুল ইসলাম মাঝি, পিতা-মৃত গোলাল আহমদ, আইয়ুব আলী মাঝি, পিতা-মৃত আশরাফ আলী, আল মাসুদ, পিতা-মফিজুর আলম, জাহাঙ্গীর, পিতা-রবিউল হোসেন ওরফে আনসার, সোহাগ আবদুল্লাহ, পিতা-আবদুর রহিম, কবির ওরফে ডা. কবির (৫০), পিতা-অজ্ঞাত, মো. আলম ওরফে মাত আলম, পিতা-মৃত আমির হামজা , এনায়েত উল্লাহ, পিতা-হাফেজ আবদুর রহমান, মো. শামসুল আলম, পিতা-আব্দুর রশীদ, আবদুস সালাম ওরফে আবদু, পিতা-রশীদ আহমদ ও আজিজুল ইসলাম ওরফে পুতুইয়া, পিতা-রশীদ আহমদ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত