টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

লায়লি-মজনুর প্রেমকেও হার মানাতে পারে ফটিকছড়ির রনি-জ্যুতি‘র প্রেম !

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি  প্রতিনিধি 

fatickchari(premik-jooti)-nচট্টগ্রাম, ০৩ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):  প্রেম মানে না জাত-কুল, প্রেম মানে না ধর্ম বর্র্ণ, এ যেন চিরন্তন সত্য। তারই প্রমাণ মিলল ফটিকছড়ির রনি-জ্যুতির প্রেম কাহিনীতে । তাদের এ প্রেম লায়লি-মজনুর প্রেমকেও হার মানাতে পারে বলে উপস্থিত অনেকের মন্তব্য করেছেন।

রনি; পুরো নাম রনি কান্তি দে। রনি উপজেলার কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের রাজা রাস্তার বাড়ির মৃত ধনা কান্তি দের ছেলে। সবেমাত্র ফটিকছড়ি কালেজ থেকে এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়েছে রনি।

তাদের পাশ্ববর্তি এলাকার মুসলিম পরিবারের মেয়ে জান্নাতুল নাঈমা জ্যুতির সাথে বিগত পাঁচ বছর পূর্ব থেকে মন দেওয়া নেওয়া চলে আসছে তার। জ্যুতি স্থানীয় কাঞ্চুরহাট দাখিল মাদ্রাসা থেকে দুই বছর পূর্বে দশম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা করে থামিয়ে দেয় শিক্ষা জীবন।

দু‘জন দুই ধর্মালম্বী হলেও তাদের প্রেমে ফাঁটল সৃষ্টি হয়নি বিন্দু পরিমানও। উভয় পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েক দফা সালিশী বৈঠক হয় তাদের এই প্রেম নিয়ে। উভয়ে পরিবার থেকে শারীরিক অত্যাচারের শেষটুকু হজম করে। কিন্তু মেয়ের পরিবার যখন জোর করে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার দিনক্ষণ ঠিক করেন, তখনই পাল্টে যায় চিত্র। প্রেমিক জুটি সিদ্ধান্ত নেয় পালিয়ে যাবে অজানা উদ্দেশ্যে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত শুক্রবার ভোর সকালে মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও ছেলেটি বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি। তার পরিবার বিষয়টি টের পেয়ে আটকে রাখে রনিকে। জব্ধ করে ফেলা হয় তার মুঠোফোনটি। মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রেমিকের সাথে বার বার যোগাযোগ করতে চাইলেও ব্যার্থ হয়। পরে মেয়েটি তারেক নামের তাদের এক বন্ধুর সহায়তায় পালিয়ে যায় কুমিল্লায়। সেখানে তাদের পরিচিত এক বাসায় আশ্রয় নেয়। প্রেমিক রনি কৌশলে বন্দি থেকে পালিয়ে প্রেমিকার কাছে ছুঁটে যায়।

পালিয়ে যাওয়ার ২৪ ঘন্টা পার হতে না হতে মেয়ের পরিবার তাদের সহযোগী তারেককে ধরে বেধড়ক পিঠিয়ে তাদের অবস্থান জেনে নেন। শনিবার সকালে গোপনে সেখানে গিয়ে উভয়কে নিয়ে এসে ফটিকছড়ি থানায় সোপার্দ করেন। শনিবার রাতে থানা হাজতে কথা হয় প্রেমিকজুটির সাথে।

প্রেমিকা জান্নাতুল নাঈমা জ্যুতি বলে, আমি এভাবে পালিয়ে পরিবারকে ছোট করতে চাইনি। বাধ্য হয়ে পালিয়ে গেছি। আমি রনির জন্য পৃথিবীও ছাড়তে রাজি।’

প্রেমিক রনি কান্তি দে বলে, আমি জ্যুতির জন্য ধর্ম, পরিবারও ত্যাগ করতে প্রস্তুত। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে জ্যুতিকে আমার জীবন সঙ্গী হিসেবে পেতে চাই’।

সরেজমিনে দেখা যায়, থানা হাজতে উভয়কে আলাদাভাবে রাখা হয়। ছেলে পক্ষের কাউকে পাওয়া না গেলেও মেয়ের বাবা আবুল বশর এসেছেন ছেলেটির বিরোদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করতে। মামলা দায়ের করে চলে যাওয়ার সময় কিছু কিনে খেতে মেয়ের হাতে দিয়ে যান কিছু টাকা। সেই টাকা দিয়ে মেয়েটি কিছু জুস,কেক আর কলা কিনে আনল এক পুলিশ কনেস্টবল দিয়ে। আর সেই সব খাবার নিজে না খেয়ে পাঠিয়ে দিল প্রেমিক রনি কান্তি দের কাছে। রনিও যখন শুনল তার জ্যুতি পাটিয়েছে, তখনই দু‘হাত বাড়িয়ে লুফে নিল সেসব খাবার।

ফটিকছড়ি থানার উপ-পরিদর্শক(এস.আই) শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, মেয়ের বাবা বাদী হয়ে রনির বিরোদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেছে। অপহরণ মামলার প্রেক্ষিতে তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত