টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মেসির জোড়া গোলে বায়ার্নকে হারালো বার্সা

spচট্টগ্রাম, ০৭ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :  লিওনেল মেসির জোড়া গোলে বায়ার্ন মিউনিখকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। মেসির পাস থেকেই অপর গোলটি করেন নেইমার।

ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার এক প্রকার ব্যক্তিগত আক্রমণই করেছিলেন মেসিকে। বলেছিলেন, বিশ্বকাপে দেখিয়েছি এবার চ্যাম্পিয়নস লিগেও দেখাবো মাঠে আসলে কে বস?

তবে যে গুরুর হাতে তৈরি মেসি, তিনি কি আর না জানেন শিষ্যের ক্ষমতা কতটা। তাই নয়্যারের পথে না হেটে পেপ গার্দিওলা বলেছিলেন, কোনো ডিফেন্ডারই মেসি থামাতে পারবে না।

তবে খেলার ৭৫ মিনিট পর্যন্ত মনে হচ্ছিল নয়্যারের কথাই যেন সত্যি হতে চলছে। তখন পর্যন্ত স্কোর লাইন ছিল গোলশূন্য। এর মধ্যে নয়্যারকে একা পেয়েও সুয়ারেজ দু’বার এবং নেইমার একবার গোল করতে ব্যর্থ হন।

শেষ পর্যন্ত গুরুর কথাই সত্যি হলো। বায়ার্নের বিশ্বসেরা ডিফেন্স আর নয়্যারের মতো গোলরক্ষককে একরকম ঘোল খাইয়ে ম্যাচ জিতে নিলেন মেসি। নিজের ১০০তম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে বায়ার্নকে ছেড়ে-কুড়ে তিন গোল আদায় করে নেন মেসি ও তার বিশ্বসেরা সতীর্থরা।

খেলার ৭৭ মিনিটে প্রায় মাঝ মাঠ থেকে মেসিকে বল দেন দানি আলভেজ। বায়ার্নের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বুলেট শটে বল জালে জড়ান মেসি। এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে রোনালদোর করা ৭৬ গোল স্পর্শ করেন মেসি।

এর তিন মিনিট পর (৮০মিনিটে) দ্বিতীয় গোলে মেসি যা করলেন নয়্যার হয়তো অদুর ভবিষ্যতে ভুলতে পারবেন না। ইভান রাকিটিচের বাড়ানো বল দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নয়্যার মাথা উপর দিয়ে মেসি যেভাবে চিপ করলে সেই মোহনীয় মুহূর্ত উপভোগ করা ছাড়া কিছুই করার ছিল না নয়্যারের। দ্বিতীয় গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৭৭ গোল নিয়ে রোনালদোকে ছাড়িয়ে যান ‘এমএলটেন’।

চলতি মৌসুমে সিআর সেভেনের চেয়ে এগিয়ে আছেন মেসি। ১১ ম্যাচে ১০ গোলে মেসির। সমনা সংখ্যাক ম্যাচে রোনালদো করেছেন ৯ গোল। তার সমান ৯ গোল করেছেন শাখতার দোনেস্কের লুইস আদ্রিয়ানো।

নির্ধারিত খেলার সময় শেষে অতিরিক্ত সময় হিসেবে চার মিনিট যোগ হয়। দুই গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বায়ার্ন। কিন্তু ৯৪তম মিনিটে আবারও বেভারিয়ানদের জালে বল জড়ান নেইমার। এবারও কারিগরের ভূমিকায় মেসি। মাঝ মাঠ থেকে নেইমারকে এমন বল দেন মেসি; যা জালে জড়ানো ছাড়া আর কিছই করতে হয়নি ব্রাজিল তারকার।

দুই বছর আগে এই বায়ার্নের কাছেই চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-০ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। এবার হয়তো সেটা বুঝিয়ে দেয়ার প্রত্যয় কাতালানদের।

রাতটা দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকলো গার্দিওলার কাছে। বার্সা ছেড়ে যাওয়ার পর কোচ হিসেবে এই প্রথম ন্যু ক্যাম্পে ফিরেছিলেন তিনি।

এই জয়ে ফাইনালে প্রায় এক পা দিয়ে রাখলো বার্সা। কারণ বার্সাকে হারিয়ে ফাইনালে যেতে হলে ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে কমপক্ষে ৪-০গোলে জিততে হবে বায়ার্নকে।

মতামত