টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রহস্যের নাম ‘সালাহ উদ্দিন’!

bnp-salaচট্টগ্রাম, ০৯ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পার হচ্ছে আজ। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার কোনও হদিস পায়নি। সালাহ উদ্দিনের সন্ধান না পেয়ে হতাশ তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। তিনি সালাহ উদ্দিনকে উদ্ধারে আবারও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিএনপি ও স্বজনদের অভিযোগ, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ-হরতালের মধ্যে গত ১০ মার্চ উত্তরার একটি বাসা থেকে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়।

হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘আমার কাছে, আমার বাচ্চাদের কাছে সালাহ উদ্দিনকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবারও বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আগেও বলেছি, এখনও বলছি, দুই মাস আগে আমার স্বামীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। এখনও আমরা তার কোনও খোঁজ পাচ্ছি না। প্রথম দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঝে-মধ্যে যোগাযোগ করলেও এখন কেউ আর খোঁজও নেয় না।’

স্বামীর খোঁজ পেতে গত ১৯ মার্চ ও ৭ এপ্রিল দুই দফায় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি দেন হাসিনা আহমেদ। পরে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদনও করেন তিনি। এ বিষয়ে আদালত জানতে চাইলে আদালতকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে, পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সালাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করেনি। তার কোনও খোঁজও পায়নি তারা। তবে সালাহ উদ্দিনের সন্ধানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে বলেও আদালত ও স্বজনদের জানানো হয়।

গত ৫ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবরোধের ডাক দেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরে দলের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেফতারের পর যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জোটের পক্ষ থেকে বিবৃতি পাঠিয়ে অবরোধের পাশাপাশি হরতালের ডাক দিতে থাকেন। পরে তাকেও গ্রেফতার করা হলে দলের পক্ষ থেকে একই কায়দায় অজ্ঞাতস্থান থেকে অপর যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বিবৃতি পাঠিয়ে কর্মসূচি দিতে থাকেন। এই অবস্থায় গত ১০ মার্চ উত্তরার একটি বাসা থেকে তিনি নিখোঁজ হন।

সালাহ উদ্দিন আহমেদ নিখোঁজের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার  বলেন, বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অবহিত আছেন। পুলিশও সালাহ উদ্দিন আহমেদেরর সন্ধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

একই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো অব্যাহতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কোনও অগ্রগতি থাকলে ও তার সন্ধান পেলে সবাইকে যথাসময়ে জানানো হবে।

সালাহ উদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যক্তিগতভাবে কোনও মন্তব্য করতে রাজী হননি বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেন, মুখপাত্র হিসেবে দলের সামগ্রিক বিষয়ে তিনি বক্তব্য দেবেন, এ বিষয়ে নয়। তবে গত শনিবার সালাহ উদ্দিন আহমেদের বাসায় তার স্ত্রী ও সন্তানদের সান্তনা দিতে যান বিএনপি নেতারা। তখন সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা বিধান করার দায়িত্ব সরকারের। দলের একজন যুগ্ম মহাসচিব এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাবেন, রাষ্ট্র ও সরকার ৫৩ দিনেও কোনও সন্ধান দিতে পারবে না। এটা কল্পনাতীত। আমরা আবারও দাবি করছি, অবিলম্বে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে তার পরিবারের কাছে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে বনানীর ২ নম্বর সড়কের সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে অপহৃত হন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলী। তার নিখোঁজেরও তিন বছর এরইমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আজও সন্ধান মেলেনি তার।-বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত