টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে হত্যার পর শিশুকে পানিতে ভাসিয়ে দিলেন মামি

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

mচট্টগ্রাম, ০২ মে এপ্রিল (সিটিজি টাইমস): এ কেমন নৃসংশতা, এ কেমন অমানবিকতা। মায়ের সাথে ঝগড়ার বলি হলেন দুই বছরের ফুটফুটে শিশু। আপন মামি হত্যার পর শিশুটির লাশ পুকুরে ভাসিয়ে দেয়। এমন পাষন্ডতা মধ্যযুগকেও হার মানিয়েছে। এমন ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৯ নম্বর সদর ইউনিয়নের মান্দারবাড়িয়া গ্রামে। দুই বছরের শিশু আল আমিনকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তারই আপন মামি। শিশুটিকে হত্যার পর পাশ্ববর্তী পুকুরে ফেলা দেওয়া হয় তার লাশ। পরবর্তিতে বাড়ির লোকজন পুকুর থেকে শিশু আল-আমিনকে উদ্ধার করে মিরসরাই সদরের মাতৃকা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করে। এমন বর্বোরচিত ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের পাশাপাশি চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ( ১ মে) রাত সাড়ে আটটায় মান্দারবাড়িয়া গ্রামের আমিন হোসেন সিদ্দিকী বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত আল আমিনের মামা আবুল কাশেম জানান, তার বোন লায়লা আক্তার তার শিশু সন্তানকে বাসায় রেখে পাশ্ববর্তী বাড়ীতে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যায়। এই সুযোগে তার স্ত্রী নুরের নেহার (৩৫) আল আমিনকে ঘুমন্ত অবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এর পর আল আমিনকে পাশ্ববর্তী পুকুরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে লায়লা ঘরে এসে ছেলেকে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোজার পর পুকুরে তার লাশ ভাসতে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আদরের সন্তানকে হারিয়ে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন তিনি। শুধু বিলাপ করে বলছেন আমার সাথে ঝগড়া হয়েছে প্রয়োজনে আমাকে মেরে ফেলতো। কিন্তু আমার সন্তানের কি দোষ? কেন আমার জন্য আমার বুকের ধনকে বলি হতে হলো। তার আহাজারিতে উপস্থিত কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

স্থানীয় এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, সংসারে ঝগড়া বিবাদ হতেই পারে। তার জন্য এমন জগন্য কাজ কি মানুষ করতে পারে? নুরের নাহারে তিনটি সন্তান রয়েছে। তিনি একজন মা হয়েও কিভাবে পাষন্ডের মতো একটি ফুটফুটে শিশুকে হত্যা করতে পারলেন। এসময় এলাকাবাসী এমন গর্হিত কাজের জন্য তার উপযুক্ত শাস্তি দাবী করেন। যাতে অন্যকোন মানুষ শিশু হত্যার মতো এমন জগন্য কাজ করতে না পারে।

নিহত শিশু আল-আমিনের মামি নুরের নেহার জানান, আমাদের আট জনের সংসারে আমার স্বামী একমাত্র উপার্জনকারী ব্যাক্তি। আমার ননদ লায়লা আক্তার বিয়ের কিছুদিন পর স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসে। তখন থেকে তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমার স্বামী বহন করে আসছে। তাকে তার স্বামীর বাড়িতে যেতে বললেও সে না যাওয়ায় তার সাথে কথা বাগবিতন্ডা হয়। গত কয়েকদিন আমার শাশুড়ি তাকে (লায়লা) আমার সংসার থেকে আলাদা (ভিন্ন) করে দেয়। তারপরও সে আমার সাথে বিভিন্ন বিষয় ঝগড়া লাগতো। একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে লায়লা বাড়ি না থাকায় আমি রাগের বসে তার সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় পুকুরে ভাসিয়ে দিই। বালিস চাপা দিয়ে হত্যার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

মিরসরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলিউল হাসান জানান, নুরের নেহার তার ভাগিনা আল আমিনকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে আল আমিনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নুরের নেহারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আল আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।

মতামত