টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামের দেড় লাখ স্থাপনা ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে

_DSC1003চট্টগ্রাম, ০৫ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামের আড়াই লাখ স্থাপনার মধ্যে প্রায় দেড়লাখ স্থাপনা ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত ‘আর্থকোয়াক রিস্ক ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন বলেছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা তো রয়েছেই,সেই সাথে ৬০০ কোটি ডলারের ক্ষতির মুখে পড়বে দেশ।

তিনি আরো বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-মিয়ানমার ও বাংলাদেশ অংশের ভূতাত্ত্বিক প্লেটটি এখনো সক্রিয় এবং তা ক্রমে অগ্রসর হচ্ছে। বুয়েটের গবেষণায় দেখা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, রাজশাহীর তানোর, কুমিল্লা, চট্টগ্রামের ডুবরী, সীতাকুন্ড, সিলেটের শাহজীবাজার ও রাঙামাটির বরকলে আটটি ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি বা ফল্ট জোন সচল অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও ইউএনডিপির সহায়তায় বুয়েটের গত বছরের গবেষণায়ও বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকির কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই ভূমিকম্প রোধে উদ্যোগে ধীরগতির পরিহার করে এখনই গড়ে তোলা প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভূমিকম্প কখনো মানুষ মারে না, মানুষ মারে অপরিকল্পিত নির্মাণ। বাংলাদেশ হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মেগা শপিংমল। আমরা সব সময় ভূমিকম্পের ঝুঁকি মধ্যে আছি। ভবিষ্যতেও থাকবো। তবে আমরা যেটি করতে পারি সেটি হলো ঝুঁকি কমিয়ে দেয়া। এজন্য সচেতন হতে হবে। স্থাপনা নির্মাণে অধিক সচেতন হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা সম্প্রতি নেপালের ভূমিকম্প দেখেছি। সেখানে দিনের বেলায় ভূমিকম্প হয়েছে। কিন্তু স্কুলগুলোর কোন ক্ষতি হয়নি। কারণ স্কুলগুলো শতভাগ ভূমিকম্পের ঝুকিমুক্ত করে তোলা হয়েছে। এ জন্য স্কুলের বাচ্চারা তেমন মারা যাননি। আমাদের এখানে দিনের বেলায় ভ’মিকম্প হলে হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে মারা পড়তে পারে। এজন্য স্কুলগুলোকে আমরা ঝুকিমুক্ত করে তুলতে পারি। কেবল যেখানে ব্যাঘাত ঘটিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সেখানেই বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সুন্দর সুদৃশ্য শহর ভেঙ্গে গেছে। আমাদের দেশও নেপালের থেকে খুব দূরে নয়। নেপাল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মানজারে খুরশীদ আলম সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। নয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুয়েটের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ রফিকুল আলমসহ সংশ্লিস্টক্ষেত্রসমূহের বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত