টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

উচ্ছেদ অভিযানের নামে কক্সবাজারে স্কুল ভাংচুর !

user comment

user comment

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
অধিগ্রহণকৃত জমি উদ্ধারের অজুহাতে কক্সবাজার সড়ক বিভাগ শহরতলির সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্টিত ‘কক্সবাজার এজি মডেল স্কুল’ নামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেধড়ক ভাংচুর চালিয়ে বিদ্যালয় ভবনের অধিকাংশই গুড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে সড়ক বিভাগের একজন সহকারি প্রকৌশলির নেতৃত্বে এই ভাংচুর চালানো হয়। ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সুযোগে বৃহস্পতিবার বিকালে একদল লোক নির্বিচারে বিদ্যালয়ে ঘেরার টিন এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ভেঙ্গে ফেলে এবং বিদ্যালয় ভবনের অধিকাংশই গুড়িয়ে দেয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অধিবাসিদের অভিযোগ, সড়ক বিভাগ কলেজ গেইট এলাকা থেকে লিংক রোড পর্যন্ত কোথাও উচ্ছেদ অভিযান না চালিয়ে শুধুমাত্র এজি মডেল স্কুলে ভাংচুর চালিয়েছে। তাদের মতে, একজন ভূমিগ্রাসির কাছ থেকে মোটাঅংকের অর্থ নিয়ে শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্টানটিকে উচ্ছেদ করার জন্য এই অভিযান চালিয়েছে। তাছাড়া ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলেও সড়ক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা আদালতে তথ্য গোপন করে উচ্ছেদ অভিযানের নোটিশ জারি করিয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। সকাল ১০টায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর জন্য নির্ধারণ করেও বিকালে ওই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। যাতে সড়ক বিভাগ ওই ভূমিগ্রাসির স্বার্থরক্ষা করে পুরো বিদ্যালয় ভবনটিই গুড়িয়ে দিতে পারে। তবে সাধারণ লোকজনের বাধার মুখে তারা পুরো বিদ্যালয় ভবন গুড়িয়ে দিতে পারেনি।
এজি মডেল স্কুল পরিচালনা কমিটির মতে, ওই বিদ্যালয়ের পেছনে দীল মোহাম্মদ নামের ওই ভূমিগ্রাসির জমি রয়েছে। ওই ব্যক্তি তার সামনের মাওলানা আবদুল গফুরের চার ছেলের মালিকানাধীন জমিটি জবরদখল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু মাওলানা আবদুল গফুরের ছেলেরা নিজেদের মালিকানাধীন জমি বিদ্যালয়ের নামে হস্তান্তর করে ওই জমিতে বিদ্যালয় গড়ে তোলায় সেই ভূমিগ্রাসি চক্র জমিটি দখলে নিতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু তার দখলের অপচেষ্টা থেমে থাকেনি।
তাদের মতে, ওই ভূমিগ্রাসি ব্যক্তি নিজে জবরদখল করতে না পেরে সড়ক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে বিদ্যালয়ের জমিটি সড়ক বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমি বলে চালানোর অপতৎপরতা শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকার পরও আদালতে তথ্য গোপন করে উচ্ছেদ আদেশ আদায় করে।
এজি মডেল স্কুলের অন্যতম পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কাশেম জানান, বর্তমান এজি মডেল স্কুলের জমিটির মালিক তারা চার ভাই। তারা ওই জমিতে কয়েকবছর আগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টা করেন। কিন্তু সড়ক বিভাগ ওই জমির কিছু অংশ অধিগ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরু করে। সড়ক বিভাগ জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করলেও জমির মূল্য এযাবত পরিশোধ করেনি। এই ঘটনায় তারা আদালতে মামলা দায়ের করেন।
তিনি জানান, মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। তবে ওই জমিতে প্রতিষ্টিত বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান চলে আসছিল। এলাকার অধিকাংশ প্রাথমিক শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। কিন্তু তাদের স্কুলের পেছনে ওই ভূমিগ্রাসি দীল মোহাম্মদ জমি ক্রয় করে। পরে ওই ব্যক্তি বিদ্যালয়ের এই জমিটিও দখল করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু এলাকাবাসি ও অভিভাবকদের প্রতিরোধের মুখে জবরদখল করতে না পেরে সড়ক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে। সড়ক বিভাগের ওই কর্মকর্তারাও উচ্ছেদের নামে বিদ্যালয়ের জমি ওই ব্যক্তিকে দখল করে দেয়ার অপতৎপরতা চালাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক ইমাম খালেদ স্বপন ও এহসানুল হক জানান, বিদ্যালয়ের জমি যদি সড়ক বিভাগের হয়, তাহলে তো পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ফয়েজ ফিলিং স্টেশনসহ কলেজ গেইট থেকে লিংক রোড পর্যন্ত এবং কলেজ গেইট থেকে উপজেলা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের সকল স্থাপনাই সড়ক বিভাগের জমি হওয়ার কথা। কিন্তু সড়ক বিভাগ কোন স্থাপনা উচ্ছেদ না করে শুধুমাত্র এজি মডেল স্কুলে হামলা, উচ্ছেদের নামে ভাংচুর করা নিশ্চয় অপতৎপরতা ও সন্ত্রাসি কর্মকান্ড এবং সেখানে নিশ্চয় কোন পক্ষের কারসাজি রয়েছে।
তাদের মতে, সড়ক বিভাগ অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে স্কুলের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। সড়ক বিভাগের এই অভিযান আদালতের অবমাননা। যেহেতু আদালতে এই জমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এই অভিভাবকরা মনে করেন, যেভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্টান উচ্ছেদ করা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে দেশে কোন আইনের শাসন নেই।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সড়ক বিভাগের সহকারি প্রকৌশলি এমদাদ হোসেন জানান, মহাসড়কের দুইপাশে ১২০ ফুট জমি সড়ক বিভাগের। তাই অধিগ্রহণকৃত এই জমি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা (জমির মালিক) মামলায় হেরে গেছেন। তাই আদালতের উচ্ছেদ নির্দেশনা নিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলি এমদাদ হোসেন জানান, সড়কের দুইপাশে সাধারণত ৫০ ফুট জমি সড়ক বিভাগের। কিন্তু কোন কোন জায়গায় তারচেয়েও বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য, শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয় নিয়ে এমন ভাংচুরের ঘটনা ওই এলাকায় আরও বড় ধরণের দূর্ঘটনার জন্ম দেবে। এই ঘটনাকে ঘিরে বড় ধরণের বিপর্যয়ও হতে পারে।
এ ব্যাপারে উচ্ছেদ অভিযানে থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আদালতের দায়িত্ব পেয়ে আমি এসেছি।’

মতামত