টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ব্যক্তি নয়, এখনও দলকেই ভোট দেয় ভোটাররা

albd-bnpচট্টগ্রাম, ০৪ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস): ভোটের রাজনীতিতে এখনও প্রধান দু’দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির বাইরে অন্য কাউকে ভাবতে পারছে না নাগরিকরা। এমনকি জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধীদল হিসেবে জাতীয় পার্টি থাকলেও জনগণের কাছে তাদের যে কোনও রাজনৈতিক অবস্থান নেই তার প্রমাণও এবার মিলেছে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। এখনও ভোটাররা দল দেখেই ভোট দেন, ব্যক্তি দেখে নয়।

আর বাম দলগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তর সমালোচনা করার পাশাপাশি পরস্পরকে নানা কায়দায় দুষছেন। নির্বাচনে প্রধান দুই শক্তির তুলনায় প্রচার-প্রসারের কায়দায় কোনও দিক থেকে তারা পিছিয়ে নেই। তবে ব্যালট বাক্সে পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে তারা তৈরি করেছেন দ্বিমুখী অবস্থান।

একদিকে বলছেন, ভোটে অনিয়মের কারণে তাদের প্রকৃত ভোট গণনায় আসেনি। অন্যদিকে তারা বলছেন, ক্ষমতাবান দু’দল নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন দেখানোর চেষ্টায় তাদের ব্যবহার করেছে। আবার ভোট ঠিকমতো হয়নি ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের নেতাকর্মীরাই ভোট দিয়েছেন কিনা এসব নিয়েও বিশ্বাসহীনতায় ভুগছেন কেউ কেউ।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেন। কিন্তু প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টি নির্বাচনের শেষ মিনিট পর্যন্ত ভোটযুদ্ধে থাকার পরও তিন সিটি নির্বাচন মিলিয়ে তাদের মেয়র প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন মাত্র সাড়ে ১৩ হাজার। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল চরকা প্রতীকে দুই হাজার ৯৫০, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন সোফা প্রতীকে চার হাজার ৫১৯ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) নির্বাচনে সোলায়মান আলম শেঠ ডিশ এন্টেনা প্রতীকে ছয় হাজার ১৩১ ভোট পেয়েছেন।

ভোটের পর সিপিবি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এতোদিন বারবার শুনে এসেছি ঢাকা শহরে প্রায় ১ লাখের চেয়ে বেশি সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী বাস করে। স্বাভাবিকভাবেই উত্তরে বেশি থাকবে। তারপরও ধরি ৫০ হাজার সাবেক থাকে। তারা কি হাতি মার্কায় ভোট করেনি? যদি হাতিকে ভোট দেয় তবে ভোট গেল কোথায়? তাহলে কী সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন আমার প্রাপ্ত ভোট ফেলে দিল? আমি জানি না। আসলে গাদ্দারি করলো কে?’

নিজেদের অবস্থান নিয়ে যেমন তারা সমালোচনার জায়গা তৈরি করছেন, তেমন অন্য বাম প্রার্থীদের প্রতি বিষেদগার করতেও ছাড়ছেন না। ক্বাফী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনের অধিকাংশ নেতা দিনের বেলায় শ্রমিকের মুক্তির আওয়াজ দিয়ে রাতের বেলায় মালিক নেতা আনিস সাহেবের টাকায় কাত হয়ে ঘড়ি মার্কার দালালি করেছে।’

তার নিচে কমেন্টে শিরিন সুলতানা নামের একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ব্যক্তিকে ভোট দেয় না। ভোট দেয় নির্দিষ্ট রাজনীতিককে। মানুষ তাবিথ নামের ব্যক্তিকে কেউ ভোট দেয়নি, দিয়েছে বিএনপির রাজনীতিকে। বাংলাদেশের বামপন্থীরা মানুষের জন্য অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করার পরও তারা মানুষের মনোস্তত্ত্ব আজও বুঝতে পারেনি. . .গত দুই দশক ক্রমাগত ভুল রাজনীতির কারণে ‘সিপিবি পরিবারের’ লাখ লাখ সদস্য রাজনীতির নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে গেছেন। এ নির্বাচনে প্রাপ্ত ফল বিশ্লেষণ করে সিপিবি কী দুই দশকের অবাস্তব রাজনীতি থেকে বাস্তবতায় ফিরে আসবে?’

এদিকে আরেক প্রার্থী জোনায়েদ সাকি মনে করেন, সেই আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যেই ভোটের রাজনীতিকে বদ্ধ রাখার পরিকল্পনা থেকেই এবারের নির্বাচনে এক ধরনের প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। নির্বাচনের পরদিনই তিনি বলেছেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেখানোর চেষ্টা করে ক্ষমতাসীনরা তাদের দ্বিদলীয় বৃত্ত অটুট রাখার চেষ্টা করেছেন। প্রহসনের সবচেয়ে বড় নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে সম্ভবত গণনা ও ফলাফল বিষয়ে।’

তিনি অারও বলেন, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা সকালের দিকেই ভোট বর্জন করলেও তাদের বাক্সে বিপুল পরিমাণ ভোট দেখানো হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেখানোর জন্য। অনেকটা মাগুরা নির্বাচনের মতোই ইচ্ছামতো ভোট বরাদ্দের প্রক্রিয়া এখানে স্পষ্ট। এর মাধ্যমে একদিকে সরকারি দল এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসাবে দেখাবার আয়োজন করেছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান জানিপপ-এর সভাপতি ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, ‘এখনও আমাদের দেশে প্রার্থী দেখে ভোট দিয়ে তাকে জয়ী করে ক্ষমতায় আনার মতো পরিস্থিতি আসেনি। মানুষ এখনও দলকে ভোট দেয়।’ এর পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে যে অনিয়মগুলো তার সংগঠন পর্যবেক্ষণ করেছে সেগুলোও উল্লেখ করেন তিনি।-বাংলা ট্রিবিউন

মতামত