টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সমুদ্রে মাছ ধরা যাবে না ৬৫ দিন

চট্টগ্রাম, ০৫ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস): সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। আগামী ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই মোট ৬৫ দিন সমুদ্রে কোনো মাছ ধরা যাবে না বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক।

মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সমুদ্রে ট্রলার দিয়ে কোনো মাছ ধরা যাবে না। এক লাখ আঠারো হাজার একশ তের বর্গকিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এ সময় যাতে বিদেশি কোনো জাহাজও মাছ ধরতে না পারে সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, সংরক্ষণের স্বার্থে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বাণিজ্যিক ট্রলারের মাধ্যমে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ এবং প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা।

ট্রলার দ্বারা আহরিত মাছের বিগত পাঁচ বছরের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে প্রতি বছর জুন হতে আগস্ট মাসে সাদা মাছের আহরণ তুলনামূলকভাবে কম এবং প্রতিবছর তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, মৎস্য বিশেষজ্ঞগণ মাছের মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কতিপয় প্রজাতির মাছের প্রজননকাল বিবেচনায় প্রতিবছর জুন-জুলাই মাসে সাদা মাছের আহরণ আইন করে বন্ধ রাখার জন্য প্রস্তাব করেন।

তিনি আরো বলেন, মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বঙ্গোপসাগরে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং মাছের মজুদ সংরক্ষণপূর্বক সুষ্ঠু ও বিজ্ঞানসম্মত সহনশীল আহরণ নিশ্চিত করা লক্ষ্যে সাদা মাছের ক্ষেত্রে প্রতিবছর ২৩ মে থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সর্বমোট ৬০ দিন প্রধান প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করে বাণিজ্যিক ট্রলার দ্বারা মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়।

সারা বছর মৎস্য আহরণের জন্য সমুদ্রে গমন করলেও জুন-আগস্ট মাসে প্রাকৃতিক দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বন্দরে প্রত্যাবর্তন করে থাকে। ওই সময়ে সাদা মাছের আহরণ মৌসুম বন্ধ ঘোষণা করা হলে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও সর্বোচ্চ সংরক্ষণের স্বার্থে আগামী ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই মোট ৬৫ দিন সকল প্রকার বাণিজ্যিক ট্রলার দ্বারা মৎস্য ও চিংড়ি আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এর ফলে যদি ১০ থেকে ২০ ভাগ মাছও সংরক্ষণ করা যায় তাতেও আমাদের সমুদ্র এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাছ বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি। এতে করে জাতি উপকৃত হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত