টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দলীয় কোন্দলে নেই হেফাজতের কমর্সূচি

hefajetচট্টগ্রাম, ০৫ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস): দিনটি ছিল ৫ মে ২০১৩। রাজধানীর প্রবেশ পথে ভোররাত থেকেই অবস্থান নেয় হাজার হাজার হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মী। এতে করে সারা দেশের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার অনুমতি চায় তারা। দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত সেখানে সমাবেশ করতে অনুমতি দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে মোড় নিলে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের হটিয়ে দেয়। ঠিক দুই বছর আগে শাপলা চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।

আজ ওই ঘটনার দ্বিতীয় বার্ষিকী। তবে এ নিয়ে এখন আর আগ্রহ নেই কওমি মাদ্রসার শিক্ষক-ছাত্রসহ সংশ্লিষ্টদের। অার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ উপলক্ষে হেফাজতের নেই কোনও কর্মসূচি।

হেফাজত দাবি করেছিল, ঘটনার দিন তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। তবে ঘটনার দু’বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনও তালিকা দিতে পারেনি হেফাজত। কোনও কোনও হেফাজত নেতা ‘নিহত’ নেতাকর্মীদের নামে দেশ-বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহও করছে। তবে সে টাকা ‘আহত কিংবা নিহত’ হেফাজত কর্মীদের পরিবারে পৌঁছায়নি। দলটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। এছাড়া সহিংসতার জন্য মামলা হওয়া মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্রদেরও খবর রাখেনি সংগঠনটি।

ঘটনার দ্বিতীয় বষূর্পতি উপলক্ষে ঢাকার হেফাজতে ইসলামের নেই কোনও কর্মসূচি। যদিও হেফাজতের আমির আল্লামা আহমদ শফী এখন ঢাকায়।

চট্রগ্রামেও তেমন কোনও আয়োজন নেই দলটির। শুধু কিছু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল দিনটি স্মরণে ক্ষুদ্র পরিসরে কিছু কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে পতাকা মিছিল আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। ইসলামী ঐক্যজোট দোয়া দিবস পালনের কর্মসূচি দিয়েছে।

শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের পাল্টা শাপলা চত্বরে সমাবেশের কর্মসূচির ডাক দিয়ে ২০১৩ সালের ৫ মে আলোচনায় আসে হেফাজতে ইসলাম। নজিরবিহীন সহিংসতায় বির্তকের জন্ম দেয়।

১৩ দফা দাবি থাকলেও তা বাস্তবায়নে নেই কর্মসূচি বা তৎপরতা। এমন বির্তকিত ঘটনার কারণে হেফাজত নিয়ে আগ্রহ নেই কওমি মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ রয়েছে, হেফাজতের আমির আহমদ শফীর ছেলে আনাছ মাদানি হেফাজতের নামে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। হাটহাজারী মাদ্রাসার নামে রেলের অর্ধশত কোটি টাকার জমি বরাদ্দ নেওয়াসহ নানান সুবিধার শর্তে সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেন আল্লামা শফী ও তার ছেলে আনাছসহ গুটিকয়েক শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

এছাড়াও মামলা মোকদ্দমা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ফল‌‌‌ে হেফাজতের পক্ষ থেকে এমন কোনও কর্মসূচি নেই যা সরকারের বিপক্ষে যায়। মাঝে মধ্যে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির নানা বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়।

রাজশাহীর এক মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আহমদ জুবায়ের বলেন, ‘আল্লাহ, রাসুল (সাঃ) নিয়‌‌‌ে কটূক্তিকারীদের বিচার ও ধর্মের জন্য হেফাজতকে সমর্থন করে সেদিন ঢাকায় গিয়েছিলাম। হেফাজত নেতাদের ওপর বিশ্বাস রেখে সেখানে অবস্থান নেই। কিন্তু ঘটনা ভিন্ন। ধর্ম নয়, নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত তারা। তাদের ভুল সিদ্ধান্তে সারা দেশের মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হয়েছে। অনেক‌‌‌ে আহত হয়েছে। কিন্তু কেউ তাদের খবর রাখেনি। নিহতদ‌‌‌ের সঠিক সংখ্যা জানিয়ে কোনও তালিকাও এখন পর্যন্ত হয়নি। তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কেউ আর বিপদে পড়তে চায় না।’

হেফাজত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে হেফাজত বিভক্ত রাজনৈতিক কারণে। শুরুতে লালবাগ জামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফাজতের র্কমকাণ্ড পরিচালতি হতো। ৫ ম‌‌ের পর বারিধারা জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসা থেকে পরিচালতি হচ্ছে। এ নিয়ে বিরোধে ঢাকার হেফাজতে বিভক্তির এখনও সুরাহ হয়নি। অন্যদিকে হেফাজতের মূল কেন্দ্র চট্টগ্রাম মহানগরীর বাইরে। ফলে কেন্দ্রীয় কোনও কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিত কম। ঢাকার এই বিরোধের কোন্দলে ৫ মে নিয়ে কোনও কর্মসূচি নেই। তবে সোমবার চট্টগ্রামে সংগঠনটির মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী ৫ মে সারাদেশে মসজিদ-মাদ্রাসায় দোয়া, ৬ মে বুধবার হাটহাজারী কলেজ মাঠে শানে রেসালত সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন ঢাকার হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলছেন, কেন্দ্র থেকে যে কর্মসূচি নেওয়া হবে তাই পালন করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ‘৫ মে আমাদ‌‌‌ের জন্য মর্মান্ততিক একটি দিন। শাপলা চত্বরে যৌথ অভিযানে অনেক লোক নিহত হয়েছে। নানা কারণে এখনও চূড়ান্ত তালিকা হয়নি। প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সেকাজ হচ্ছে চট্রগ্রাম থেকে। আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি আহত-নিহতদের পরিবারের খোঁজ-খবর রাখতে। সব সময় ব্যক্তিগত চেষ্টায় সম্ভব হয় না। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের হাতে। তারাও নজরদারি‌‌র কারণে সব সময় সব জায়গায় যেতে পারনে না।’

ঢাকার হেফাজত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলে এখন কোনও কর্মসূচি নেই। তাই যে যার অবস্থানে রয়েছে, এটা বিভক্তি নয়। হেফাজত নেই আগ্রহ নেই বললেও ভুল হবে, এখনও অনেকেই খোঁজ নেন নতুন কর্মসূচি কবে আসবে। আগ্রহ না থাকলে তো জানতে চাইতেন না তারা। আসলে সরকার আমাদের কোনও কর্মসূচি ঘোষণা করলেই বাধা দেয়। ফলে তা আর পালন করা হয় না। আমরা এখনও ১৩ দফা দাবির বাস্তবায়নের জন্য অটল। এ জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছে, আন্দোলন চলবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হেফাজত নেতা বলেন, ‘বয়সের কারণে আল্লামা শফী সব কিছুর খোঁজ-খবর নিতে পারনে না। তার ছেলে আনাছসহ কিছু লোক তাকে ভুল তথ্য দেয়। তাদ‌‌‌ের কারণে আমিরের কাছে কেউ যেতে পারে না। এজন্য অনেকেই সরে গেছেন। ৫ মে ইসলামের জন্য আল্লামা শফীর ডাকে সাড়া দিয়ে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু তারা তাদের স্বার্থে সেদিন অবস্থান নিয়ে এতো মানুষকে বিপদে ফেলেছে। এমনকি হেফাজতের শীর্ষ নেতারা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছেন।’-বাংলা ট্রিবিউন

মতামত